,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে ফুটপাথ দখলের পর রাজপথের কিছু অংশও হকারদের দখলে!

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের ব্যস্ততম এলাকা বাদামতলী মোড়ে রাস্তায় এভাবেই হকাররা রাস্তার কিছু অংশ দখল করে পসরা সাজিয়ে ব্যবসা করছে। সম্প্রতিক তোলা ছবি- বিডিনিউজ রিভিউজ.কম

নাছির মীর,২৭ এপ্রিল, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: বানিজ্য রাজধানী চট্টগ্রামের প্রায় সকল রাজপথের ফুটপাথ হকারদের দখলে। পাথচারি চলাচলের এ জায়গার অলিখিত মালিক যেন তারাই।ভোর থেকে রাত অবধি তারা ফুটপাথে নানান পসরা সাজিয়ে ব্যবসা করছে।বর্তমান সময়ে এই হকারদের তোড়জোড় অনেক খানি বেড়েছে। ফুটপাত দখলের পর হকাররা এখন নগরীর বিভিন্ন সড়কের অংশ দখল করে পসরা সাজিয়ে ব্যবসা করতে দেখা যাচ্ছে! এদৃশ্য সবার নজর কাড়লেও যারা দেখার তারাই যেন চোখ বন্ধ করে আছেন!এতে নগরবাসীর অবাক হয়ে নির্বাক থাকিয়ে দেখা ছাড়া আর কিইবা করার আছে?

চট্টগ্রাম শহরের ফুটপাত ও সড়ক থেকে হকার উচ্ছেদে মেয়রের ঘোষণা বাস্তবায়ন না হওয়ায় হকাররা এখন সড়কও দখল করে নিচ্ছেন- এমন অভিযোগ নগরবাসীর!

ফুটপাত দখলের পর হকাররা এখন নগরীর বিভিন্ন সড়কের অংশ দখল করে ব্যবসা চালানোর ফলে ফুতপাথের পথচারিরা রাস্তায় নেমে জীবনের ঝুকি নিয়ে চলাচল করছে। এর ফলে, যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, পাশাপাশি যানজটের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বানিজ্য রাজধানী চট্টগ্রামের বিলবোডের্র পর হকারদের বিষয়টি নিষ্পত্তি করার ঘোষণা দিয়েছিলেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। তিনি হকারদের পরিকল্পিত পুনর্বাসনের উদ্যোগের কথা বলেছিলেন। এনিয়ে হকার নেতাদের সাথে একাধিকবার বৈঠকও করলেও পরবর্তীতে এ ব্যাপারে তেমন ক্রম-কান্ড চোখে প্রেনি আর।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহারও ঘোষণা দিয়েছিলেন নতুন বছরের পর থেকে সড়ক এবং ফুটপাতজুড়ে আর কোন ভাসমান দোকান থাকবে না। বছরের প্রথম দুই-তিন দিন সড়ক ও ফুটপাত ভাসমান দোকান উচ্ছেদে তৎপর ছিল। কিন্তু রহস্যজনক কারণে পুলিশ আবার নিরব হয়ে যায়। প্রশাসনের কোনো পক্ষ ই কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ায় দ্বিগুন উৎসাহে শহরে হকারের সংখ্যা বাড়ছে।

বানিজ্য রাজধানী চট্টগ্রাম শহরে হকারদের সুনির্দিষ্ট কোন পরিসংখ্যান নেই। তবে হকার নেতাদের ধারণা তাদের সংখ্যা আনুমানিক ৩০ হাজার হতে পারে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা, চট্টগ্রাম শহরের প্রায় সব ফুটপাথ দখল হয়ে থাকে। সেখানে সারি সারি হকারদের ভ্যান, দোকানপাট, গাড়ির স্ট্যান্ড। তাই পথচারীদের চলাচল করতে হয় যানবাহনের মধ্য দিয়ে। সিটি মেয়র বলেছিলেন হকারদের সংগঠনের নেতাদের সাথে আলোচনা করে পরিকল্পিতভাবে পুনর্বাসন করা হবে। শহরের নির্ধারিত একটি অংশে কিংবা সড়কে নির্ধারিত সময়ে তাদেরকে অস্থায়ীভাবে বসার সুযোগ করে দেয়া হবে। হকাররা নির্ধারিত সময়ে নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে ব্যবসা করে চলে আসবেন। যেহেতু সময় এবং স্থান নির্ধারণ করা থাকবে তাতে ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়ের সুবিধা হবে। তবে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন হকাররা। কারণ তাদের কাছে আর কেউ চাঁদা চাওয়ার সুযোগ পাবে না। একইসাথে তাদের নিরাপত্তাও বাড়বে।

