,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে পিডিবিতে চুক্তিতে ৪শ মিটার রিডার নিয়োগ পাচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ বিতরণ দক্ষিণাঞ্চল হিসেবে পরিচিত বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) চট্টগ্রামের অধীনে ৮ লাখ ৩৫ হাজার গ্রাহকের বিপরীতে মিটার রিডার আছেন মাত্র ৬৪ জন। অর্থাৎ প্রতি রিডারকে মাসে প্রায় ১৩ হাজার ৪৭ জন গ্রাহকের মিটার রিডিং সংগ্রহ করতে হচ্ছে। অথচ এই অঞ্চলের অধীনে মিটার রিডারের ১২৩টি পদ রয়েছে।

 মিটার রিডার সংকটের কারণে বিশাল এ অঞ্চলে কাজ করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে বর্তমানে কর্মরত মিটার রিডারদের। প্রায় সময়ই রিডাররা গ্রাহকের মিটার রিডিং না করেই অনুমান নির্ভর বিল ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।ফলে মিটার রিডার সংকটের এ দায় দিতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

তবে এবার গ্রাহকরা ন্যায্য দাম দিতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কেননা এই অঞ্চলে চুক্তিভিত্তিতে ৪০০জন মিটার রিডার নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাসিক ভিত্তিতে তারা কাজ করবেন।

পিডিবি সূত্র জানায়, চুক্তিভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া এসব রিডারদের মধ্যে জেলা পর্যায়ে যারা কাজ করবেন তারা প্রতি মিটার রিডিং এ তিন টাকা ৫০ পয়সা এবং বিল বিতরণে ২ টাকা ২৫ পয়সা করে পাবেন। অন্যদিকে উপজেলা পর্যায়ে যেসব রিডার কাজ করবেন তাদের প্রতি রিডিং এ চার টাকা এবং বিল বিতরণে ২ টাকা ২৫ পয়সা করে পাবেন।

চুক্তিভিত্তিতে জেলা পর্যায়ে নিয়োগ পাওয়া রিডাররা সর্বোচ্চ ১৭৫০ মিটার রিডিং এবং উপজেলা পর্যায়ে কাজ করা রিডাররা সর্বোচ্চ ১৫০০ মিটার রিডিং করতে পারবেন।

অর্থাৎ সর্বোচ্চ রিডিং করলে জেলা পর্যায়ে একজন রিডার প্রতি মাসে ১০ হাজার ৬৩ টাকা এবং উপজেলা পর্যায়ে একজন রিডার ৯ হাজার ৩৭৫ টাকা বেতন পাবেন।

পিডিবি চট্টগ্রামের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘মিটার রিডার সংকটে চুক্তিভিত্তিক ৪০০জন রিডার নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জুলাই মাসে এ সংক্রান্ত সার্কুলার প্রকাশিত হয়েছে। বতর্মানে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎ গ্রহণ সম্পন্ন করা হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।’

 প্রায় প্রতিমাসেই মিটার রিডিং না করে ভুতুড়ে বিল ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন গ্রাহকরা।

সর্বশেষ ৩ আগস্ট নগরের ২১টি সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় সভায় এই বিষয়টি তুলেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।

ভুতুড়ে বিল নিয়ে মেয়রের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পিডিবি চট্টগ্রামের প্রধান প্রকৌশলী মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রামের ৮ লাখ গ্রাহকের বিদ্যুতের মিটার দেখার জন্যে ৬ হাজার মিটার রিডার দরকার। কিন্তু বর্তমানে আছে মাত্র ৬৪ জন। তাই দু-একটি জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে বেশি বিদ্যুৎ বিল আসছে। যা পরবর্তী মাসগুলোতে সমন্বয়ের সুযোগ রয়েছে।

এত কম মিটার রিডার দিয়ে বিল তৈরি হচ্ছে জানার পর সভায় উপস্থিত সবাই বিস্ময় প্রকাশ করেন। এরপর মেয়র ভুতুড়ে বিল বন্ধে কার্যকর কোনো পরিকল্পনা নিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে প্রধান প্রকৌশলী প্রাথমিকভাবে আরও ৪০০ মিটার রিডার অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

মতামত...