,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জেজোয়ার ব্যবসায়ীরা দিশেহারা!

নাছির মীর, ২৭ জুলাই, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::বন্দর নগরী চট্টগ্রামে দেশের ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জেজোয়ার আসলেই পানি ঢুকে পড়ছে প্রায় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে। চারদিন যাবত এমন পরিস্তিতি বিরাজ করছে । এতে অন্তত তিনশ কোটি টাকার পণ্য নষ্ট হয়ে গেছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।

বুধবারও বেশিরভাগ সময় পুরো এলাকা ছিলো হাঁটু পানিতে তলিয়ে। পণ্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতার কারণে এখানে বেচাকেনাও অনেকটা বন্ধ রয়েছে। টানা চারদিনের জোয়ারের পানিতে ওই এলাকার ছয় হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মজুদকৃত পণ্য পানিতে ডুবে যায়। এক-একটি প্রতিষ্ঠানের ৩ লাখ থেকে ২০ লাখ টকার ক্ষতি হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। বিশেষ করে চাল, পেয়াজ, রসুন, মরিচ, ডালসহ প্রায় প্রতিটি ভোগ্যপণ্যের ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

খাতুনগঞ্জের মো. রুবেল বলেন, ‘প্রতিদিন দুবার করে জোয়ার আসে। এতে গোডাউনে পানি ঢুকে ভিজে যায় মরিচের বস্তা। চারদিনে প্রায় ২শ বস্তা মরিচ ভিজে গেছে। প্রতি বস্তা মরিচের দাম প্রায় ৫ হাজার টাকা। এছাড়াও দিনে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা বিক্রি হলেও এখন কোনো ক্রেতা আসছে না দোকানে।

মমতাজ উদ্দিন বলেন, ‘প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা বিক্রি হয়। গত চারদিনে তেমন কোনো ক্রেতার আসে নাই। উল্টো জোয়ারের পানিতে গোডাউনের অনেক মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের  কী হবে জানা নেই।

মমতাজ উদ্দিন আরো বলেন, ‘চাক্তাই খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার না হওয়ায় জোয়ারের পানি খাতুনগঞ্জে প্রবেশ করেছে। সরকার যদি এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নিতো, তাহলে আমরা মুক্তি পেতাম।

মূলত দেশের বিভিন্ন স’ল বন্দর ও চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানিকৃত পণ্য দিয়ে এখানকার ব্যবসা চলে এখানে। প্রতিদিন গড়ে ষোল থেকে বিশ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয় এখানে। কিন’ জোয়ারের পানিতে প্রতিদিন চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ, আছাদগঞ্জ, কোরবানিগঞ্জ, শুঁটকিপট্টি, চাউলপট্টি, বাকলিয়ার অংশ, আমির মার্কেট, চাঁনমিয়া লেইন, রাজাখালী এলাকার প্রায় দোকান, মিল কারখানা ও গুদাম পানিতে ডুবে যাচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছে সেখানকার কয়েক হাজার ব্যবসায়ী।

দাম বাড়ার ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা বলছেন, একদিকে জোয়ারের পানিতে ডুবে মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে, অন্যদিকে জোয়ারের কারণে দিনের অর্ধেক সময় বেচাকেনা বন্ধ থাকে। যার কারণে মালামাল উঠা-নামা ও বেচা- বিক্রি হচ্ছে না ঠিকমতো। যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে দাম বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।

খাতুনগঞ্জ’র আজিজুর রহমান বলেন, ‘পানি থাকায় গোডাউন থেকে মালামাল আনা-নেওয়া করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে কাস্টমাররাও আসছে না। এভাবে চলতে থাকলে দাম বৃদ্ধির শঙ্কা রয়েছে।’

খাতুনগঞ্জ ট্রেড এন্ড ইন্ডাাস্ট্রিস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ ছগীর আহমদ বলেন, ‘মার্কেটের অনেক ব্যবসায়ীর মালামাল বন্দরে আটকে আছে। আবহাওয়ার খারাপ থাকায় নিয়মিত মালামাল আসছে না মার্কেটে। পরিসি’তির উন্নতি না হলে দাম বড়ার শঙ্কা রয়েছে। যদি বৃষ্টি কমে ও আবহাওয়া পরিসি’তির উন্নতি হয়, তাহলে দাম বাড়ার কোনো শঙ্কা নেই।

খাতুনগঞ্জ-চাক্তাইকে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষায় এগিয়ে আসার আহবান জানিয়ে ছৈয়দ ছগীর আহমদ বলেন, গত চারদিনে স’বির হয়ে পড়েছে প্রায় দোকানের বেচাকেনা। লেনদেন শূন্যের কোঠায় এসে দাঁড়িয়েছে। জোয়ারের পানি গোডাউনের ঢুকে অনেক ব্যবসায়ীর মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। এতে প্রায় তিনশ কোটি টাকার ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে। তিনি জরুরি ভিত্তিতে চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ, বাকলিয়ার অংশে জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএ-সিটি কর্পোারেশন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাথে সমন্বয় করে প্রকল্প বাস্তবায়নের আহবান জানান। এজন্য তিনি চাক্তাই-রাজাখালী খালের মুখে স্লুইস গেইট বসানো, বেধিবাঁধ নির্মাণ, খালগুলো নিয়মিত খনন করাসহ ১৯৯৫ সালের মাস্টারপ্ল্যান অনুসরণ ও নগরীতে নতুন তিনটি খালের বাস্তবায়ন করার আহবান জানান।

মতামত...