,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের ২ গ্রুপে সংঘর্ষ চমেক শিক্ষার্থীসহ আহত ১০

চট্টগ্রাম মহানগরীর জিইসি মোড় এলাকা গোলপাহাড় এলাকায় ডাক্তারদের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া ও মারামারির ঘটনায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন। ঘটনায় আশপাশে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। লোকজন প্রাণ ভয়ে ছুটোছুটি শুরু করেন। রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যায়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সঙ্গে জিইসি মোড় এলাকার বেসরকারি হাসপাতালমেট্রোপলিটন হাসপাতালের চিকিৎসকদের মধ্যে দ্বন্দ্বে এই ঘটনা ঘটে। নারীঘটিত কারণে ঘটনারসূত্রপাত বলে একাধিক সূত্র জানায়।

প্রত্যক্ষ দর্শীরা বিডিনিউজ রিভিউজ.কম কে জানায়, রাত সাড়ে ৯টার দিকে কয়েক জন যুবক এক চিকিৎসককে টানাহেচঁড়া করেসিএনজি ট্যাক্সিতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। হাসপাতালের লোকজন বাধা দিলে মারামারির ঘটনাঘটে।

জানাযায়, মেট্রোপলিটন হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. আশরাফের সঙ্গে বিরোধ নিয়ে চমেক ছাত্রলীগের চার নেতার মধ্যে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে তা ছাপিয়ে চমেক হাসপাতালছাত্রলীগ ও এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। দ্বন্দ্বের জের ধরে ছাত্রলীগের দুইগ্রুপ প্রকাশে অস্ত্র–শস্ত্র নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। ছাত্রলীগের দুই পক্ষের ধাওয়া ও পাল্টাধাওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

 বিশেষ করে ডাক্তারপাড়াখ্যাত জিইসি মোড় থেকে চমেকহাসপাতাল, মেহেদিবাগের ম্যাক্স হাসপাতাল এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ছাত্রলীগের দুইপক্ষমুখোমুখি অবস্থান নেয়।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. সেলিম জাহাঙ্গীর বলেন, সংঘর্ষে মেডিকেলের ১০ ছাত্র আহত হয়েছে। তার মধ্যে ৫ জনের অবস্থা গুরুতর। তবে ঘটনার সূত্রপাতএখনো জানা যায়নি।

চমেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম বলেন, মারামারির পর দুই গ্রুপ পাল্টাপাল্টিমিছিল বের করেছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ডা. তারিফুল ইসলাম রাতিন দাবি করেন, ব্যক্তিগত ঘটনা নিয়ে

মেট্রোপলিটন হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আশরাফের সঙ্গে কথা বলতে যানছাত্রলীগের মেডিকেল কলেজ শাখার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও ভিপি–জিএস। এসময়গোলপাহাড় মোড় ও এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে অস্ত্র–শস্ত্র নিয়ে হামলাচালায়। এতে ভিপি সাব্বির আহমদ, জিএস জামিউর রহমান আকাশ, মো. রিয়াজ উদ্দিন মিতুল, সহ–সভাপতি ফয়েজ উদ্দিন খন্দকার, মাখছুম তালুকদার সজিব, নাঈম সরকার, ফয়সাল কবিরসহ১০ জন আহত হয়েছেন।

তিনি দাবি করেন, এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের একাংশের সভাপতি ওয়াসিমের নেতৃত্বে চমেকছাত্রলীগের নেতাদের ওপর হামলা করা হয়েছে।

মেট্রোপলিটন হাসপাতালের ব্যবস্থাপক মো. সেলিম জানান, মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা কর্তব্যরতচিকিৎসক ডা. মো. আশরাফকে সিএনজি ট্যাক্সি করে তুলে নিতে গেলে স্থানীয় লোকজন বাধা দেয়।৫ম বর্ষের চার ছাত্র তাকে তুলে নেওয়ার সময়ে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাকে রক্ষা করে। পরেমেডিক্যাল কলেজের ৫ম বর্ষের ছাত্ররা এসে স্থানীয় লোকজনদের মারধর শুরু করে। এতে স্থানীয়লোকজনের সঙ্গে মেডিকেল কলেজ ছাত্রদের বিরোধ লেগে যায়। এতে স্থানীয় চারজন গুরুতরআহত হয়।

ঘটনায় মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের হামলায় গোলপাহাড় ও এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের পক্ষেরচারজন আহত হন। এদের দুইজনকে বেসরকারি হাসপাতাল ম্যাক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাদেরঅবস্থা গুরুতর বলে জানা যায়।

ম্যাক্সে ভর্তি করা হয়েছে যুবলীগের আরিফুল ইসলাম মাছুম, নগর ছাত্রলীগের মিনহাজুল ইসলামসানি।
নগর পুলিশের উপ–কমিশনার (দক্ষিণ) এসএম মোস্তাইন হোসেন বলেন, গোলপাহাড় মোড় এবংওআরনিজাম রোডে মেট্রোপলিটন হাসপাতালের ডা. আশরাফের সঙ্গে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ(চমেক) হাসপাতালের তিনজন ইন্টার্ন ডাক্তারের কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে চমেক থেকে ইন্টার্ন ডাক্তাররা সংঘবদ্ধ হয়ে মিছিল করে মেট্রোপলিটন হাসপাতালে যান। পরে লোকাল ছেলেরাও আসে। দুই গ্রুপে মারামারি শুরু হয়। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মতামত...