,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে ক্রেতাবেশী পুলিশের হাতে ৩ শিশুচোর নবজাতকসহ গ্রেপ্তার

বিডিনিউজ রিভিউজ.কম: পৃথিবীর আলো বাতাসের সাথে পরিচয় হবার আগেই পাচারকারীর কবলে পড়লো চারদিন বয়সের নবজাতক। সে হয়তো কখনো জানবে না তার জন্মদাতার পরিচয়। তবে পুলিশ চেষ্টা করছে নবজাতককে জন্মদাতার কাছে ফিরিয়ে দিতে। শিশুটিকে বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগেমঙ্গলবার নগরীর পাঁচলাইশ বদনা শাহ মাজার এলাকা থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে কর্মরত আয়া (ঠিকাদারের নিয়ন্ত্রণে) কর্নেল হাটের তাজ মিয়ার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৩৫), সাতকানিয়ার রঙ্গিপাড়ার জামাল হোসেনের স্ত্রী জোহরা খানম (৪৭) ও দিনাজপুরের দক্ষিণ আলোকান্দি গ্রামের মোতালেবের স্ত্রী আমেনা বেগমসহ (৩৫)  ৩ নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওয়ালিউদ্দিন আকবর জানান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বিভিন্ন সময় নবজাতক চুরির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু কখনো পাচারকারী কিংবা নবজাতকের সন্ধান মেলেনি। গোপনে সংবাদ পেয়ে ফাঁদ পেতে তিন শিশু পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদের মধ্যে মনোয়ারা বেগম চমেক হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে কর্মরত। ঠিকাদারের নিয়ন্ত্রণে সতেরো বছর গাইনি ওয়ার্ডে আয়া হিসেবে চাকুরি করেছে মনোয়ারা। তারা একলাখ টাকায় শিশুটি বিক্রি করতে এসেছিল। স্থায়ী ঠিকানা বিভিন্নস্থানে হলেও বায়েজিদ শেরশাহ এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে। উদ্ধার করা নবজাতকটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এই প্রথম চমেক হাসপাতালকেন্দ্রিক একটি চক্রকে ধরা গেল। তাদের কাছ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা পুলিশের।

পুলিশ কর্মকর্তা ওয়ালি বলেন, শিশুটি কোথা থেকে চুরি হয়েছে তার সঠিক তথ্য দেয়নি তিন নারী। সঠিক পরিচয় জানা খুবই জরুরি। গ্রেপ্তার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের রিমা–ের আবেদন জানিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, চমেক হাসপাতালে নিয়মিত নবজাতক চুরির ঘটনা উদঘাটন করতে পুলিশ ফাঁদ পাতে। ওই ফাঁদে পা দেয় নবজাতক চোরচক্রের তিন সদস্য। ক্রেতার বেশে ছিল মহিলা পুলিশ। গত সোমবার বিকেলে তারা মোবাইল ফোনে জানায়, তাদের কাছে তিনদিনের এক ছেলে নবজাতক আছে। এটা নিতে হলে দাম দিতে হবে এক লাখ টাকা। মোবাইলে আলাপকালে চোরচক্রের ৩ নারী চমেক হাসপাতালের পাশে বদনা শাহ মাজারের মূল ফটকে বাচ্চাসহ আসতে রাজি হয়। তখন পুলিশ ওই মহিলাদের কাছে যায়। শিশুটিকে দেওয়ার বিনিময়ে চোরেরা একলাখ টাকা দাবি করে।

ক্রেতাবেশী পুলিশ সদস্যরা একটি স্ট্যাম্পে চুক্তি করতে বলে। চমেক হাসপাতালের আয়া মনোয়ারা বেগম এসময় জানায়, সমস্যা হবে না। ইতিপূর্বে তারা আরও চারটি নবজাতক বিক্রি করেছে বিভিন্ন লোকের কাছে। কোনোটাতেই সমস্যা হয়নি। ফলে এটাতেও সমস্যা হবে না। তখন পুলিশ তাদের আটক করে। আটকের পর তারা জানায়, বায়েজিদ এলাকা থেকে তারা নবজাতকটি চুরি করেছে। পরে পুলিশ তাদেরকে নিয়ে সেখানে অভিযান চালায়। কিন্তু সঠিক বাড়িঘর তারা দেখাতে পারেনি।

ওয়ালি উদ্দিন আকবর বলেন, এ ঘটনায় পাঁচলাইশ থানার এসআই মো. নুরুল ইসলাম বাদি হয়ে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে একটি মামলা করেছেন।

মতামত...