,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে পাহাড়তলী কলেজের শিক্ষক খুনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ ছোট্ট বাথরুমের পানির ড্রামের ভেতরেই উপুড় অবস্থায় পাওয়া গেল এক কলেজ শিক্ষকের লাশ। পাশে থাকা চেয়ারের উপর ছড়ানো দুই পা একটি মোটা রশি দিয়ে শক্ত করে বাঁধা। সাদা রঙের এ নতুন রশি পেছানো পা দুটো চেয়ারের উপরে রাখা থাকলেও হাত দুটো ছিল পানির ড্রামের বাইরে। পাহাড়তলী কলেজের এ শিক্ষকের নাম ইকবাল হোসেন চৌধুরী (৫২)। এভাবে বাথরুমের পানির ড্রামে নিজে নিজে ঢুকে আত্মহত্যা করা কতটুকু সম্ভব? তাও আবার দুই পা নিজে (ভিকটিম) রশি দিয়ে বেঁধে। এ শিক্ষকের মৃত্যু নিয়ে অনেক প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পুলিশের তদন্তেই এসব প্রশ্নের উত্তর বেরিয়ে আসবে বলে জানান ইকবালের নিকট আত্মীয় ও স্থানীয়রা।

 বৃহস্পতিবার পৌনে তিনটার দিকে কলেজ শিক্ষক ইকবালের মরদেহ পায় তার পরিবারের সদস্যরা। এরপর পাঁচলাইশ থানা পুলিশ পাঁচটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে ইকবালের লাশ উদ্ধার করে। ইকবাল হোসেন চৌধুরী বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর গ্রামের মৃত মোহাম্মদ হোসেন চৌধুরীর ছেলে। তিনি নগরীর পাহাড়তলী কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন।

নগরীর আরাকান সোসাইটি আবাসিক এলাকার দুই নম্বর সড়কের জামান ভবনের তিনতলার ফ্ল্যাটে স্ত্রী ও এক মেয়ে সন্তান নিয়ে থাকতেন ইকবাল। তার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা রাঙ্গুনিয়া কলেজের শিক্ষক। মেয়ে আফিয়া ইকবাল নগরীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। স্থানীয়দের দেয়া তথ্য মতে, ইকবাল হোসেন বেশ ভাল মানসিকতার লোক ছিলেন। আশপাশের কয়েকজন দোকানদারের সাথে কথা বললে তারা ইকবাল হোসেন মানসিকভাবে কিছুটা বিপর্যস্ত ছিলেন বলে জানান। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ইকবাল হোসেন মাঝে মধ্যে মানসিক অশান্তির কথা তাদেরকে জানাতেন। ইকবাল হোসেন চৌধুরীর একমাত্র মেয়ে আফিয়া জানান, সকালে তিনি খালার বাসায় যাবার জন্য বাসা থেকে বের হচ্ছিলেন। এর কিছুক্ষণ আগে কলেজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যান তার মা। পাহাড়তলী কলেজ নগরীর ভেতরে হওয়ায় ইকবাল একটু দেরী করেই বাসা থেকে বের হন বলে জানান আফিয়া। তিনি বলেন, আমি বেরিয়ে যাওয়ার সময় বাবা তখন কলেজে যাবার জন্য প্যান্ট-শার্ট পরে তৈরি হচ্ছিলেন। তিনি আরো জানান, এর মধ্যে বাবার মোবাইলে ফোন করলে ফোন ধরছিলেন না তিনি। বিকেল পৌনে তিনটার দিকে আফিয়া খালার বাসা থেকে বের হয়ে দেখেন দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। বেশ কয়েকবার মোবাইলে কল দিলেও রিসিভ করেনি তার বাবা। দরজা ধাক্কা দেয়ার পরও কোন সাড়া শব্দ নেই বাবার। এসময় আফিয়া বিষয়টি ফোনে তার মাকে জানায়। তার মায়ের পরামর্শে আফিয়া প্রতিবেশী ও ভবনের নিরাপত্তারক্ষীকে ডেকে আনেন। তাদের সহায়তায় পরে তালা ভেঙ্গে বাসার ভেতরে প্রবেশ করেন আফিয়া ও অন্যান্যরা। প্রথমে তার বেডরুমে পরে দরজা খোলা বাথরুমের দিকে আসতেই পানির ড্রামের ভেতরে দেখা যায় তার লাশ। এরপর বাথরুম থেকে লুঙ্গি পড়া অবস্থায় তার লাশ বের করে আনেন ইকবালের তিন নিকট আত্মীয় ইনতিসার, ইশমাম ও জাবেদ চৌধুরী।

