,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামের ৩ ইউনিয়নে আ,লীগে ক্ষোভের বিদ্রোহী প্রার্থী অনেকেই

up2016রিদোয়ান কাদের খান,বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ চট্টগ্রামের ৩ ইউনিয়নে আ,লীগে ক্ষোভের বিদ্রোহী প্রার্থী হচ্ছেন অনেকেই। ত্যায়াগী নেতাদের অবহেলা ও অবমূল্যায়নের কারনে  জামায়াত অধ্যুষিত সাতকানিয়া উপজেলার চরতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিগত ৩০বছর ধরে হাল ধরে আছেন মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাকিম চৌধুরী। দীর্ঘসময় ধরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ  বিভিন্হিন পদে থেকে আওয়ামী পরিবারকে ও চরতি আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করেছেন। জামায়াত-শিবিরের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে চরম দুঃসময়েও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আগলে রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী এ নেতার নাম কেন্দ্রে জমা পড়েনি। এতে হতাশ হয়েছেন প্রবীন এই আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা । চরতি ইউনিয়নে মমতাজ উদ্দিন আহমদ নামে অন্যজনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। মোস্তাকিম চৌধুরী বলেন, আমি জোট সরকারের আমলে জামায়াত আমিরের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাত্র ১৬২ ভোটে পরাজিত হয়েছিলাম। সেদিন জোর করে আমাকে পরাজিত করায় আমার ছোট ভাই স্ট্রোক করে প্রাণ হারায়।

