,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে গরুর ক্ষুরারোগে ১৯ গরুর মৃত্যু,ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট, উদ্বিগ্ন খামারিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ১৯ সেপ্টেম্বর বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলাসহ বিভিন্ন খামারে গরুর ক্ষুরারোগে  আক্রান্ত হয়ে অন্তত ২১টি গরু মারা গেছে। আক্রান্ত হয়েছে অনেক গরু। এতে বড় ধরনের ক্ষতি গুণে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন খামারিরা।

স্থানীয় খামারিরা জানান, ক্ষুরারোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ার সঙ্গে অধিক কার্যকরী ও মানসম্পন্ন ভ্যাকসিনের বড় সংকট দেখা দিয়েছে। কিন্তু ক্ষুরারোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির সঙ্গে ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়। ভ্যাকসিনের তীব্র সংকটকে পুজি করে  ১৬৭৫ টাকার ভ্যাকসিন চার হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন খামারিরা। বাংলাদেশে উৎপাদিত ভ্যাকসিন ব্যবহারে প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে দাবি খামারিদের।

এডভান্স এনিম্যাল সাইয়েন্স কোম্পানি লি. এর চট্টগ্রাম রিজিওনাল সেলস্ ম্যানেজার সোহেল আহমদ ফেরদৌসী বলেন, চলতি বছর সারাদেশে মাত্র আড়াই হাজার ভ্যাকসিন আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। তা থেকে চট্টগ্রামের জন্য পাওয়া গেছে আড়াইশ ভ্যাকসিন। যা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। দাম বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বড় খামারিরা আমাদের অফিস থেকেই ভ্যাকসিন নিয়ে যায়। আমাদের কাছে ভ্যাকসিন না থাকায় দোকান থেকে কিনতে হচ্ছে। সংকটের সুযোগে দোকানিরা দাম বেশি নিচ্ছে। দূর–দূরান্ত থেকে সংগ্রহ করে আনার কারণে হয় তো দাম বেশি পড়ছে।’ তবে আগামী মাস থেকে সরবরাহ বাড়ছে। সংকট থাকবে না বলে জানান তিনি।

কর্ণফুলী উপজেলার শাহ মিরপুর এলাকার মডেল ডেইরি ফার্মে কয়েকটি গরু রোগে আক্রান্ত হয়েছে। খামারের মালিক ডা. কে এম ইদ্রিস আনসারি বলেন, ২০ দিন আগে ক্ষুরা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এতে ১৪টি দুধেল গরু মারা যায়। আরও পাঁচটি গরুর অবস্থা খুবই খারাপ।এতে ২৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি। খামারের ৭৫টি গরুর মধ্যে ১৯টি মারা গেছে। আরও কয়েকটি গরু আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। কার্যকর ভ্যাকসিন সংকটের কারণে প্রাদুর্ভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েকটি গাভী আক্রান্ত হয়ে পড়ায় দৈনিক দুধ উৎপাদনও ৩৫০ লিটার থেকে কমে ২০০ লিটারে নেমে এসেছে।

সরেজমিনে খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় অর্ধশত খামারে ক্ষুরারোগ দেখা দেয়। ইতোমধ্যেই গাভী, দুধেল গরু ও বাছুরসহ অন্তত ২১টি গরু মারা গেছে। বিভিন্ন খামারে আরও অনেক গরু আক্রান্ত হয়ে পড়েছে।

খামারি জাফর আলম জানান, খামারে দুটি বাছুর মারা গেছে। ১০–১২টি গরু আক্রান্ত হয়েছে। খামারি শফিউল আলম (সোনা মিয়া) জানান, ৮–১০টি গরু ক্ষুরারোগে আক্রান্ত হয়েছে। কার্যকরী ভ্যাকসিনের অভাবে প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না।

সিয়াম ডেইরি খামারের মালিক মো. ফোরকান বলেন, কর্ণফুলী উপজেলা ডেইরি জোন হিসেবে খ্যাত। কিন্তু এখানে প্রাণিসম্পদ বিভাগের কোনো কার্যক্রম নেই। কোনো খামারে গরুর রোগ দেখা দিলে ২৫–২৮ কিলোমিটার দূরে পাশের উপজেলা পটিয়া ও আনোয়ারা যেতে হয়। এখানে খামারিরাই বড় ডাক্তার। নিজেদের সবকিছু করতে হয়।

সৌরভ ডেইরি ফার্মের মঞ্জুরুল আজম বলেন, কর্ণফুলী উপজেলায় একটি প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল নির্মাণের জন্য দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। সরকার অনুমোদনও দিয়েছে। দ্রুত তা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

চিটাগাং ডেইরি ফার্ম এসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক শাহেদ আয়াতুল্লাহ খান বলেন, কর্ণফুলী উপজেলাসহ জেলার মিরসরাই, সীতাকুন্ড, রাউজান উপজেলায় ক্ষুরারোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে গেছে। প্রতিবছর কোরবানির ঈদের পর এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায। গত বছরও তা হয়েছিল। প্রাণিসম্পদ বিভাগের অদূরদর্শিতার কারণে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া যাচ্ছে না।

খামারিরা জানান, কর্ণফুলী উপজেলায় ছোট–বড় চার শতাধিক খামার রয়েছে। এর অধিকাংশ খামারিই ব্যাংক ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) থেকে ঋণ নিয়ে খামার গড়েছেন। এখন ক্ষুরারোগে আক্রান্ত হয়ে গরু মারা ও দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। ঋণের টাকা পরিশোধ ও ক্ষুরারোগের প্রতিরোধ নিয়ে উৎকণ্ঠায় পড়েছেন।

চিটাগাং ডেইরি ফার্ম এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নাঈম উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রামের অধিকাংশ খামারে বাংলাদেশে উৎপাদিত ভ্যাকসিন দেয়া রয়েছে। কিন্তু চলমান ক্ষুরারোগের এই ভ্যাকসিন অনেকটা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রেয়াজুল হক জসিম বলেন, ক্ষুরারোগে আক্রান্ত ও মারা যাওয়া গরুর নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠিয়েছি। ১০–১২দিনের মধ্যে প্রকৃত ‘ভাইরাসের’ কারণ নির্ণয় করা যাবে। তারপরই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ তিনি দাবি করেন, ‘ভাইরাসটি রূপ বদল করে। অনেক সময় আমাদের ভ্যাকসিন, আবার অনেক সময় ফ্রান্স বা ভারত থেকে আমদানি করা ভ্যাকসিন প্রতিরোধে কার্যকরী হয়। গত বছরও কোরবানির পর ক্ষুরারোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছিল। আমরা নিয়ন্ত্রণে এনেছিলাম।

মতামত...