,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে চিকিৎসক ধর্মঘটে রোগীদের সীমাহীন দুর্ভোগ

1001নিজস্ব প্রতিবেদক,চট্টগ্রাম,২১, জানুয়ারি (বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম):: চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডাক্তারদের চেম্বার ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সেবাদান বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করছেন চিকিৎসকরা। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয়দিনের মত এ ধর্মঘট অব্যাহত থাকায় দুভোগে পড়েছেন হাজারো রোগী এবং তাদের স্বজনরা।

একজন রোগীর মৃত্যু এবং অপর একরোগীর অস্ত্রোপাচারকালে শরীরের ভেতরে ব্যান্ডজ রেখে দেয়ার ঘটনায় চট্টগ্রামে ৩ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে বুধবার থেকে এ ধর্মঘট আহবান করে চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের (বিএমএ)।

নগরীর চেরাগী পাহাড় মোড়ের সেন্টার পয়েন্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ক্লিনিকে রোগী ভর্তি করা হচ্ছে। স্বাভাবিক চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম চলছে। শুধু অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ আছে। যদি কোন চিকিৎসক অপারেশনের দায়িত্ব নেন তাহলে তার বিএমডিসি সার্টিফিকেট বাতিল করা হবে। তাই কোন চিকিৎসকই রোগীদের অপারেশন করছে না।

এদিকে বিএমএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় শাখার সভাপতি ডা.মুজিবুল হক খান বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমকে জানান তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বুধবার থেকে প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ করে দেন চিকিৎসকরা। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধ মামলা প্রত্যাহার না করা হলে ২৩ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ডা. শামীমা সিদ্দিকা রোজী, ডা. মাহবুব আলম ও ডা. রানা চৌধুরীর বিরুদ্ধে হয়রানি ও মানহানিমূলক মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্যাকটিস বন্ধ থাকবে। তবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতাল, ইউএসটিসি, আন্দরকিল্লা জোনরেল হাসপাতাল, জেমিসন রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা চালু থাকবে।

এদিকে সকাল থেকে বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে সেবা না পেয়ে রোগীর ছুটছে সরকারী হাসপাতালের দিকে। ফলে চাপ বেড়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এর প্রেক্ষিতে চমেকে’র কর্তৃপক্ষ চিকিৎসকদের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে বলে জানান।

বৃহস্পতিবার নগরীর চকবাজার জামালখান মেডিকেল কলেজ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে রোগীদের দুর্ভোগের চিত্র। জামাল খান এলাকার সেন্টার পয়েন্ট হাসপাতালে দেখা গেছে, সেবা না পেয়ে কয়েকজন রোগি হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। দোহাজারী থেকে খোরশেদ আলম তার স্ত্রীকে নিয়ে এসেছিলেন সেন্টার পয়েন্ট হাসপাতালে। তার স্ত্রী সন্তান সম্ভবা। তিনি জানান, স্ত্রী প্রসব বেদনার কারণে কষ্ট হচ্ছে। গতকাল থেকে এ ক্লিনিক থেকে ঐ ক্লিনিকে ঘুরেও কোথাও অপারেশন করাতে পারছি না।

গতকাল ন্যাশনাল হাসপাতালে জানানো হয়, ডাক্তার নেই, চিকিৎসা হবেনা, পরে গিয়েছিলাম ডেল্টা হাসপাতালে গেলে সেখানে অনেক অনুনয় বিনয় করে বলার পর উপস্থিত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন, এরপর সিএসসিআর হাসপাতালে গিয়েছি সেখানেও বলা হয়েছে চিকিৎসা হবেনা। তিনি বলেন চিকিৎসা সেবা একটি মানবিক সেবা এটা নিয়ে কেন রাজনীতি চলবে।

মেহেদীবাগ ন্যাশনাল হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে রোগী তাদের স্বজনদের করুন অবস্থা। নতুন করে কোন রোগী ভর্তি করা হচ্ছে না। তার উপর যারা আগে থেকে ভর্তি আছে তাদের ঠিকতম চিকিৎসা হচ্ছে না বলে জানান রোগীর স্বজনরা। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে বাবুল হোসেন নামে একজন বয়স্ক রোগী অনুরোধ করেন, তার জন্য যেন ডাক্তারদের সুপারিশ করি।

চমেক এর চর্ম রোগ বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ডা: রফিকুল মাওলা বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমকে জানান, ক্লিনিকগুলোতে সেবা না পেয়ে রেগিরা ভিড় করছেন সরকারি এই হাসপাতালে, আমরা রোগিদের সর্বাত্মক সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

উল্লেখ্য গত ৯ জানুয়ারি নগরীর সার্জিস্কোপ হাসপাতালে সন্তান প্রসবের পর চিকিৎসকদের অবহেলায় মৃত্যু হয় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি’র ছোট ভাই খাইরুল বশরের মেয়ে মেহেরুন্নেছার। এ ঘটনায় ডা. মাহবুবুল আলম ও ডা. শামীমা রোজীকে দায়ী করা হয়। এবং ঘটনার পর নগরী সার্জিস্কোপ ক্লিনিকে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয় সেদিন রাতে।

ভুল চিকিৎসার অভিযোগ এনে মন্ত্রীর স্বজনরা ডা. মাহবুবুল আলম ও ডা. শামীমা রোজী বিরুদ্ধে গত মঙ্গলবার আদালতে মামলা করেন।

এছাড়া অপর এক ঘটনায় চমেক হাসপাতালে অপারেশনের সময় নুরুল আবছার নামে এক কিশোরের রোগীর পেটে ব্যান্ডেজ রেখে দেওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সহকারী রেজিস্টার ডা. রানা চৌধুরীর বিরুদ্ধে পৃথক একই পৃথক একটি মামলা করেন ওই কিশোরের বাবা জেবল হোসেন।

এ দুটি মামলা আমলে নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর বিচারক মোহাম্মদ ফরিদ আলম পাঁচলাইশ থানা পুলিশকে এজহার হিসেবে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। দায়েরকৃত দুটি মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দেলনে নামেন চট্টগ্রামের চিকিৎসকেরা।

মতামত...