,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে ছেলের প্রাইভেট কারে চাপা পড়ে পিতার মর্মান্তিক মৃত্যু !

নিজস্ব প্রতিবেদক,৬ আগস্ট, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: চট্টগ্রামে ছেলের চালানো প্রাইভেট কারের চাপায় প্রাণ গেছে বাবার।নগরীর শেরশাহ কলোনির এস এম সড়কে ১২ নম্বর বাড়িটি হুমায়ন কবিরের বাসায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

স্ত্রী-ছেলেমেয়ে সঙ্গে নিয়ে  বড় ছেলের কবর জেয়ারত করতে বের হয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ন কবির মজুমদার (৬৫) । সেখান থেকে যান কর্ণফুলী নদী দেখতে। নিজস্ব প্রাইভেট কার চালাচ্ছিলেন ছেলে ফাহাদ কবির তপু। ফেরার পর বাসার সামনে ছেলের চালানো প্রাইভেট কারের চাপায় প্রাণ গেছে বাবার। হতভাগ্য স্ত্রী-সন্তানদের সামনেই এই মুক্তিযোদ্ধার মর্মান্তিক ভাবে জীবনের অবসান হয়েছে।

শুক্রবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার শেরশাহ কলোনিতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

হুমায়ন কবির মজুমদার জনতা ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তার বাড়ি ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার মহুয়া গ্রামে। এছাড়া নগরীর শেরশাহ কলোনির এস এম সড়কে ১২ নম্বর বাড়িটি হুমায়ন কবিরের। সেখানেই পরিবার নিয়ে থাকতেন তিনি।

বায়েজিদ বোস্তামী থানা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মো. খোরশেদ আলম জানান, হুমায়ন কবিরের দুই ছেলে ও এক মেয়ে। দুই বছর আগে ষোলশহর দুই নম্বর গেট এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বড় ছেলে মারা যান। মেয়ে ফারহানা কবির নেওয়াজ স্বামী-সন্তান নিয়ে লন্ডনে থাকেন। গত বুধবার ফারহানা মেয়েকে নিয়ে দেশে ফেরেন।

খোরশেদ জানান, শুক্রবার বিকেলে শেরশাহ কবরস্থানে বড় ছেলের কবর জেয়ারত করেন হুমায়ন ও ছোট ছেলে তপু। তারপর সবাই মিলে যান শাহ আমানত সেতুতে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাসায় ফেরেন। এরপর গাড়ি গ্যারেজে ঢোকানোর সময় দুর্ঘটনা ঘটে।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, গাড়ি গ্যারেজে ঢোকাচ্ছিলেন তপু। হুমায়ন কবির নেমে পেছনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে সিগন্যাল দিচ্ছিলেন। অন্যরা গাড়ির ভেতরে বসা ছিলেন। হঠাৎ দরজা খুলে গিয়ে নাতনির হাত সেখানে আটকে যায়। হুমায়ন কবির দরজা খোলার জন্য যান। এসময় তপু গাড়ি একটু পেছনে নেন। দেওয়াল এবং গাড়ির মধ্যে চাপা পড়েন হুমায়ন কবির। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে পথেই তার মৃত্যু হয়েছে।

এই ঘটনায় থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে নিহতের স্ত্রী পারভিন আরা কবির থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। এতে শুধুমাত্র ঘটনার বর্ণনা আছে।

ওসি বলেন, এটা একটা দুর্ঘটনা। ছেলের কোন দোষ নেই। তার বাবা যে হঠাৎ করে পেছন থেকে দেয়ালের দিকে চলে যাবেন সেটা তিনি বুঝতে পারেননি। বিষয়টি আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নিয়ে মামলা করিনি।

মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার খোরশেদ বলেন, একেবারে মর্মান্তিক ঘটনা।

মতামত...