,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে কলেজিয়েট স্কুল ছাত্র খুনের দায়ে ৫ ছাত্র ছোরাসহ গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: চট্টগ্রাম নগরীর জামালখানে স্কুলছাত্র আদনান ইসফার হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার রাতে জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার সমিতির হাট থেকে চারজন এবং নগরীর বহদ্দারহাট থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছোরাটিও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার পাঁচজন হলো, লোহাগাড়ার রাজঘাটার নুুরুল ইসলামের ছেলে মঈন খান, নগরীর চন্দপুরার ওসমান গণির ছেলে সাব্বির খান, আবদুস ছাত্তারের ছেলে আবদুল্লাহ আল সাইদ, চন্দনপুরার মোক্তার আহমদের ছেলে এখলাছ উদ্দিন আরমান ও বাদুরতলার মোস্তফা কামালের ছেলে মুনতাছির মোস্তফা। এদের মধ্যে মইন, সাব্বির ও মুনতাসির হাজেরা তজু কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে, সাঈদ ইসলামীয়া কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও এখলাস হলিফ্লাওয়ার স্কুলে দশম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত।

মুনতাসির মোস্তফাকে বহদ্দারহাটের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদের ফটিকছড়ির সমিতিরহাট ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সালের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। হত্যায় ব্যবহৃত ছোরা মঈন খানের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার সবার বয়সই ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উত্তর জোনের উপ–কমিশনার এসএম মোস্তাইন হোসাইন বলেন, কয়েকদিন আগে হাজী মুহম্মদ মহসিন কলেজ মাঠে ক্রিকেট খেলা হয়। এ নিয়ে কিশোরদের দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও পরে তা মারামারিতে গড়ায়।

নগর পুলিশের দক্ষিণ জোনের অতিরিক্ত উপ–কমিশনার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ জানান, প্রাথমিকভাবে আমরা জেনেছি হত্যাকা–ের কয়েকদিন আগে মহসিন কলেজের মাঠে খেলা নিয়ে আদনানের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। মঙ্গলবার দুপুরে আদনান ও তার কয়েকজন বন্ধু জামালখান এলাকায় আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের দুই ছাত্রকে ধাওয়া করে। ধাওয়া খাওয়া দুই ছাত্র পালিয়ে গিয়ে ‘বড় ভাইদের’ (গ্রেপ্তারকৃতরা) জানায়। ওই সময় তারা এসে পাল্টা ধাওয়া দিয়ে আদনানকে ধরে মারধর করে।

পুলিশ জানিয়েছে, ওইদিন আদনানকে ধরে সাব্বির পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকি দেয়। আর আরমান, সাঈদ তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করতে থাকলে সে একটি সিএনজি ট্যাক্সির সাথে ধাক্কা লেগে রাস্তায় পড়ে যায়। এসময় মুনতাসির আদনানকে টেনে তোলার সময় তার পরণে থাকা টি–শার্ট ছিঁড়ে যায় এবং মঈন তাকে ছুরিকাঘাত করে।

ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে আদনান দৌড়ে খাস্তগীর স্কুলের দিকে পালিয়ে গেলে মঈন তখনও তাকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে সে রাস্তায় পড়ে গেলে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

পুলিশ কর্মকর্তা রউফ বলেন, কিশোর বয়সের ‘হিরোইজম’ থেকে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে। নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িতদের মধ্যে পাঁচজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও পেছনের ইন্দনদাতা কিংবা পিস্তলের মালিক কে তা উদঘাটনের ব্যাপারে পুলিশ কর্মকর্তারা বিস্তারিত কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

বৃহস্পতবার দুপুরে কলেজিয়েট সরাকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্ররা নগরীর জামাল খান সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে।

গত একবছরে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ–সম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাস, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ–সম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরী কিংবা কদমতলীতে ব্যবসায়ী হারুন চৌধুরী খুনের সঙ্গে জড়িতদের পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তাই আদনান হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার পুলিশের একটি সফলতা বলেও একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আদনান হত্যার সঙ্গে জড়িতরা পেশাদার হত্যাকারী নয়। তাই তাদের গ্রেপ্তারে কোনও বেগ পেতে হয়নি।

মতামত...