,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতালে তালা

নিজস্ব প্রতিবেদক,২৪মার্চ, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::  বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (ইউএসটিসি ) কর্তৃপক্ষ কথা দিয়ে কথা না রাখায় বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতালে তালা লাগিয়ে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির রেজিস্ট্রেশনের দাবিতে আন্দোলনরত এমবিবিএস কোর্সের শিক্ষার্থীরা। এরআগে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা দুই দফা ইনডোরে রোগী ভর্তি ও জরুরি বিভাগের সেবা কার্যক্রম বন্ধ রাখলেও এবার রেজিস্ট্রেশন না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য হাসপাতালের মূল ফটকে তালা ঝুলে থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে শিক্ষার্থীরা হাসপাতালের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। এরআগে হাসপাতালের ইনডোরে ভর্তি থাকা রোগীদের ছাড়পত্র দিয়ে বের করে দেন হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা। ইনডোরে কোনো রোগী ভর্তি নেই বলে গতকাল সন্ধ্যায় ফোনে সুপ্রভাতকে জানিয়েছেন হাসপাতালের মহাপরিচালক ডা. বদিউল আলম।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ক্যাম্পাসে জমায়েত হয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। মিছিল নিয়ে তারা নেমে আসেন রাস্তায়। প্রখর রোদ মাথায় নিয়ে নগরীর খুলশী জাকির হোসেন সড়কে ইউএসটিসি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এসময় তারা ইউএসটিসির ভিসি (উপাচার্য) প্রফেসর প্রভাত চন্দ্র বড়-য়ার পদত্যাগ দাবি করে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন কটূক্তিমূলক স্লোগান দেয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে সড়কে বিক্ষোভ করতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।
পরে তারা ক্যাম্পাসের প্রবেশমুখে অবস্থান  নেন। এসময় সেখানে গিয়ে হাজির হন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) চট্টগ্রাম জেলা কমিটির কয়েকজন নেতা। সংগঠনটির কোষাধ্যক্ষ ডা. আরিফুল আমীন শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনে বিএমএ’র পাশে থাকার কথা জানিয়ে তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ যেহেতু ভিন্ন কৌশল নিয়েছে, তাই তোমাদেরকে আন্দোলন আরও জোরদার করতে হবে। অন্যথায় দাবি আদায় হবে না।’
ইউএসটিসি কর্তৃপক্ষ আন্দোলন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ষড়যন্ত্র করছে বলে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করেন এ বিএমএ নেতা।
প্রায় আড়াই মাস ধরে আন্দোলন করে আসছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। প্রথম দিকে তারা খুলশী জাকির হোসেন সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছিলেন। গত এক মাস রাস্তা ছেড়ে কেবল ক্যাম্পাসের প্রবেশমুখে আন্দোলন করেছিলেন তারা। কিন’ গতকাল থেকে তারা আবার জাকির হোসেন সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নেমেছেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আরফাত হোসেন ও মোশারফ তানভীর বলেন, ‘এবার রেজিস্ট্রেশন না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়বো না, হাসপাতালের তালাও আর খোলা হবে না।’
আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া একজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের ওপর আমাদের আর আস’া নেই। তারা তাদের ব্যক্তি স্বার্থ রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করছেন না। আমাদের পিট দেয়ালে ঠেকে গেছে। তাই দাবি আদায়ে সামনে আমরা যেকোনো পন্থা অবলম্বন করতে বাধ্য হবো।’
এমবিবিএস কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তিতে ‘অনিয়মের দায়ে’ সবাস্থা মন্ত্রণালয়ের ধার্য্যকৃত ১০ কোটি টাকা জরিমানা বুধবার পরিশোধ করার কথা ছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। তারা জরিমানা পরিশোধ না করে সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের দ্বারস’ হয়েছেন।
গত রোববার প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে একটি আবেদন করেছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালটির ট্রাস্ট্রি বোর্ডের চেয়ারম্যান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী বরাবর এ আবেদনপত্রে তারা শিক্ষার্থীদের বিএমডিসির রেজিস্ট্রেশনের বিষয়ে বিভিন্ন যুক্তি ও ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। স্বাস’্য মন্ত্রণালয়ের সভায় ধার্য্যকৃত ১০ কোটি টাকা জরিমানা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানানো হয়। ইউএসটিসি কর্তৃপক্ষের এ আবেদনটি পুনর্বিবেচনা করতে বুধবার প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে স্বাস’্য মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয় বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
ইউএসটিসির এমবিবিএস কোর্সের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষ থেকে ‘নীতিমালা না মেনে’ শিক্ষার্থী ভর্তি করার অভিযোগে পাঁচ ব্যাচের মোট ১ হাজার ৩০৯ জন শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন করাতে অপারগতা প্রকাশ করে বিএমডিসি। এমবিবিএস কোর্সের এসব শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা আন্দোলনে নামে। গত ১১ জানুয়ারি থেকে তারা আন্দোলন চালিয়ে আসছে।
উল্লেখ্য, এমবিবিএস পাশ করা একজন শিক্ষার্থী বিএমডিসির রেজিস্ট্রেশন ছাড়া বৈধভাবে কোনো হাসপাতালে ইন্টার্নি এবং রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে পারে না।

মতামত...