,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে আয়কর মেলায় রেকর্ড ৫৩০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::চট্টগ্রামে আয়ক্রমেলায়  করদাতাদের বিপুল উৎসাহের মধ্য দিয়ে শেষ হলো সপ্তাহব্যাপী ‘আয়কর মেলা–২০১৭’। এ বছর মেলায় ২ লাখ ৮৪ হাজার ৮৭৮ জন করদাতা সেবা গ্রহণ ও ৩২ হাজার ৫৮৪ করদাতা রিটার্ন দাখিল করেছেন। বিপরীতে এবার রেকর্ড ৫২৯ কোটি ৭০ লাখ ৯৮১ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। ফলে এবার মেলার প্রবৃদ্ধির বেড়েছে ২ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এছাড়া ২০১৬–১৭ কর বর্ষের তুলনায় রিটার্ন দাখিলের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ৭৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ। কর কর্মকর্তারা জানান, যে উদ্দেশ্য নিয়ে আয়কর মেলার আয়োজন করা হয়েছে সেটি অত্যন্ত সফল বলা যায়। কারণ এ বছর মেলায় করদাতাদের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিলো। সাধারণ মানুষের মধ্যে কর নিয়ে যে ভীতি ছিলো সেটি অনেকাংশে দূর হয়েছে। এদিকে আজ সকাল ১১টায় জিইসি কনভেনশন সেন্টারে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে চট্টগ্রাম থেকে সর্বোচ্চ করদাতার জন্য নির্বাচিত ১৭ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘ট্যাক্স কার্ড’ সম্মাননা দেয়া হবে। এছাড়া সেরা করদাতা পরিবারকে দেয়া হবে ‘কর বাহাদুর সম্মাননা’। চট্টগ্রাম থেকে এ সম্মাননা পাচ্ছে ৮ পরিবার। এছাড়া কক্সবাজার থেকে একটি ও বান্দরবান থেকে অপর একটি পরিবার এই ‘কর বাহাদুর’ পুরষ্কার পাচ্ছে। অন্যদিকে বৃহত্তর চট্টগ্রামে চার ক্যাটাগরিতে ৪১ জন সর্বোচ্চ করদাতাকে সম্মাননা হিসেবে ক্রেস্ট প্রদান করা হবে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে সপ্তাহব্যাপী মেলার সমাপনী দিনে ৮ হাজার ১২টি রিটার্ন দাখিলের বিপরীতে রাজস্ব আয় হয়েছে ৪৮ কোটি ৫৯ লাখ ৭৯ হাজার ৯৭৮ টাকা। এছাড়া সেবা গ্রহণ করেছেন ৩৫ হাজার ৩৭২ জন, নতুন করে ই–টিআইএন নিবন্ধন করেছেন ৪৭৬ করদাতা, পুন:নিবন্ধন করেছেন ২ জন। কর অঞ্চল–১ থেকে সেবা নিয়েছেন ৯ হাজার ৬৭৬ জন এবং ৩ হাজার রিটার্ন দাখিলের বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩৬ কোটি ৯০ লাখ ৪৬ হাজার ৫৩ টাকা। ই–টিআইএন নিবন্ধন হয়েছে ২২০টি, পুন:নিবন্ধন হয়েছে ২টি। এছাড়া কর অঞ্চল–২ থেকে সেবা নিয়েছেন ৮ হাজার ৯৯১ জন, ১ হাজার ৫৯ টি রিটার্ন দাখিলের বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয় ৫ কোটি ৫৪ লাখ ৭৩ হাজার ৪৫ টাকা। ই–টিআইএন নিবন্ধন হয়েছে ১০১টি। কর অঞ্চল–৩ এ সেবা নিয়েছেন ৭ হাজার ৯২৬ জন, ৩ হাজার ৯৬৪টি রিটার্ন দাখিলের বিপরীতে আদায় হয়েছে ৫ কোটি ২৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৩২ টাকা, নতুন করে ই–টিআইএন নিবন্ধন করেছেন ১২৪টি। কর অঞ্চল–৪ থেকে সেবা গ্রহণ করেছেন ৮ হাজার ৩২৩ জন, ৮৭৪ টি রিটার্ন দাখিলের বিপরীতে আদায় হয়েছে ৭৫ লাখ ১৪ হাজার ৬১৩ টাকা। ই–টিআইএন নিবন্ধন করেছেন ৩১ জন। বৃহৎ করদাতা ইউনিট থেকে সেবা নিয়েছেন ১৯ জন করদাতা। এছাড়া জরীপ রেঞ্জ–৩ থেকে সেবা নিয়েছেন ৪৩৭জন, ১৫টি রিটার্ন দাখিলের বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৫ টাকা।

