,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে নগর গোয়েন্দা পুলিশের গোপনে জিজ্ঞাসাবাদ সাবেক এসপি বাবুল আক্তারকে

বিশেষ সংবাদদাতা,  বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::  স্ত্রী খুনের ছয় মাস পর অবশেষে সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার কথা বলেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (উত্তর) মো. কামরুজ্জামানের সঙ্গে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাবুল আক্তার নিজেই সিএমপিতে কামরুজ্জামানের কার্যালয়ে হাজির হন।

অত্যন্ত গোপণীয়তার মধ্যে দিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা সিএমপিতে অবস্থান করেন স্ত্রী মিতু হত্যা মামলার বাদী বাবুল আ্ক্তার।
মামলার বাদী হিসেবে ডাকার পর তিনি বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রামে নগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে যান তিনি। সেখানে আইও মিতু হত্যা মামলার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত কথা বলেন বাবুল আক্তারের সঙ্গে। সোয়া ১২ টার দিকে কামরুজ্জামানের কক্ষ থেকে বের হয়ে প্রাইভেট কারে চড়ে বাবুল আক্তার সিএমপি ত্যাগ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

দীর্ঘদিনের কর্মস্থল সিএমপিতে গেলেও বাবুল আক্তার পুলিশ কমিশনার বা এডিশনাল কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেননি। আইওর সঙ্গে কথা বলেই প্রাইভেটকারে সিএমপি ত্যাগ করেন তিনি।

মামলা তদন্তে বাদী কোন সহযোগিতা করছেন না বলে একাধিকবার অভিযোগ করেছিলেন তদন্তকারী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান। এমনকি বাদির সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বাবুল আক্তারের সিএমপিতে যাওয়া প্রসঙ্গে আইও কামরুজ্জামান বলেন, ‘মামলার বাদী হিসেবে বাবুল আক্তারকে আমরা ডেকেছিলাম। আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি সিএমপিতে এসেছেন। আমি তাকে মিতু হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। যা যা জানতে চেয়েছি তিনি তার উত্তর দিয়েছেন। ‘

সূত্রমতে, নিজের কক্ষে কামরুজ্জামান একাই বাবুল আক্তারের সঙ্গে কথা বলেছেন। বাবুল আক্তার তদন্ত কর্মকর্তার অধিকাংশ প্রশ্নেই নিরুত্তর ছিলেন। মামলার বাইরে কোন কথা বলেননি।

চট্টগ্রাম নগরীর জিইসির মোড়ে চলতি বছরের ৫ জুন ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় প্রকাশ্যে বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে গুলি ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় বাবুল আক্তার নিজে বাদি হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

হত্যাকান্ডের পর গত ২৪ জুন রাতে বাবুল আক্তারকে রাজধানীতে তার শ্বশুরের বাসা থেকে তুলে নিয়ে টানা ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। মামলার বাদীকে আসামির মতো তুলে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করায় হত্যাকাণ্ডের কারণ নিয়ে দেশজুড়ে কৌতুহল সৃষ্টি হয়।

মিতু হত্যা মামলায় এই পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই মামলার দু’জন আসামি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে জানিয়েছে, মুছার নির্দেশে এবং তদারকিতে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

পুলিশের সোর্স মুছা বাবুল আক্তারের ঘনিষ্ঠজন বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে জবানবন্দি দেয়ার পর পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দু’জনের মৃত্যু নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ওঠে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়।

সূত্রমতে, মামলা নিয়ে আলাপের সময় বাবুল আক্তারের কাছে মুছার বিষয়ে জানতে চান তদন্তকারী কর্মকর্তা। কিন্তু তিনি কিছুই জানেন না বলে বক্তব্য দেন।

আলাপের শেষ পর্যায়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিজেই বাবুল আক্তারকে সিএমপি কমিশনার ইকবাল বাহার এবং উপ পুলিশ কমিশনার (ডিবি-উত্তর) পরিতোষ ঘোষের কাছে নিয়ে যাবার প্রস্তাব দেন। কিন্তু বাবুল আক্তার পরে আবারও আসবেন জানিয়ে দ্রুত সিএমপি ত্যাগ করেন।

মতামত...