,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে ফ্লাইওভার রাজনীতি আওয়ামি লীগে ছায়ার সঙ্গে যুদ্ধ

fly ovr kdmনাছির মীর, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ চট্টগ্রাম, বানিজ্য রাজধানী খ্যাত বন্দরনগরী চট্টগ্রামে আওয়ামিলীগে শুরু হয়েছে ফ্লাইওভার রাজনীতি! ফ্লাইওভার রাজনীতি নিয়ে ইতিমধ্যে আওয়ামি লীগে ছায়ার সঙ্গে যুদ্ধ লিপ্ত হয়েছে। চট্টগ্রাম তো বটেই সারা দেশে এনিয়ে আলোচনা -সমালোচনা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় মিটিং – মিছিল, সড়ক – মহা সড়ক অবরোধের ঘটনা ও ঘটেছে।

বহদ্দারহাট ও কদমতলী উড়াল সড়ক সবে মাত্র যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হইয়েছে । দ্রুত গতিতেই  কাজ এগিয়ে চলছে চট্টগ্রামের দীর্ঘতম মুরাদপুর-লালখান বাজার ফ্লাইওভারের । এতে নগরীর সৌন্দর্য বর্ধনের সাথে যানজটও কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। তবুও এসব স্থাপনা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলছে ক্ষমতাসীনদের একাংশ।

যারা নগরীতে উড়ালসড়ক নির্মাণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তারা বহদ্দারহাটে ধসের ঘটনা সামনে এনে নানা কথা বলছেন। তাদের দাবি, বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যয়ে এসব ফ্লাইওভার জনগণের কোন কাজে আসেনি। শুধু এক শ্রেণির ব্যবসায়ীর পকেটে টাকা গেছে।

 শনিবার  (৯ এপ্রিল) চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে গোলটেবিল আলোচনায় ফ্লাইওভার নিয়ে নানা কথার জেরে প্রায় হাতাহাতির পর্যায়ে চলে যান গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন এবং চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য আফছারুল আমীন। তবে পরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলমের হস্তক্ষেপে শান্ত হন আফছারুল আমীন।

পুরো ঘটনা চলাকালে দুই নেতার পাশেই উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম। উড়ালসড়ক নির্মাণের মূল নায়ক হিসেবে তাকেই ধরা হয়। ২০১০ সালের গোড়ার দিকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে প্রায় ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার। দ্বিতীয় ফ্লাইওভার নির্মাণ হয় যানজট কবলিত আরেক মোড় কদমতলিতে।

flyover ctgসিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে যখন ক্ষমতায় আসেন তখন চট্টগ্রাম ছিল গিঞ্জি নগরী। সড়গুলো ছিল সরু। যানজটে নাকাল ছিল নগরবাসী। সে সড়ককে দ্বি-মুখীসহ সম্প্রসারণের পাশাপাশি যানজট কবলিত স্থান হিসেবে বহদ্দারহাটে ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়। বলতে গেলে এটা ছিল প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ’।

আবদুচ ছালাম বলেন, ‘অভিজ্ঞতার ঘাটতির কারণে হয়তো বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারে দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু কোন রকম অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়নি। এই উড়ালসড়ক দিয়ে গাড়ি চলে না- নিন্দুকদের এমন দাবি অপপ্রচার। এই সড়ক উদ্বোধনের পর বহদ্দরহাটে যানজট কমেছে। কদমতলিতেও এখন যানজট নেই বললেও চলে। মুরাদপুর ফ্লাইওভার নির্মাণ শেষ হলে সেখানেও যানজট কমে যাবে। তাছাড়া এই উড়ালসড়কের কারণে নগরীর সৌন্দর্যও বেড়েছে’।

গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘কিছু ফি দিলে চুয়েট-বুয়েট নিজেদের অনুকূলে সমীক্ষা প্রতিবেদন দেয়। বহদ্দারহাট ও কদমতলি ফ্লাইওভারে তেমন গাড়ি উঠে না। গাড়ি না উঠলে তো এক পর্যায়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো এগুলো ভেঙে ফেলতে হবে’।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মাহমুদ ওমর ইমাম বলেন, ‘নগরে ব্যক্তিগত ও গণপরিবহনের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। আবার ধীরগতির যানবাহনের (বিশেষ করে রিকশা) কারণে সড়কের অন্য গাড়ির চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এসব কারণে ফ্লাইওভারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। চট্টগ্রামের দীর্ঘতম মুরাদপুর-লালখান বাজার ফ্লাইওভারের শহরের যান ঝট লাগব করবে অনেক খানি আর  ফ্লাইওভার দিয়ে ধীরগতির যানবাহন চলাচল করতে পারে না’।

উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে নেতাদের দ্বন্দ্বে বিব্রত আওয়ামী লীগের কর্মীরা। তারা বলছেন, বিরোধী দল না থাকায় ক্ষমতাসীন দলের লোকজন নিজেরাই নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারে দিনের বেলায় অটোরিকশা, প্রাইভেট কার, ও কোন কোন ক্ষেত্রে মিনিবাস চলছে। রাতের বেলায় মালবাহী ট্রাক ও দূরপাল্লার বাসও চলে বলে জানান স্থানীয়রা।

চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব বেলায়েত হোসেন বলেন, যে বহদ্দারহাট ও কদমতলি ফ্লাইওভার থেকে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে গাড়ি ওঠা-নামার ব্যবস্থা রাখা হয়নি। গাড়ি ওঠা-নামার ব্যবস্থা রাখা হলে যানবাহন চলাচল বেড়ে যেত।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রকৌশলী আমির হোসেন  বলেন, ‘ফ্লাইওভারগুলো যখন নির্মাণ করা হচ্ছিল তখন ছিল প্রয়োজনীয়তা। এখন যা বলা হচ্ছে, তা হচ্ছে চাহিদা। বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারটি কালুরঘাট সড়কমুখী করা হলে সে চাহিদা পূরণ হবে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) সেখানে নতুন একটি র‌্যাপ নির্মাণ (শুধু নামার পথ) করার উদ্যোগ নিয়েছে।

বিএন আর/০০১৬/০০৪/০০১২/০০৪৯৩৭/এস

মতামত...