জানা গেছে, বানিজ্য রাজধানী চট্টগ্রাম নগরীতে চারটি সংগঠনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় ভাসমান দোকান বসিয়ে হকাররা ব্যবসা পরিচালনা করে থাকে। মেট্রোপলিটন হকার্স সমিতি, হকার্স লীগ, ফুটপাত হকার্স সমিতি ও সম্মিলিত হকার্স ফেডারেশন নামের সংগঠনগুলো নগরীর বিভিন্ন এলাকার হকারদের নিয়ন্ত্রণ করে।এর সব কটিই ক্ষমতাসীন সরকারের  আশীরবাদ পুশঠ হওয়ায় এরা আশ্রস প্রশ্রয় পেয়ে আসছে বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় হকার সংগঠনগুলি নির্বিচারে চাঁদা আদায় করে। একাজে পিছিয়ে নেই পুলিশও। সব এলাকাতেই ফুটপাতের ভাসমান হকাররা চাঁদাবাজির শিকার। সিটি কর্পোরেশনের একাধিক ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা চাঁদাবাজির নেপথ্যে রয়েছেন বলে অভিযোগ। হকাররা জানান, তাদের বসার জন্য জায়গা নির্দিষ্ট করা, লাইটের ব্যবস্থা করা, হকারদের মধ্যে কোনো বিষয় নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে তা নিষ্পত্তি করা, ক্রেতার সঙ্গে কোনো ধরনের ঝামেলা হলে তা নিষ্পত্তি করা, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করাসহ বিভিন্ন অজুহাতে টাকা নেয়া হয়। একেকজন হকারের কাছ থেকে দৈনিক ২০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় হয়। নগরীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম এলাকা হিসেবে পরিচিত নিউমার্কেট মোড়, জুবিলি রোড ও স্টেশন রোডের প্রায় পুরোটাই হকারদের দখলে। এ দখলদারিত্ব দিনদিন বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, হকারদের ফুটপাত ও সড়ক দখলের কাজে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সমর্থন রয়েছে। ফুটপাতের ওপর দোকান নির্মাণ করতে গিয়ে নগরীর ইপিজেড এলাকায় সড়কের পাশে সিটি কর্পোরেশনের লাগানো শত শত গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। স্টেশন রোড ও নিউমার্কেট এলাকায় ফুটপাতের পাশাপাশি সড়কও স্থায়ীভাবে দখল করে ফেলা হয়েছে, যা পুলিশ উচ্ছেদ করতে পারেনি। নগরীর ষোলশহর বিপ্লব উদ্যান এলাকায় নালা ও ফুটপাত দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে শত শত দোকান। এছাড়া ভাসমান দোকানবহুল এলাকার মধ্যে রয়েছে : স্টেশন রোড, আন্দরকিল্লা জিইসি মোড় এলাকা, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, বন্দরটিলা, চকবাজার, দেওয়ানহাট, অলংকার মোড়, আগ্রাবাদ, পাহাড়তলী, এ কে খান মোড়, কর্নেলহাট, কোতোয়ালীর মোড়, ফিরিঙ্গিবাজার, জামাল খান, সিরাজউদ্দৌলা রোড ইত্যাদি বিভিন্ন স্পটে হকাররা পণ্যের পসরা নিয়ে বসে ব্যবসা করছে বছরের পর বছর ধরে।

মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, হকারদের জরিপ কাজ চলছে। জরিপশেষে তাদেরকে পরিচয়পত্র দেয়া হবে। তাদের বসার জন্য জায়গা চিহ্নিত করে নির্ধারিত সময়ের জন্য তাদেরকে বসতে দেয়া হবে। তাতে ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়ের লাভ হবে। প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার জন্য এক জায়গায় গেলে সব পেয়ে যাবে। অপরদিকে বিক্রেতার লাভ হলো কম সময়ে বেশি ক্রেতা পাবে। কাউকে কোনো চাঁদা বা ভাড়া দিতে হবে না। তাতে তার খরচও বাঁচবে। সিএমপি’কে সাথে নিয়েই হকার ব্যবস্থাপনার কাজটি করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

মতামত...