,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে ডিবি পরিচয়ে ছিনতাই শিবির ক্যাডার নাছিরের ছোট ভাইসহ গ্রেফতার ৫

sবিশেষ সংবাদদাতা, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম: ডিবি পরিচয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার নাছিরের ছোট ভাই রিয়াজউদ্দিন চৌধুরীসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী, আকবরশাহ ও হাটহাজারি উপজেলা থেকে শনিবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে পিবিআই পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা জানান। রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী (৩০) ছাড়া বাকি চারজন হলো মো. দিদারুল আলম (৪১), আব্দুল আওয়াল তুহিন (২৭), মোহাম্মদ আলী (৩০) ও ফয়সাল আহমেদ মাকসুদ (২৬)। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই, চট্টগ্রামের পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম ৫ জনকে রোববার আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড চেয়েছেন। আদালত সোমবার শুনানির সময় নির্ধারণ করেছেন বলে জানিয়েছেন পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা।

জানাগেছে, গত ২০ নভেম্বর সকালে দুবাই থেকে দেশে ফিরেন রিয়াজ। সে দুবাইয়ে গোলাম কিবরিয়ার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারি। গোলাম কিবরিয়ার বাড়ি হাটহাজারী উপজেলার মন্দাকিনিতে রিয়াজের বাড়ির পাশে। গোলাম কিবরিয়া ৯ ভরি স্বর্ণালংকার, মোবাইল, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন মালামাল রিয়াজকে দিয়ে পাঠায়।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রিয়াজের কাছ থেকে মালামালগুলো বুঝে নিতে যান গোলাম কিবরিয়ার ভাই সামুনুল হক। সকাল ৯টার দিকে বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে রিয়াজ ও সামুনুল নগরীর ফকিরহাট এলাকায় ক্যাফে ডি মমতাজ হোটেলে নাস্তা করার জন্য ঢোকে। হোটেলে বসে রিয়াজ স্বর্ণালংকারসহ মালামালগুলো সামুনুলকে বুঝিয়ে দেয়। হোটেলে ঢোকার ১০-১৫ মিনিটের মধ্যেই সেখানে চারজন যুবক ঢোকে। এসময় তারা নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দেয়। সামুনুল এবং রিয়াজের কাছে অবৈধভাবে আনা স্বর্ণের বার আছে অভিযোগ করে তারা দুজনকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তাদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকারসহ মালামালগুলো কেড়ে নিয়ে তাদের সাগরিকা এলাকায় নামিয়ে দেয়া হয়। এই ঘটনায় গোলাম কিবরিয়ার আরেক ভাই আবদুল্লাহ আল মামুন বাদি হয়ে বন্দর থানায় গত ২ ডিসেম্বর একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা তদন্তের দায়িত্বভার পড়ে পিবিআই টিমের উপর।

পিবিআই’র তদন্তে রিয়াজের জারিজুরি পাঁস হয়ে যায়। জানা যায়, দুবাই থেকে পাঠানো স্বর্ণালংকার, মোবাইল, ল্যাপটপ আত্মসাতের পরিকল্পনা দুবাই বসেই নিয়েছিল রিয়াজ। তার পরিকল্পনা অনুযায়ি বক্কর নামে একজন নগরীতে ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত ৮ যুবককে ‘ডিবি পুলিশ’ সাজায়। ১৯ নভেম্বর রাতে গ্রেপ্তার ফয়সাল, আলীসহ কামাল, বক্কর, হাবিব বৈঠক করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০ নভেম্বর সকালে তাদের কাছ থেকে ডিবি পরিচয়ে ছিনতাইয়ের সময় তুহিন, হাবিব, মানিক, কামাল ও অজিজ মাইক্রোবাসে অবস্থান করে সরাসরি অংশ নেয় এবং আলী ও মিনান নামে অপর একজন মোটরসাইকেলে এবং ফয়সাল অপর একটি প্রাইভেট করে অবস্থান নেয়। পরিদর্শক সন্তোষ জানান, রিয়াজের সঙ্গে ছিনতাইকারীদের চুক্তি হয়েছিল তারা মালামাল দুই ভাগে ভাগ করবে। এক ভাগ ছিনতাইকারীদের, বাকিগুলো রিয়াজের। ছিনতাইকারীদের ভাগে পাওয়া স্বর্ণালংকার, ল্যাপটপ বিক্রি করে তারা প্রত্যেকে ৩০ হাজার টাকা করে পায়। ডিবি পুলিশ সেজে পাহাড়তলী-আকবর শাহ এলাকার এই চক্রটি আগেও একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়েছিল বলে তিনি জানান।

হোটেলর সিসি ক্যামেরায়ও তাদের দেখা গেছে জানিয়ে অভিযানকারী পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা আজাদীকে বলেন, মমতাজ হোটেলের সামনে সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ আমরা সংগ্রহ করি। এতে দেখা যায় মাইক্রোবাসে ৫ জন, প্রাইভেট কারে ১ জন এবং মোটর সাইকেলে করে ২ জন ঘটনার সময় সেখানে যায়। এদের মধ্যে মাইক্রোবাস থেকে নামা ৪ জন হোটেলের ভেতরে ঢোকে। বাকি সদস্যরা বাইরে অপেক্ষমাণ ছিল। এর বাইরে আরও দুজন অবস্থান করছিল ঘটনাস্থলের আশপাশে।

তিনি বলেন, সামুনুলের মোবাইলও তারা ছিনতাই করে নিয়ে গিয়েছিল। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান নির্ণয় করে শনিবার রাত থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত নগরীর পাহাড়তলী, আকবর শাহ ও হাটহাজারী এলাকায় অভিযান চালায় এবং ৫ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এর মধ্যে শনিবার সকালে পাহাড়তলী নিজ বাসা থেকে ফয়সালকে এবং সিডিএ মার্কেট থেকে আলী ও দিদার আকবর শাহ এলাকা থেকে তুহিনকে এবং হাটহাজারি উপজেলার নাজিরহাট থেকে রিয়াজকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, মোবাইল ও স্বর্ণের চেইন উদ্ধার করা হয় এবং অন্যদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা সন্তোষ।

মতামত...