,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে অস্ত্র দিয়ে আলীগ নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ

ooচট্টগ্রাম অফিস:নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম,০৫ , ফেব্রুয়ারি (বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম):: চট্টগ্রামে সরকার দলীয় এক নেতাকে এবার অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে । জেলার ফটিকছড়ির স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন সাজু আসন্ন ইউপি নির্বাচনে যাতে প্রতিদ্বন্ধিতা করতে না পারেন তার জন্য বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রুস্তম আলী’র ষড়যন্ত্রে পুলিশ নিজেই অস্ত্র দিয়ে উল্টো সাজুর বাড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধারে নাটক সাজিছে বলে অভিযোগ করেন তার পরিবার।

শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলেছেন শাহাদাত হোসেন সাজু পরিবার।

এসময় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সাজু’র স্ত্রী রোজিনা আক্তার বলেন, আমার স্বামী কোনো অস্ত্রধারী নয়। আমার স্বামীকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হচ্ছে। একটি আওয়ামী পরিবারকে ধংস করতেই পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র উদ্ধারের নাটক সাজিয়েছে। এলাকায় আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়েই প্রতিপক্ষের সাথে হাত মিলিয়ে এস আই আবদুল বাতেন এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার শশুর দীর্ঘ ত্রিশ বছর বাগান বাজার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তাদের পুরো পরিবার আওয়ামী লীগের উন্নয়নের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। কোন ধরনের সন্ত্রাসী বা অস্ত্রবাজির রাজনীতিকে তারা সমর্থন করে না। গত ইউপি নির্বাচনে আমার স্বামী বিজয়ী প্রার্থীর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নিয়ে তাঁর মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখেই প্রতিপক্ষ বর্তমান চেয়ারম্যান রুস্তম আলী পাগলের মত আচরণ করছেন।

আমার স্বামীকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই মূলত ভূজপুর বাগান বাজার এলাকায় আমাদের বাড়ি থেকে দাঁতমারা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই বাতেনকে মোটা অঙ্কের উৎকোচ দিয়ে চেয়ারম্যান রুস্তম আলী অস্ত্র উদ্বারের নাটক সাজিয়ে আমার নীরিহ স্বামীকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে সাজুর স্ত্রী অভিযোগ করেন , আটক খুরশিদ ড্রাইভারকে দিয়ে পুলিশ যে কথিত স্বীকারোক্তি আদায় করেছেন মর্মে দাবি করছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। খুরশিদের সাথে আমার স্বামীর রাজনৈতিক বা পারিবারিক কোন সম্পর্ক নাই। খুরশিদ আমাদের পরিচিত কেউ নন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. সাজুর স্ত্রী বলেন, অস্ত্রটির প্রকৃত মালিক কে তা বেরিয়ে আসবে ফিঙ্গার প্রিন্ট পরীক্ষা করালে। তিনি বলেন, রুস্তম চেয়ারম্যান তার ইতালি প্রবাসী ছেলেকে মনোনয়ন পাইয়ে দিতেই এসব কাজ করাচ্ছেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন মামলা হওয়ার পর পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই আবদুল বাতেন রাতে বিরাতে যে কোনো সময় তাদের বাড়িতে গিয়ে মহিলাদেরকে নানাভাবে হয়রানি ও হুমকি ধমকি দিচ্ছে।

মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত হলে আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে দাবী করে তিনি এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশের আইজিপি ও ডিআইজির হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডা. শাহাদাত হোসেন সাজুর ভাই আমজাদ হোসেন সরকার, আলমগীর সরকার, বোন রাশেদা আক্তার, রিনা আক্তার, মা রাবেয়া সরকার, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মো. মাহবুব, মো. করিম, এম এ হাসেম, মুজিবুল হক, তানভীর, এয়াকুব আলী, সাব্বির প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত ২৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন সাজুর বাড়ি থেকে একটি বিদেশী পিস্তল উদ্ধার করেন বলে দাবি করেন ভুজপুর থানা পুলিশ।

মতামত...