,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে অনির্দিষ্টকালের গণপরিবহন ধর্মঘট মেয়রের মধ্যস্থতায় স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: চট্টগ্রামে অনির্দিষ্টকালের গণপরিবহন ধর্মঘট মেয়রের মধ্যস্থতায় স্থগিত করা হয়েছে। পুলিশি হয়রানি বন্ধ, অনুমোদন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন বন্ধের দাবিসহ ১১ দফা দাবিতে তিনদিন ধরে চলা অনির্দিষ্টকালের গণপরিবহন ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রো গণপরিবহন মালিক সংগ্রাম পরিষদ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নগর ভবনের কেবি আবদুচ ছত্তার মিলনায়তনে মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের সঙ্গে চট্টগ্রাম মেট্রো গণপরিবহন মালিক সংগ্রাম পরিষদ ও বিআরটিএ এর কর্মকর্তাদের যৌথ সভাশেষে পরিষদের নেতারা এ ঘোষণা দেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে আধঘণ্টাব্যাপী ত্রিপক্ষীয় বৈঠকশেষে সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন বেলাল বলেন, নগর পরিবহণের প্রধান সমন্বয়কারী ও নগরীর অভিভাবক সিটি মেয়র আমাদের দাবিগুলোর সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেছেন এবং প্রশাসনের সঙ্গে আলাপ করে এসব দাবি পূরণের দায়িত্ব তিনি নিজের কাঁধে নিয়েছেন। এছাড়া পিকেটিংয়ের অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিষয়টি সুরাহা করতে মেয়র উদ্যোগ নেবেন বলে আশ্বাস দেয়ার আমরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট কর্মসূচি স্থগিত করেছি।

বৈঠক সূত্র জানায়, পরিষদের নেতাদের সঙ্গে আলোচনাকালে মেয়র পরিবহন নেতাদের দাবিগুলো বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এবং এসব দাবি বাস্তবায়নে নিজেই তৎপরতা চালাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। এ সময় মেয়র নগরবাসীর দুর্ভোগ, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে ধর্মঘট স্থগিতের অনুরোধ জানান। মেয়রের অনুরোধের প্রেক্ষিতে সংগ্রাম পরিষদ নেতৃবৃন্দ তাদের কর্মসূচি স্থগিত করেন।
এদিকে, সিটি কর্পোরেশন থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন মালিক সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফা দাবি এবং ধর্মঘটের কারণে যে সকল মামলা হয়েছে সে বিষয়ে মালিক শ্রমিক ও সরকারের যথাযথ প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি সভা আহবান করে সেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার আশ্বাসের প্রেক্ষিতে এ ধর্মঘট স্থগিত হয়েছে।

সভায় মেয়র শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা এবং গণদুর্ভোগ বিবেচনায় এনে চট্টগ্রাম মেট্রো গণপরিবহন মালিক সংগ্রাম পরিষদের অনির্দ্দিষ্টকালের গণপরিবহন ধর্মঘট স্থগিত করার আহবান জানালে পরিষদের আহবায়ক বেলায়েত হোসেন বেলাল ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেন।

সভায় বিআরটিএর ডিডি শহীদুল্লাহ, সংগ্রাম পরিষদের উপদেষ্টা আমজাদ হোসেন, সদস্য সচিব এস এম তৈয়ব, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ফেডারেশনের সভাপতি মো. মুছা, সাধারণ সম্পাদক মো. অলি আহমদ, চট্টলা পরিবহনের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন শরিফ মিজান, সিটি বাস ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এম এ হাকিম, সিটি সার্ভিস ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অরুন দাশগুপ্ত ভানু, যাত্রী সেবা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন, জেলা হিউম্যান হলার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলম, সিটি সার্ভিসের সভাপতি আবদুল বারেক, সিটি বাস ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী, চট্টলা পরিবহনের সিনিয়র সহ সভাপতি রায়হানুল হকসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, মালিক শ্রমিকদের সহযোগিতায় গণপরিবহনে সুশৃঙ্খল পরিবেশ সুরক্ষা করতে হবে। সকল দাবি আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান করা হবে। জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে জনগণের চাহিদা পূরণে পরিবহণ মালিকদের সচেষ্ট হতে হবে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ড্রাইভার প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করা হবে এবং যাত্রী সাধারণের সুবিধার্থে ৬৬টি স্পটে সিটি কর্পোরেশন আধুনিক সুবিধা সম্বলিত যাত্রী ছাউনী নির্মাণ করবে, অবৈধ গাড়ী চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোন সংগঠন বৈধতা পাবে না।

বৈঠক চলাকালীন বিপুলসংখ্যক পরিবহন মালিক–শ্রমিক নগর ভবনের নিচে অবস্থান নেন।
প্রসঙ্গতঃ রবিবার সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের গণপরিবহন ধর্মঘট শুরু করে চট্টগ্রাম মেট্রো গণপরিবহন মালিক সংগ্রাম পরিষদ।

মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা পরিবহন সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, ই– ট্রাফিক সিস্টেম (পিওএস) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আয়োজনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে মেট্রো গণপরিবহন মালিক সংগ্রাম পরিষদ। তারা বিভিন্ন সড়কে গাড়ি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে সাধারণ জনগণকে হয়রানি করার যে অপকৌশল নিয়েছে তা অযৌক্তিক। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ধর্মঘটের নামে যারা বিভিন্ন সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে জনমনে ভয়–ভীতি, সন্ত্রাস সৃষ্টি ও সাধারণ মালিকদের ২০/৩০টি গাড়ি ভাঙচুর ও শ্রমিক নির্যাতন করেছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা এবং ক্ষতিপূরণ আদায় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব আবুল কালাম আজাদ। গ্রুপের সভাপতি মনজুরুল আলম মঞ্জু, কার্যকরী সভাপতি জহুর আহম্মদ, মাহবুবুল হক মিয়া প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

মতামত...