জানা গেছে, ২০১৩ সালের আয়কর মেলায় ১১ হাজার ৬৮৪ টি রিটার্ন দাখিলের বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয় ২৭৬ কোটি ১ লাখ টাকা। ২০১৪ সালে ১২ হাজার ৫৮৫ রিটার্ন দাখিলের বিপরীতে আদায় হয়েছিলো ৩৫৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। ২০১৫ সালে ১৭ হাজার ৪২০টি রিটার্ন দাখিলের বিপরীতে আয় হয় ৪৮২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এছাড়া গত বছর ১৮ হাজার ৩৪৯টি রিটার্ন দাখিলের বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছিলো ৫১৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। তবে এ বছরের মেলায় রেকর্ড ৩২ হাজার ৫৮৪ টি রিটার্ন দাখিলের বিপরীতে ৫২৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা আদায় হয়।

 চট্টগ্রাম আয়কর মেলা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও কর অঞ্চল–১ এর কমিশনার মাহবুব হোসেন বলেন, মেলায় এবার করদাতারা বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে আয়কর দিয়েছেন। গত বছরের মেলায় ১৮ হাজার ৩৪৯টি রিটার্ন দাখিলের বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছিলো ৫১৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। তবে এ বছর রিটার্ন দাখিলের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ৭৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ৩২ হাজার ৫৮৪ রিটার্ন দাখিলের বিপরীতে এবার রেকর্ড ৫২৯ কোটি ৭০ লাখ ৯৮১ আদায় হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেশি। তবে আমাদের মেলার যে উদ্দেশ্য ছিলো আায়কর নিয়ে সাধারণের মন থেকে ভীতি দূর করা। মেলায় করদাতাদের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণই প্রমাণ করে আমাদের উদ্দেশ্য সফল ত্তগ্রা

সারাদেশে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা করদাতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে ১৪১টি ট্যাক্স কার্ড দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ব্যক্তি রয়েছেন ৭৬ জন, বাকিগুলো প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য। আজ সকাল ১১ টায় নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত ১৭ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘ট্যাক্স কার্ড’ দেয়া হবে। অনুষ্ঠানে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

চট্টগ্রামে সিনিয়র সিটিজেন হিসেবে এই ট্যাক্স কার্ড পাচ্ছেন কর অঞ্চল–১ এর করদাতা আলী হোসাইন আকবর আলী, সাংবাদিক ক্যাটাগরিতে দৈনিক আজাদী সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল মালেক, নতুন করদাতা ক্যাটাগরিতে সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, ব্যবসায়ী ক্যাটাগরিতে মোহাম্মদ কামাল, প্রকৌশলী ক্যাটাগরিতে শ্যামল কান্তি ঘোষ, ইঞ্জিনিয়ার এস এম আবু সুফিয়ান, তরুণ (৪০ বছরের নীচে) ক্যাটাগরিতে সৈয়দ মোহাম্মদ তাহমির, অন্যান্য ক্যাটাগরিতে আবু মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন খাঁন। প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রকৌশল ক্যাটাগরিতে (বৃহৎ করদাতা ইউনিট) বিএসআরএম স্টিলস লিমিটেড ও পিএইচপি নফ কন্টিনিউয়াস গ্যালভেনাইজিং, ঔষধ ও রসায়ন ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড, রিয়েল এস্টেট ক্যাটাগরিতে স্যানমার প্রপার্টিজ লিমিটেড, তৈরি পোশাক ক্যাটাগরিতে কেডিএস গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড, অন্যান্য ক্যাটাগরিতে গ্রামসিকো লিমিটেড, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (কোডেক) ও ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন।

 ২০১৬–১৭ করবর্ষে এবারের করবর্ষে প্রথম বারের মতো দেওয়া হচ্ছে পরিবারভিত্তিক সম্মাননা। চট্টগ্রাম থেকে ‘কর বাহাদুর পরিবার’ নামে এ সম্মাননা পাচ্ছেন আলী হোসাইন আকবর আলী ও তাঁর পরিবার, আবুল হাশেম ও তাঁর পরিবার, একেএম শামসুদ্দিন খান ও তাঁর পরিবার, ফরিদ আহমেদ ও তাঁর পরিবার, জোহাইর তাহের আলী ও তাঁর পরিবার, নুরুল ইসলাম বিএসসি ও তাঁর পরিবার, এম জালাল উদ্দিন চৌধুরী ও তাঁর পরিবার এবং নুর নাহার জামান ও তাঁর পরিবার। চট্টগ্রামের বাইরে কক্সবাজার থেকে এই সম্মাননা পাচ্ছেন মোহাম্মদ মোস্তফা ও তার পরিবার এবং বান্দরবান থেকে মাহবুবুর রহমান ও তার পরিবার। তবে রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি থেকে মনোনয়নযোগ্য কোনো পরিবারকে পাওয়া যায়নি বলে জানায় আয়কর বিভাগ।

