,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে বন্য শূকর শিকারের বৈদ্যুতিক ফাঁদে ৩ বন্য হাতির মৃত্যু

নিউজ ডেস্ক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::চট্টগ্রামের লোহাগাড়া ও রাংগুনিয়ায় বন্য শূকর শিকারে বসানো বৈদ্যুতিক তারের ফাঁদে জড়িয়ে লোহাগাড়ায় দু’টি এবং রাঙ্গুনিয়ায় একটি বন্য হাতির মারা পড়েছে।

লোহাগাড়ায় গত ২৪ নভেম্বর দিবাগত রাতে বড়হাতিয়া কুমিরাঘোনার মরিশ্চা খোলা নামক দু’টো বন্য হাতির মৃত্যু হয়েছে। এ জায়গায় জনবসতি নেই। ঝোঁপ–জঙ্গল–বেষ্টিত টিলা এবং সামান্য ব্যবধানে রয়েছে পাহাড়–পর্বত, যা বাঁশখালীর জলদীর সীমানা সংযুক্ত। মাঝে–মধ্যে রয়েছে ক্ষেত খামার।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বছরের বিভিন্ন সময়ে রাতের অন্ধকারে বন্যহাতি ও শুকর এসে বিভিন্ন ফসলাদির ক্ষেত নষ্ট করে। এ কারণে পাশ্ববর্তী স্থানের কতিপয় লোক বন্য হাতি শিকারের জন্য বিভিন্ন কায়দায় ফাঁদ বসায়। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক তারের ফাঁদই তারা বেশি বসিয়ে থাকে। সম্ভবতঃ ওই রাতে ফাঁদ বসানোহয়েছিল। বাচ্চাসহ মা হাতি ক্ষেতে হানা দিতে এলে তারা বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে ঘটনাস্থলে মারা যায়। ভোরে হাতির মৃত দেহ স্থানীয়দের দৃষ্টিগোচর হলে দ্রুত সংবাদটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। বন বিভাগের লোকজন পরে হাতির ময়না–তদন্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

বড়হাতিয়া বন বিট কর্মকর্তা মো. ইউনুস জানান, তিনি ২৪ নভেম্বর এ নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। হাতির মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন করতে তাঁর একটু সময়ের প্রয়োজন। তিনি আরো জানান, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত কাজে কোন ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য তাঁকে প্রভাবিত করতে পারবে না।

রাঙ্গুনিয়ায় বন্যহাতির হানা থেকে আমন ধান রক্ষা করতে কাপ্তাইয়ের রাইখালী ইউনিয়নের ডংনালা পাহাড়ি এলাকার ধান ক্ষেতের চতুর্পাশে বিদ্যুতের তারের ফাঁদ পেতেছিল কৃষকরা। শুক্রবার রাতে এই বিদ্যুৎ ফাঁদে স্পৃষ্ট হয়ে একটি বন্যহাতির মৃত্যু ঘটেছে।  শনিবার ২৫ নভেম্বর সকালে মৃত হাতিটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তশেষে মাটিচাপা দিয়েছে বনবিভাগ।

স্থানীয়রা জানায়, কাপ্তাইয়ের রাইখালী ইউনিয়নের ডংনালা লম্বাঘোনা এলাকায় প্রতিবছর আমন ধান পাকলে বন্য হাতির দল হানা দেয়। শুক্রবার রাতের কোন একসময়ে বন্য হাতির দল ধান ক্ষেতে হানা দেয়ার চেষ্টা করলে বিদ্যুতের তারের সাথে জড়িয়ে একটি বড় সাইজের হাতির মৃত্যু ঘটে। সকালে খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান।

কাপ্তাই পাল্পউড বাগান বিভাগের ডিএফও মো. রুহুল আমিন, এসিএফ জিএম রফিক আহমদ ও রাইখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল হাই মৃত হাতিটি উদ্ধার করেন।

কাপ্তাই উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. তাহমিনা আরজুর মাধ্যমে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে বনকর্মকর্তারা স্থানীয়ভাবে মৃত হাতিটি মাটিচাপা দেন। হিট স্ট্রোকে হাতিটির মৃত্যু ঘটেছে বলে স্থানীয় কয়েকজন কৃষক দাবি করলেও বনবিভাগ বলছে ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। যদি বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু ঘটে তাহলে অবৈধ ফাঁদ পাতার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডংনালা গ্রামের কৃষক নুরুল আলম জানান, চলতি মৌসুমে আমন ক্ষেতে বন্য হাতির দল কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে ক্ষেতে তান্ডব চালিয়ে ব্যাপক ক্ষতি করেছে। ডংনালা গ্রামের কয়েকশ’ একর আমন ক্ষেত ঘরে তুলতে পারবে না কৃষকরা। বাঙ্গালহালিয়া বন স্টেশন কর্মকর্তা ফরেষ্টার কনক বড়–য়া জানান, পাহাড়ে খাদ্য সংকট ও আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে বন্য হাতি বেপরোয়া হয়ে লোকালয়ে ছুটে আসছে। বন্য হাতি থেকে কৃষকের ফসল রক্ষায় বনবিভাগ বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়ার পরও হাতির তা–ব কমছে না। গত বুধবার রাতে বন্য হাতির এই দলটি কোদালার এক খামার বাড়িতে মো. সোনা মিয়া নামের এক কৃষককে পায়ে পিষ্ট করে হত্যা করেছে।

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল আলম বিদ্যুতের ফাঁদে হাতি মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ধরণের অবৈধ ফাঁদ উচ্ছেদে উদ্যোগ নেয়া হবে। মৃত হাতিটিকে গর্ত করে মাটিচাপা দিতে বন বিভাগকে বলা হয়েছে।

মতামত...