,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে কর নিয়ে আবারো গৃহ বিবাদে আওয়ামী লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: বানিজ্য রাজধানী চট্টগ্রামে গৃহ কর নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আবারো বিবাদে জড়াচ্ছে বলে আশংকা করছেন নগরবাসী। নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘব ও সংকট নিরসনে দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে বিভিন্ন সরকারি সেবাসংস্থাকে প্রদত্ত চিঠির প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর আহ্বানে সংগঠনের সভাপতিম-লী, সম্পাদকম-লী ও নির্বাহী সদস্যদের এক সভায় নগরবাসীর উপর বর্ধিত অযৌক্তিক গৃহকর ধার্যের ব্যাপারে সিটি মেয়রের অনমনীয় ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সভায় আরো বলা হয়, আওয়ামী লীগ জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার ধারক এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার জনকল্যাণমুখী। চট্টগ্রাম নগরীতে ক্ষেত্র বিশেষে শতভাগের চেয়েও বেশি করারোপ করে সরকারের বিরুদ্ধে একটি দুরাচারী মহলের জনগণকে ক্ষেপিয়ে তোলার আলামত সুস্পষ্ট হয়েছে। তাই আইন ও মন্ত্রণালয়ের দোহাই না দিয়ে সিটি মেয়রকে জনগণের মনের ভাষা পাঠ করে গৃহকর বৃদ্ধির পক্ষে তাঁকে জনস্বার্থে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসার জন্য আবারও আহ্বান জানানো হয়। বিগত ১৪ অক্টোবর তারিখে বিভিন্ন সরকারি সেবা সংস্থাকে দেয়া এখন পর্যন্ত সেবা সংস্থার প্রধানগণ যে জবাব দিয়েছেন তার আলোকে এর বিশ্লেষণমূলক পর্যালোচনা করে এই সভায় বলা হয় যে, চিঠিগুলোতে যে সমস্ত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে তার দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করে স্ব স্ব সেবা সংস্থার প্রধানগণকে জনস্বার্থে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করে উল্লেখ করা হয় যে, সাম্প্রতিক অতিবর্ষণ ও জলাবদ্ধতার ফলে নগরীর যে সমস্ত সড়ক ধ্বংস হয়ে চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে সেগুলো দ্রুত সংস্কার করার জন্য সিটি কর্পোরেশন ও সিডিএ-এর প্রতি জোর দাবি জানানো হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন বিভাগের ব্যর্থতার ফলে নগরীর প্রায় প্রতিটি এলাকায় আবর্জনার ভাগার সৃষ্টি হয়। এতে পরিবেশ দুর্গন্ধময় হয়ে উঠে। সিডিএর মেগাপ্রকল্প সম্পর্কে বলা হয়, সরকারের বরাদ্দ দেয়া এই মেগা প্রকল্পগুলোর ডিজাইন, কার্যকারিতা এবং এই প্রকল্পগুলোর সুফল সম্পর্কে জনগণের কাছে উপস্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে জনগণকে অন্ধকারে না রেখে প্রকল্পের ষোলয়ানা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রকল্পের সাথে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। নগরীর বিদ্যমান পানি সংকট সম্পর্কে বলা হয়, নগরীর এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় ওয়াসার পানি সরবরাহ লাইন নেই। চট্টগ্রাম ওয়াসাকে নগরীর সমস্ত এলাকায় পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং পানি সরবরাহ ছাড়াই ঢালাওভাবে ভূতুড়ে বিল বন্ধের দাবি জানানো হয়। এছাড়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি আগের চেয়েও ভালো বলে দাবি করলেও লক্ষণীয় যে, প্রি-প্রেইড মিটার চালুর পর থেকে জনভোগান্তি বেড়েছে। এর নিরসন হওয়া জরুরি। বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ কেন্দ্রগুলোতে জনগণের অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে ট্রান্সফর্মারগুলোর দ্রুত মেরামত করার দাবি জানানো হয়। সভায় বাস্তবতার নিরীক্ষে অতি বর্ষণ ও জোয়ারের ফলে আগ্রাবাদ, হালিশহর, কালুরঘাট ও বাকলিয়াসহ নগরীর নিম্নাঞ্চলগুলো বছরের অর্ধেক সময় প্লাবিত হয়ে থাকে। সভা থেকে এ সমস্ত এলাকায় হোল্ডিং ট্যাক্স জলাবদ্ধতা নিরসন না হওয়া পর্যন্ত মওকুফ করার দাবি জানানো হয়। সভায় আরো বলা হয়, চট্টগ্রাম নগরীতে বর্তমানে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও প্রকাশ্যে দিনেদুপুরে কয়েকটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকা-সহ বিভিন্ন অপরাধ হয়েছে। সুদীপ্ত বিশ্বাস হত্যায় কয়েক জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলেও ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দীতে এ সমস্ত হত্যাকা-ের পরিকল্পনাকারী হোতাদের নাম তদন্তকারী কর্মকর্তা বের করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। এর ফলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আস্থাশীলতা হ্রাস পেতে পারে। তাই অবিলম্বে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় এবং নগরীর যানজট নিরসনে পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেয়া হয়। সভায় আরো বলা হয়, সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জনবল নিয়োগের পরীক্ষা বা ইন্টারভিউ সুপরিকল্পিতভাবে ঢাকায় গ্রহণ করছে। এরফলে নিয়োগ বাণিজ্য বেড়ে গেছে। ঢাকার বাইরে নিয়োগ পরীক্ষা নেয়া চট্টগ্রাম বন্দরের নীতিমালা পরিপন্থী, যা চট্টগ্রামবাসীর প্রতি অবজ্ঞার সামিল। বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে আরো বলা হয়, চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ও কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা রক্ষায় নিয়মিত ড্রেজিংয়ের বিকল্প নেই। অথচ দেখা যাচ্ছে যে, এ ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ উদ্দেশ্যমূলকভাবে উদাসীন। তাই অত্যাধুনিক একাধিক ড্রেজার ও অন্যান্য সরঞ্জাম সংগ্রহ করে কর্ণফুলী নদীতে অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে ড্রেজিং কার্যক্রম চালাতে হবে। সংগঠনের সভাপতি চশমা হিলস্থ স্বীয় বাসভবনে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এড. সুনীল কুমার সরকার, আলহাজ খোরশেদ আলম সুজন, এম জহিরুল আলম দোভাষ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক, আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর, বন ও পরিবেশ সম্পাদক মশিউর রহমান চৌধুরী, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আহমেদুর রহমান সিদ্দিকী, ত্রাণ সমাজকল্যাণ সম্পাদক হাজি মো. হোসেন, ধর্ম সম্পাদক হাজি জহুর আহমদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মানস রক্ষিত, শ্রম সম্পাদক আবদুল আহাদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবু তাহের, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক দেবাশীষ গুহ বুলবুল, উপ প্রচার সম্পাদক শহিদুল আলম, উপ দপ্তর সম্পাদক জহরলাল হাজারী, কার্যনির্বাহী সদস্য এম এ জাফর, হাজি মো. ইয়াকুব, আলহাজ আবুল মনসুর, কামরুল হাসান বুলু, গাজী শফিউল আজিম, নজরুল ইসলাম বাহাদুর, নুরুল আবছার মিয়া, সৈয়দ আমিনুল হক, শেখ শহীদুল আনোয়ার, গৌরাঙ্গ চন্দ্র ঘোষ, হাজি মহব্বত আলী খান, এডভোকেট কামাল উদ্দিন আহমেদ, অমল মিত্র, আহমদ ইলিয়াছ প্রমুখ।-বিজ্ঞপ্তি

মতামত...