এনবিআর জানায়, নীতিমালা অনুযায়ী ট্যাক্স কার্ডধারীদের সরকার বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান এবং সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকার আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ জানাবে। যে কোনো ভ্রমণে সড়ক, বিমান বা জলপথে টিকিট পাওয়ার ক্ষেত্রে তারা অগ্রাধিকার পাবেন। চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাবেন কেবিন সুবিধা। এছাড়া বিমানবন্দরে সিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার এবং তারকা হোটেলসহ সব আবাসিক হোটেলে বুকিং পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন তারা। ট্যাক্স কার্ড দেয়ার পর এর মেয়াদ থাকবে এক বছর।

বৃহত্তর চট্টগ্রামের চার ক্যাটাগরিতে সেরা করদাতার সম্মাননা পাচ্ছেন ৪১ জন। সর্বোচ্চ, দীর্ঘ মেয়াদে করদাতা, নারী ও তরুণ উদ্যোক্তা ক্যাটাগরিতে চট্টগ্রামের চারটি কর অঞ্চলের অধীন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম জেলা, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও কক্সবাজার জেলার ৪১ ব্যক্তিকে এই পুরস্কার দেয়া হচ্ছে। সিটি করপোরেশন এলাকায় দীর্ঘ মেয়াদে কর প্রদানের জন্য সম্মাননা পাচ্ছেন আন্দরকিল্লা এলাকার ফাতেমা বিবি ও চান্দাগাঁও এলাকার ব্রিগেডিয়ার (অব) ডা. এইচ কে এম জি মোর্তুজা। সর্বোচ্চ নারী করদাতা কোর্ট রোডের ফারহানা মোনেম। তরুণ করদাতা সম্মাননা পাচ্ছেন খাতুনগঞ্জ হক মার্কেটের শিহাব উদ্দিন। এছাড়া সর্বোচ্চ তিন করদাতা হলেন–আসাদগঞ্জের অসিত কুমার সাহা, কদমতলী ডিটি রোডের মো. আমজাদ খান ও পাথরঘাটা মিরেন্ডা লেনের মো. নাছির উদ্দিন।

চট্টগ্রাম জেলার দীর্ঘ মেয়াদে কর দেওয়ার জন্য মোহাম্মদ সোলায়মান ও মো. আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে আবুল হাশেম, মো. শামসুল হুদা, তাসমিয়া আম্বেরিন, সর্বোচ্চ নারী করদাতা আনিকা তাহজীব ও তরুণ সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে সম্মাননা পাচ্ছেন মঈন উদ্দিন শাহরিয়ার। এছাড়া কক্সবাজার জেলার দীর্ঘ মেয়াদে কর প্রদানকারী পুরস্কার পাচ্ছে আবুল কাশেম ও সালেহ আহমদ। সর্বোচ্চ করপ্রদানকারীর পুরস্কার পাচ্ছেন আতিকুল ইসলাম, সাইফুল করিম ও ওছিউর রহমান। নারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ করদাতার পাচ্ছেন ফারহানা ইয়াছমিন। সর্বোচ্চ তরুণ করদাতার পুরস্কার পাচ্ছেন আসাদ উলহ্মাহ। অন্যদিকে বান্দরবানের সর্বোচ্চ করদাতা হলেন নুরুল আবছার, আব্দুস শুকুর ও মাহাবুবুর রহমান। এছাড়া দীর্ঘ মেয়াদে করদাতা নুরুল আলম ও বাদল কান্তি বড়ুয়া।

সর্বোচ্চ নারী করদাতা হিসেবে সম্মাননা পাচ্ছেন মে হ্লা প্রু এবং সর্বোচ্চ তরুণ করদাতা হলেন ওমর কবির। রাঙামাটির দীর্ঘ মেয়াদে করদাতা হলেন লিয়াকত আলী, সর্বোচ্চ করদাতার পুরস্কার লোকমান হোসেন তালুকদার, খলিলুর রহমান ও মো. আবু সৈয়দ। এছাড়া সর্বোচ্চ নারী করদাতার পুরস্কার পাচ্ছেন চিত্রা চাকমা এবং সর্বোচ্চ তরুণ করদাতার পাচ্ছেন আসাদুজ্জামান মহসিন।

খাগড়াছড়ি জেলার সর্বোচ্চ করদাতা হলেন জসিম উদ্দিন ও শাহ আলম। এছাড়া দীর্ঘ মেয়াদে কর প্রদানে পুরস্কার পাচ্ছেন আবুল কালাম, শহীদুল ইসলাম ভুইয়া ও নজরুল ইসলাম। অপরদিকে সর্বোচ্চ নারী করদাতা ফরিদা আক্তার এবং সর্বোচ্চ তরুণ করদাতা হিসেবে সম্মাননা পাচ্ছেন রাজীব বণিক।

মতামত...