আমাকে জামায়াত-শিবির শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছে। জীবনবাজি রেখে দলের পাশে ছিলাম। এরপরেও আমার দুর্ভাগ্য আমার নাম জেলা আওয়ামী লীগ পাঠায়নি। এখনো আমি নেত্রীর উপর আশাবাদি। অপেক্ষায় রইলাম। সাতকানিয়া ছাড়াও বোয়ালখালী, পটিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, আনোয়ারা, চন্দনাইশ ও কর্ণফুলী থানায় কমপক্ষে ৩০ ইউনিয়নে অর্ধশতাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পঞ্চম ধাপে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইউনিয়নগুলোর প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হলেও এখনো ষষ্ঠ ধাপের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়নি। এ তালিকা পাওয়া পরেই কারা বিদ্রোহী প্রার্থী হচ্ছেন এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন কোন ইউনিয়নে বিদ্রোহের শঙ্কা নেই। দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, আমাদের কাছ থেকে যারাই মনোনয়ন চেয়েছে তাদের কেউ বিদ্রোহী হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কেউ পদ থেকে বিদ্রোহ প্রার্থী হলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এখনো পর্যন্ত কোন ইউনিয়নে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হবে না বলে আশা করছি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লোহাগাড়ার পদুয়া ইউনিয়নে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক নুরুল আবছার, সাবেক ছাত্রনেতা আক্তারুজ্জামান পারভেজ ও এড. হুমায়ুন কবির বাদশার নাম কেন্দ্রের কাছে প্রস্তাব করেছে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতারা। এক্ষেত্রে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে এ তিনজনের যে কেউ এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জহির উদ্দিন বিদ্রোহী প্রার্থী হতে পারেন। এছাড়াও পুটিবিলা ইউনিয়নে হাজী মো. ইউনুছের নাম প্রস্তাব করা হলেও সেখানে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম বিদ্রোহী প্রার্থী হতে পারেন। সাতকানিয়ার চরতি ইউনিয়নে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মমতাজ উদ্দিন আহমদের নাম পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও স্থানীয় সংসদ সদস্যের শ্যালক ও জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মুবিনুল হক চৌধুরী ছেলে রুহুল্লা চৌধুরীর মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এক্ষেত্রে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ইউনিয়নে নির্বাচন করতে পারেন চরতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাকিম চৌধুরী। কাঞ্চনা ও কেওচিয়া ইউনিয়নেও ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতারা মনোনয়ন না পেলে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পটিয়ার পাঁচটি ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরমধ্যে ধলঘাট ইউনিয়নের রনধীর দে মনোনয়ন পেলেও সেখানে প্রার্থী হতে চান বর্তমান চেয়ারম্যান সালামত উল্লাহ মল্ল। দক্ষিণ ভূর্ষি ইউনিয়নে মো. সেলিম মনোনয়ন পেয়েছে। মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান মো. ছৈয়দ প্রার্থী হতে তৎপর রয়েছেন। বরলিয়ায় বর্তমান চেয়ারম্যান শাহিনুল ইসলাম শানু মনোনয়ন পেলেও উপজেলা আওয়ামী লীগের অনুকম্পা নিয়ে প্রার্থী হতে চান নুরুল আবছার। কুসুমপুরা ইউনিয়নে ইব্রাহিম বাচ্চু মনোনয়ন পেলেও বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে জাকারিয়া ডালিম,এজাজ চৌধুরী নামে দুই নেতা। ভাটিখাইনে মো. বখতেয়ারকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থী হতে চান জিল্লুর রহমান ও আবু ছালেহ শাহরিয়ার। দক্ষিণ ভূর্ষি ইউনিয়নের মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মো. সৈয়দ বলেন, আমি বিদ্রোহী নই। আমি বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচন করব। আমি এর আগে দুইবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। বাণিজ্যের কারণে আমাকে মনোনয়ন বঞ্চিত করা হয়েছে। যে কারণে আমি এবারো নির্বাচন করবো। কর্ণফুলী থানার পাঁচ ইউনিয়নে প্রার্থী বাছাই করে জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের পক্ষ থেকে পৃথক তালিকা কেন্দ্রে জমা দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে প্রত্যেকটিতেই জেলা আওয়ামী লীগ সমর্থিত নেতারা মনোনয়ন পেয়েছেন। এ পাঁচ ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হতে পারেন বঞ্চিতরা। এর মধ্যে শিকলবাহা ইউনিয়নে জাহাঙ্গীর মেম্বার সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে। আনোয়ারা উপজেলায় ১১ ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচটিতে বিদ্রোহী প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। এ উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নে প্রার্থী বাছাই নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বিরোধ চলছে। এক্ষেত্রে দু’পক্ষই কেন্দ্রে পৃথক প্রার্থী তালিকা জমা দিয়েছে। আনোয়ারা সদর ইউনিয়নে অসীম কুমার দেব, মো. সৈয়দ, বরুমছড়া ইউনিয়নে শাহাদাত মেম্বার, আবুল বশর, পরৈকৌড়া ইউনিয়নে মামুনুর রশিদ আশরাফ, নাজিম উদ্দিন সুজন, হাবিব উল্লাহ, বৈরাগ ইউনিয়নে মো. সোলায়মান, নবাব আলী, বারসাত ইউনিয়নে কাইয়ুম শাহ, মো. নাছির উদ্দিন খানের নাম উভয় পক্ষ প্রস্তাব করেছে। এ পাঁচটি ইউনিয়নে মনোনয়ন বঞ্চিত যে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বোয়ালখালীর পোপাদিয়া ইউনিয়নে এসএম জসীম উদ্দিনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। সেখানে এসএম তারেক ও মামুনুর রশিদের বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাঁশখালীর ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে আটটিতেই বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ আট ইউনিয়নের সম্ভাব্য বিদ্রোহী প্রার্থীরা হলেন- পুইছড়ি ইউনিয়নে সুলতানুল গণি চৌধুরী, কফিল উদ্দিন চৌধুরী, জাকের হোসেন বাচ্চু, ছনুয়া ইউনিয়নে জিল্লুর করিম শরিফী, হারুনুর রশিদ, বৈলছড়ি ইউনিয়নে কফিল উদ্দিন চৌধুরী, মো. মাকছুদ, এস. এম মাহবুবুল ইসলাম টুকু মিয়া, রাশেদ আলী, সাধনপুরে মহিউদ্দিন ও আহসানউল্লাহ,খানখানাবাদে জাহেদ আকবর ও বদরুদ্দীন, বাহারছড়ায় তাজুল ইসলাম ও নুরুল ইসলাম,পুকুরিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রাজ্জাক নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।এ উপজেলায় এখনো দলীয় ভাবে কারো নাম ঘোষণা না হওয়ায় ঘোষণার পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত কার ভাগ্য কোথায় বলা মুশকিল।জেলা আওয়ামীলীগে কোন অঘটন না ঘটলে প্রার্থীরা বলছেন তারা মনোনয়নের ব্যাপারে আশাবাদী।

 

মতামত...