,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে সীমাহীন দুর্ভোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::চট্টগ্রামে পুলিশি হয়রানি এবং অনুমোদন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধসহ ১১ দফা দাবিতে ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে নগরবাসী।

রবিবার সকাল থেকে ‘চট্টগ্রাম মেট্রো গণপরিবহন মালিক সংগ্রাম পরিষদ’ নামে নগর পরিবহন মালিকদের ছয়টি সংগঠনের জোট এই ধর্মঘটের ডাক দেয়।

ধর্মঘট সফল করার নামে গাড়ি চলাচলে বাধা দেয়ায় পুলিশের হাতে আটক হন ৩০ পিকেটার। পিকেটারদের হামলা শিকার হয়েছেন অন্তঃত ১০ চালক।

রবিবার বিকেলে পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় আটক কর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি এবং ১১ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মালিক সংগ্রাম পরিষদের নেতারা। তারা বলেন, পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাসে চলমান কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হবে না। সিটি মেয়রের কার্যালয়ে তাঁর উপস্থিতিতে সমঝোতার প্রস্তাব পেলেই কেবল ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হবে। সকালে এই কর্মসূচি শুরু হলে অফিসমুখো লোকজনের পাশাপাশি স্কুল–কলেজের শিক্ষার্থীরা সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হন। বিচ্ছিন্নভাবে চলাচল করা কিছু বাস, টেম্পোর পাশাপাশি সিএনজি অটোরিকশা ও সাধারণ রিকশায় করে কর্মস্থলে যেতে হয় কর্মজীবীদের। এর আগে গত ২৮ নভেম্বরও পরিবহন মালিকদের এই অংশটি হঠাৎ করেই যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখলে দুর্ভোগে পড়তে হয় যাত্রীদের।

চট্টগ্রাম নগর পরিবহনের সঙ্গে সম্পৃক্ত আটটি সংগঠনের মধ্যে ছয়টি সংগঠন জোটবদ্ধ হয়ে ধর্মঘট কর্মসূচি দিলেও অপর দুটি সংগঠনের কিছু যানবাহন ধর্মঘটে সাড়া না দিয়ে নগরীতে চলাচল করেছে। এতে করে সংকট কিছুটা লাঘব হলেও দিনভর যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হয়। বিশেষ করে অফিস যাওয়া ও ফেরত আসার সময় যানবাহন সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। মাঝে মধ্যে দু’একটি বাস এসে স্ট্যান্ডে দাঁড়ানো মাত্রই বাসে উঠতে যাত্রীদের মধ্যে রীতিমতো হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। ধাক্কাধাক্কির মধ্যে মহিলা যাত্রীরা বাসে উঠার সুযোগই পাননি। গাড়ি না পেয়ে সন্ধ্যার পর বহু যাত্রীকে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা গেছে। এদিকে, যানবাহন সংকটের মধ্যে মওকা পেয়ে যায় ট্যাক্সি ও রিকশা চালকরা। দ্বিগুণ– তিনগুণ ভাড়া আদায়ে নেমে পড়ে তারা।
খবর নিয়ে জানা যায়, সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন স্থানের রাস্তায় পিকেটিংয়ে নেমে পড়েন ধর্মঘটী শ্রমিকেরা। গাড়ি থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে চালককে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে। পিকেটারদের হামলায় কমপক্ষে ১০ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন লুসাই পরিবহন ও চট্টলা পরিবহণের চালকরা।

চট্টগ্রাম মেট্রো গণপরিবহন মালিক সংগ্রাম পরিষদের সদস্য সচিব অধ্যাপক এস এম তৈয়ব দাবি করেছেন, পিকেটিংয়ের অভিযোগে নগরীর আট থানা এলাকা থেকে পুলিশ কমপক্ষে ২০ জনকে আটক করেছে। তাদেরকে নিঃশর্তে মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

মতামত...