,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে জঙ্গি সন্দেহে ২৪ জন আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ৪ ফেব্রুয়ারী বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলী থানাধীন নয়া বাজার মৌসুমি আবাসিক এলাকার একটি বাড়ী থেকে জঙ্গি সন্দেহে ২৪ জনকে আটক করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ।

শুক্রবার রাতে বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। তারা সবাই ‘ইসলামী সমাজ’ নামে একটি সংগঠনের সদস্য বলে জানা গেছে।

পাহাড়তলীর মৌসুমী আবাসিক এলাকার ১ নম্বর সড়কের ২০১১ নম্বর বাড়ির ময়ূর ম্যানশনের দ্বিতীয় তলায় জামাল উদ্দিনের বাসায় তোরা বৈঠক করছিল বলে জানিয়ে নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার পরিতোষ ঘোষ বলেন, বৈঠক থেকে ইসলামী সমাজের মতাদর্শ প্রচারের জন্য প্রকাশিত বেশকিছু বই এবং প্রচারপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।  ‘ইসলামী সমাজ’ নামে এই সংগঠনের নাম কিংবা কার্যক্রমের বিষয়ে আগে কখনও শুনিনি। সংগঠনের কাজ কি, তাদের অনুমোদন আছে কিনা এসব বিষয়ে জানার জন্য কয়েকজনকে এনেছি। তারা নিজেদের ‘ইসলামী সমাজ’র বিভিন্ন পদ-পদবিতে আছে বলে জানিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।

আটক হওয়া ২৪ জন হল, ইসলামী সমাজের চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান দায়িত্বশীল নেতা মো.রহুল আমিন (৪৫) এবং টঙ্গী অঞ্চলের প্রধান দায়িত্বশীল নেতা মো.ইউছুফ আলীও (৪৬), আমির হোসেন (৫০), জামাল উদ্দিন (৪২), আবু হানিফ হারিজ (৫৩), রফিকুল ইসলাম প্রকাশ রুবেল (২৭), আলমগীর হোসেন (৩৫), দিদার হোসেন (৩৫), আনোয়ার (৪৪), শাহ আলম (৪০), রবিউল হোসেন (৩৭), তৌহিদুল ইসলাম (২২), আনোয়ার হোসেন (৪২), আব্দুল ওহাব (৫৪), আব্দুর রব (৪০), মো.ছাদেক (৪২), আবু বক্কর কামাল (৫০), আব্দুল কাদের (২৭), আকবর হোসেন (৪২), সাইফুল ইসলাম (২৬), ইব্রাহিম খলিল (২৬), মোবারক আলী (৪৫), আব্দুল হাকিম (৪৫) এবং রবিউল (২৮)।

২৪ জনের মধ্যে সাইফুল ইসলাম ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলামী সমাজে যোগ দেয়। তার আগের নাম ছিল কৃঞ্চানন্দ দে। বাঁশখালী উপজেলার শীলকূপের সুরঞ্জিত দে’র ছেলে কৃঞ্চানন্দ নগরীর মনছুরারাবাদে থাকে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

One comment

  1. ইসলামী সমাজ” এর আমীর হযরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেছেন, ইসলাম প্রতিষ্ঠার নামে উগ্রতা ও জঙ্গিবাদসহ যে কোন ধরনের অপতৎপরতা ইসলাম ও মানবতা বিরোধী চরম অপরাধ। তিনি বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় মানব রচিত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত থাকাকালীন সময়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) শান্তিপূর্ণ ভাবে ইসলামের প্রচার এবং ঈমান ও ইসলামের দাওয়াতের মাধ্যমে সমাজ গঠন করেছিলেন। দাওয়াতের মাধ্যমে ঈমানদারগণের সমাজ গঠনের প্রেক্ষিতে সকল প্রকারের বিরোধীতা ও নির্যাতনের ক্ষেত্রে ধৈর্য ও ক্ষমাই ছিল আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এবং তাঁর অনুসারী ঈমানদারগণের নীতি। তিনি আজ এক বিবৃতিতে বলেন, “ইসলামী সমাজ” এর নেতা ও কর্মীরা আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর অনুসরণ ও অনুকরণে ধৈর্য ও ক্ষমার নীতিতে অটল থেকেই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীর মাধ্যমে ঈমান ও ইসলামের দাওয়াত দলমত নির্বিশেষে সকলকে দিয়ে যাচ্ছে। সকল মানুষের সার্বিক কল্যাণে ঈমান ও ইসলামের শান্তিপূর্ণ দাওয়াতী সংগঠনের নাম “ইসলামী সমাজ”-এ কথার উল্লেখ করে তিনি বলেন, উগ্রতা ও জঙ্গীবাদসহ সকল অপতৎপরতার বিরুদ্ধেই ইসলামী সমাজের নেতা ও কর্মীদের দৃঢ় অবস্থান। তিনি আরও বলেন, ১৯৯৭ ইং সালের ১৭মে মুফতি আবদুল জাব্বার (রহঃ) এর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত “ইসলামী সমাজ” এর নেতা কর্মীগণ আল্লাহর নির্দেশিত ও তাঁরই রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতেই ইসলাম প্রতিষ্ঠার ঈমানী ও নৈতিক দায়িত্ব পালন করে আসছে। দাওয়াতী সংগঠন “ইসলামী সমাজ” এর আমীর হযরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেন, ঈমান ও ইসলামের দাওয়াতী কাজের অংশ হিসেবেই মুহাম্মাদ ইউসুফ আলী এবং আমীর হোসাইন গত শুক্রবার ০৩/০২/২০১৭ইং ‘ইসলামী সমাজ’ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এ দুইজন দায়িত্বশীলসহ গ্রেফতার হওয়া নেতা, কর্মীরা সমাজ ও রাষ্ট্র বিরোধী এবং মানুষের ক্ষতি হয় এমন কোন কর্ম-কান্ডের সাথে সম্পৃক্ত নন- একথার উল্লেখ করে তিনি তাদের নিঃশর্ত মুক্তি প্রদানের ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসন ও সরকারের প্রতি আন্তরিক আহবান জানান। সকলের কল্যাণ কামনা করে তিনি বলেন, আল্লাহই আমাদের একমাত্র সহায় ও সাহায্যকারী আমরা তাঁর উপর পূর্ণ নির্ভর করেই ঈমান ও ইসলামের দাওয়াতের মাধ্যমে ইসলামী সমাজ গঠনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আল্লাহ আমাদের সকলকে । আল্লাহ আমাদের সকলকে এ লক্ষ্যে কবুল করুন। আমীন!

মতামত...