,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে করদাতাদের মুখোমুখি মেয়র

azm nasir ( hasi)নাছির মীর, বিডিনিউজ রিভিউজঃ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে হোল্ডিং ট্যাক্স পুনর্মূল্যায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে করদাতাদের মুখোমুখি হচ্ছেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।চট্টগ্রামের হোল্ডিং ট্যাক্স দাতারা সরাসরি মেয়রের সাথে কথা বলে নিজের অভিযোগ জানাচ্ছেন এবং মেয়রও সাথে সাথেই ব্যবস্থা নিচ্ছেন, এমন অভূতপূর্ব ও স্বচ্ছতা এবং জবাব দিহিতা দেখে নগরবাসী সন্তুষ্ট।

রবিবার ১৬ আক্টোবর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কর মওকুফ করেন মেয়র। মানবিক কারণে নূরজাহান বেগম ও ফয়েজ আহমেদ নামে একজন মুক্তিযোদ্ধার কর সম্পূর্ণ মওকুফ করে দেন মেয়র। হাতেম আলী নামে একজন করদাতার আবেদনের ভিত্তিতে পূর্বে নির্ধারিত ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকার কর মওকুফ করে নির্ধারণ করা হয় ১ লক্ষ ২৬ হাজার টাকায়।

‘হোল্ডিং মালিকদের কাছ থেকে আদায়কৃত করের পুরোটাই কোষাগারে জমা না দেয়া এবং মওকুফের নামে করের টাকা আত্মসাৎ’- চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব বিভাগের হোল্ডিং ট্যাক্স শাখার কিছু কিছু কর্মকতা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ বহু পুরোনো। এধরনের অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে বিভাগটির অন্তত একডজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিয়েছে সংস্থাটি। তবুও রাজস্ব আদায়ে গতি আসেনি। এমনকি অভিযোগও বন্ধ হয় নি। এমন পরিস্থিতিতে গৃহকর আদায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবার সরাসরি করদাতাদের মুখোমুখি হচ্ছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন। এতে নির্ধারিত গৃহকরের পুনর্মূল্যায়নে নিজেদের আপত্তির কথা সরাসরি মেয়রকে জানানোর সুযোগ পাচ্ছেন করদাতারা। ‘চসিকের আওতাধীন বিভিন্ন ওয়ার্ড ও মহল্লার হোল্ডিংসমূহের নির্ধারিত কর পুনর্মূল্যায়নে গঠিত ‘অ্যাসেসমেন্ট রিভিউ বোর্ড’-এর শুনানিতে এ সুযোগ মিলছে। ‘অ্যাসেসমেন্ট রিভিউ বোর্ড’-এর প্রথম শুনানি গতকাল নগর ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমদিন ৫৪ জন করদাতা নিজেদের আপত্তির কথা জানিয়েছেন মেয়রকে। শুনানি শেষে তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তিও করেছেন এসব সমস্যা। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ২৪ দিন এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। প্রসঙ্গত, অতীতে চসিকের একজন কাউন্সিলরের নেতৃত্বে এসেসমেন্ট রিভিউ বোর্ডগুলো গঠিত হত। তবে এবারের বোর্ডে চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বিডিনিউজ রিভিউজকে বলেন, ‘সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই আমি নিজে আপিল শুনানিতে উপস্থিত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর মধ্য দিয়ে করদাতাদের আরো কাছাকাছি যেতে পারছি। আমি করদাতাদের সরাসরি বোঝাতে পারছি। তারা যেন নির্ধারিত কর পরিশোধ করেন সেই বিষয়ে তাদের উদ্বুদ্ধ করছি। তাছাড়া কর নির্ধারণ প্রক্রিয়া সম্পর্কেও অনেকের ধারণা ছিল না। সরাসরি করদাতাদের সাথে আলাপ করায় বিষয়গুলো তাদের কাছে ক্লিয়ার করতে পারছি।’

তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালে যেসব অ্যাসেসমেন্ট হয়েছিল সেগুলোর আপিল শুনানি শুরু করেছি। সাম্প্রতিক সময়ে যেসব অ্যাসেসমেন্ট করছি সেগুলোর আপিল আগামী বছর থেকে শুরু হবে।’

জানা যায়, রাজস্ব বিভাগ ২০০৮-০৯ অর্থ বছর থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের করদাতাদের পুনর্মূল্যায়ন সংক্রান্ত অভিযোগের ব্যাপারে আবেদন আহবান করে। ৪১ ওয়ার্ড থেকে মোট ১৩ হাজার ৭৪২টি আবেদন জমা হয়। পরে রাজস্ব বিভাগ ৪১ ওয়ার্ডকে ৬১টি মহল্লায় ভাগ করে প্রতি জনের কাছে নোটিশ ইস্যু করে। প্রথমদিনে রবিবার ছিল শুলকবহর ওয়ার্ড। এ ওয়ার্ডে মোট ১২০ জনকে নোটিশ ইস্যু করা হয়েছিল। তবে গতকাল শুনানিতে অংশ নেন ৫৪ জন।

চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ মনজুরুল ইসলাম বিডিনিউজ রিভিউজকে  বলেন, কর আদায়ে রিভিউ বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসাবে মেয়র তাৎক্ষণিক সমস্যাগুলো শুনে সমাধান দিচ্ছেন। সপ্তাহের রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলবে এ শুনানি।

প্রকাশ, চলতি অর্থ বছরের ঘোষিত বাজেটে এর মধ্যে তিন ধরনের কর বাবদ ১ হাজার ১ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকার আযের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে চসিক। এর মধ্যে বকেয়া কর ও অভিকর থেকে ২৪২ কোটি ৪৬ লক্ষ ৫২ হাজার টাকা, হাল ও অভিকর ৫৫০ কোটি ৮৯ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকা ও অন্যান্য কর থেকে ২২২ কোটি ২৭ লক্ষ টাকা আয় ধরা হয়েছে।

গত অর্থবছরে (২০১৫-২০১৬) সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ৩৩৭ কোটি ১৮ লাখ ৯৩ হাজার ৫৫২ টাকার গৃহকর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে একই অর্থ বছরে আদায় হয়েছে ১১২ কোটি ২৫ লাখ ৩০ হাজার ৪৩৫ টাকা ৫৭ পয়সা। অভিযোগ ছিল, গৃহকর আদায়কারীদের নানা অনিয়মের কারণে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয় নি।

মতামত...