পুলিশের পাঁচলাইশ জোনের সহকারি কমিশনার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রাথমিকভাবে আত্মীয় স্বজনরা আত্মহত্যার কথা বলছেন। তবে আমাদের কাছে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। কারণ যে প্রক্রিয়ায় মরদেহটি পাওয়া গেছে সেভাবে কারও আত্মহত্যার সুযোগ আছে কিনা তা আরো তদন্ত করে নিশ্চিত হতে হবে। এদিকে ইকবালের মৃত্যুর খবর শুনে অনেক আত্মীয় স্বজন আসলেও কারো কাছ থেকে মৃত্যু শোকের বিষয়টি লক্ষ্য করা যায়নি। তবে স্ত্রী ও মেয়েকে শোকাহত দেখা গেছে। ওই বাসায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাহির থেকে বাসার ভেতরে ঢোকার দুইটি পথ রয়েছে। আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, জায়গা সম্পত্তিগত ব্যাপার নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে বিভিন্ন সময় সালিশ বৈঠকের আওয়াজ বাইরে আসত বিভিন্ন সময়। সংশ্লিষ্টদের মতে ইকবালের মৃত্যু নিয়ে কিছু প্রশ্নের অবকাশ থেকে যায়। এ প্রশ্নগুলোর উত্তর একমাত্র পুলিশী তদন্তই দিতে পারে। প্রশ্নগুলো হচ্ছে, কলেজে যাওয়ার জন্য রেডি হয়েও তিনি কলেজে যাননি কেন? মোবাইল ফোনে তাকে কি কেউ কলেজে না গিয়ে বাসায় অপেক্ষা করতে বলেছিলেন? কারও সঙ্গে পূর্ব শত্রুতা কিংবা জমিজমা নিয়ে বিরোধ ছিল কি? আড়াই হাত দৈর্ঘ্যের একটি পানির ড্রামে এ ধরনের কেউ কি আত্মহত্যা করতে পারে? নিজের পা নিজে বাঁধার পর উপুড় হয়ে ড্রামের ভেতরে ঢুকে যাওয়া কতটুকু সম্ভব? তাছাড়া তিনি আত্মহত্যাই যদি করতে চান তাহলে খালি বাসায় সিলিং ফ্যানের সাথেও ঝুলতে পারতেন না? আর শিক্ষিত মানুষ হিসেবে তিনি কি আত্মহত্যার আগে কোন চিরকুট লিখে দিয়ে যেতে পারতেন না?
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামলা তদন্তে মোবাইলের কল রেকর্ড ও লোকেশন এবং পা বাঁধার নতুন এ রশি গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ঘটনাস্থলে গিয়ে এসআই আবু তালেব মিয়া’র প্রস্তুতকৃত সুরতহাল রিপোর্ট ও সরেজমিনে দেখা গেছে নিহতের গলার নীচে বুকের উপর লম্বা দাগ, পায়ে আঘাতের দাগ ও পিঠে আঘাতের দাগ রয়েছে।

পাঁচলাইশ থানার ওসি (তদন্ত) গিয়াস উদ্দিন বলেন, ইকবাল হোসেন চৌধুরীর মৃত্যুর বিষয়টি স্বাভাবিক না অস্বাভাবিক সেটা তদন্তেই বেরিয়ে আসবে। তবে তদন্তের খাতিরে লাশের ময়না তদন্ত হবে বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

মতামত...