,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে জামিনে বেরিয়েই পলাতক চোরাকারবারি জাফর

jafr smgrনিজস্ব প্রতিবেদক ,বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম,চট্টগ্রাম : গ্রামের লোকজন জানেন জাফর চট্টগ্রাম শহরের রিয়াজ উদ্দিন বাজারে মোবাইলেরর ব্যবসা করে আর  রিয়াজ উদ্দিন বাজারের লোকজনের কাছে সে সিগারেট জাফর হিসাবে পরিচিত। তবে শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা জাফর আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের সদস্য , তার ফ্ল্যাটে দশটি দেশের মুদ্রা, স্বর্ণের বার পাচারের কাভার ও একাধিক ব্যাংকের চেক বই পাওয়া যায়। চারটি ব্যাংকের হিসাবে পাওয়া যায় অস্বাভাবিক লেনদেন স্ব কিছু তারি প্রমাণ । তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হলেও একমাসের মাথায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে আত্গোপন করেন চন্দনাইশের বরমা ইউনিয়নের মাইগাতা গ্রামের মৃত আবদুল মোনাফের ছেলে সুচতুর জাফর। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, জাফরের জামিন বাতিল করার জন্য আমরা ইতিমধ্যে আদালতে আবেদন জানিয়েছি।

গত ১৩ নভেম্বর নগরীর স্টেশন রোডের নুরুল্লা ভবনে জাফরের  ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় র‍্যাব । সেখানে পাওয়া যায় ওমান, ব্রিটিশ পাউন্ড, মালেশিয়ান রিঙ্গিত, মরিসিয়ান মুদ্রা, সৌদি রিয়াল, কাতারী রিয়াল, থাই বাথ, আরব আমিরাতের দিরহাম, ভারতীয় রূপী ও বাহরাইনের দিনার। দশটি দেশের দুই লাখ ৬৬ হাজার টাকার বাইরেও বাংলাদেশি টাকা পাওয়া যায় ১৭ লক্ষ ৫০ হাজার। শুধু তাই নয় ওই ফ্ল্যাটে মিলেছে দুবাইয়ে লাক্ষ্যে জুয়েলারির নাম সম্বলিত ১১টি অবৈধ স্বর্ণবারের রেপার (স্বর্ণের বার পাচারের কাজে ব্যবহৃত বিশেষ কাভার)। ইকবাল হোসেন ও আলী আজগরসহ তিন ব্যক্তির পাসপোর্ট। পাওয়া যায় স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংকের একাধিক চেক বই, রবি’র পাঁচটি মোবাইল ও পাঁচটি সিম। এসময় জাফর নিজেকে রিয়াজউদ্দিন বাজারে সিগারেট ব্যবসায়ী দাবি করলেও ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হওয়া বিদেশি মুদ্রা কিংবা স্বর্ণবার বহন করার রেপার সম্পর্কে কোন সঠিক জবাব দিতে না পারায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ১৩ নভেম্বর নগরীর কোতোয়ালি থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করেন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের শুল্ক ও গোয়েন্দা অধিদপ্তরের সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা দীপঙ্কর কুমার দত্ত।
১৩ নভেম্বর জাফর গ্রেপ্তার হলে তাকে কারাগারে পাঠায় চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালত। ১৫ ও ১৯ নভেম্বর মহানগর হাকিম আদালতে জামিন চাইলে তা নামঞ্জুর করেন বিচারক। ২৯ নভেম্বর চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিন চাইলে সেখানেও আবেদন নামঞ্জুর হয়। পরবর্তীতে হাইকোর্টে ফৌজদারী বিবিধ মামলা (৪৮৪৩২/১৫) করলে শুনানি শেষে ৯ ডিসেম্বর জামিন পান তিনি। খুব দ্রুত উচ্চ আদালতের জামিনের আদেশ চট্টগ্রামে পৌঁছলে এক মাসের মাথায় গত ১২ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। আর মুক্তি পেয়েই আত্মগোপান করেন জাফর। গত ১০ জানুয়ারি মহানগর হাকিম আদালতে নির্ধারিত হাজিরার দিনে অনুপস্থিত ছিলেন আসামি জাফর। হাজিরা দিয়েছেন আইনজীবীর মাধ্যমে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদক চট্টগ্রামের উপ-সহকারী কর্মকর্তা মানিক লাল দাশ বলেন, ‘১০ দেশের মুদ্রা, চারটি ব্যাংকের হিসাব, স্বর্ণবারের রেপার ও একাধিক পাসপোর্টসহ জব্ধ তালিকা পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে তাকে চোরাচালানকারী ও হুন্ডি ব্যবসায়ী হিসেবে চিহ্নিত করেছি। তার চারটি ব্যাংকের হিসাবে অস্বাভিক লেনদের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব লেনদেনের বিরপরীতে তার প্রতিষ্ঠিত কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নেই।’
মানিক লাল বলেন, তার কাছ থেকে পাওয়া পাঁচটি মোবাইল নম্বরের তথ্য চেয়ে সংশ্লিস্ট মোবাইল অপারেটরের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। কিন্তু মোবাইল অপারেটরে পক্ষ থেকে সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করার আগেই উচ্চ আদালত থেকে দ্রুত জামিনে কারাগার থেকে বেরিয়ে গেছেন জাফর। তার জামিন বাতিল করার আবেদন জানিয়ে ইতিমধ্যে আদালতে আবেদন করা হয়েছে।
গত ১৩ নভেম্বর নগরীর স্টেশন রোডে জাফরের ফ্ল্যাটে অভিযান শুরু করেন করেন শুল্ক গোয়েন্দা এবং র‌্যাব-৭। জাফর শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে অবৈধভাবে স্বর্ণবার ও বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশে এনে তা ফ্ল্যাটে মজুদ করে বিক্রি করছেন। ফ্ল্যাটের ডাইনিং এর পাশের বেড রুমের খাটের নীচে অস্তিত্ব মিলে ১০ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ও বাংলাদেশি টাকার প্যাকেট। জিজ্ঞাসাবাদে জাফর জানান, রিয়াজউদ্দিন বাজারে সিগারেটের দোকান রয়েছে তার। সিগারেটের ব্যবসা করে বৈদেশিক মুদ্রা কিভাবে পেলেন- তার কোন সঠিক দিতে পারেননি সে । পাশের আরেকটি কক্ষে তল্লাশি চালাতেই মিলে ব্যাংকের একাধিক চেক বই। এতে অস্বাভাবিক লেনদেনের রশিদের খোঁজ মিলে। আরেকটি কক্ষে থেকে জব্ধ করা হয় ১১টি স্বর্ণবারের রেপার।

 

 

 

বি এন আর/০০১৬০০২০২৯/০০০২০৯/এস

 

মতামত...