,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে বিএমএ নির্বাচন লড়াই যেন নগর আ’লীগের ২ শীর্ষ নেতার

নিউজ ডেস্ক,২২ ডিসেম্বর,বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: অনিশ্চয়তা ও শুরু থেকেই বিভিন্ন নেতিবাচক ঘটনা ছাপিয়ে অবশেষে আজ ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পেশাজীবী চিকিৎসকদের (ডাক্তারদের) বহু কাঙ্খিত বিএমএ (বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন) নির্বাচন। নগরীর জামালখানস্থ ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল সাড়ে আটটা থেকে এ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হবে। চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। প্রথমবারের মতো ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ ও বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের মাধ্যমে অভাবনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবারের বিএমএ নির্বাচন। বিএমএ চট্টগ্রামের নির্বাচনী ইতিহাসে তাদের ঘরের বাইরে প্রথম নির্বাচনও এটি। এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে সরকার দলীয় চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাচিপ (স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ) চট্টগ্রাম শাখার দু’টি প্যানেল। এর একটির নেতৃত্বে রয়েছেন ডা. মজিবুল হক খান ও ডা. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী। আর অপর প্যানেলের নেতৃত্বে রয়েছেন ডা. নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান। কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি প্রার্থী ডা. শেখ শফিউল আজমও আছেন এই প্যানেলে। বিএনপি ও জামায়াত পন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাব ও এনডিএফ নির্বাচন বয়কট করায় সরকারদলীয় এই চিকিৎসকরাই কেবল নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বী। এর মাঝে ডা. মুজিব- ডা. ফয়সাল প্যানেলে আনুষ্ঠানিক সমর্থন রয়েছে বর্তমান সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছিরের। অন্যদিকে, ডা. নাছির-ডা. মিনহাজ প্যানেলকে সমর্থন দিয়েছেন সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। বর্তমান ও সাবেক মেয়রের সমর্থনেই কার্যত স্বাচিপ’র এই দুই প্যানেলের নির্বাচনী লড়াই পেয়েছে ভিন্ন মাত্রা। এর ফলে এ লড়াই কেবল ডাক্তারদের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকেনি আর। পরতে পরতে যোগ হয়েছে রাজনৈতিক রং। আর এই রাজনৈতিক আবরণেই ঘটে গেছে নানা বিতর্কিত ঘটনা। যা বিএমএ’র নির্বাচনী ইতিহাসে আর ঘটেনি বলে স্বীকার করেছেন খোদ প্রার্থী ও চিকিৎসকরাই।
আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে পেশাজীবী চিকিৎসকদের সংগঠনটির নির্বাচন। চট্টগ্রামের ৪ হাজার ৪৪২জন ভোটার এ নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়- ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে কেন্দ্রের ৩২টি কক্ষে স্থাপন করা হয়েছে বুথ। ৯৬ জন পোলিং অফিসার ও ৬৪ জন এজেন্ট ভোটগ্রহণের দায়িত্বে থাকবেন। একজন ভোটার কেন্দ্রীয় বিএমএ কার্যনির্বাহী কমিটির ৪৩টি, কাউন্সিলর পদে ৪৪টি আর বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির ২৩টি পদসহ মোট ১১০টি ভোট দেবেন। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিএমএ নির্বাচন কমিশন, পুলিশ ও প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচনে কোন ধরণের অরাজক পরিস্থিতি বরদাস্ত করা হবে না মন্তব্য করে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণের জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন চট্টগ্রামের জেলাপ্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন ও পুলিশ কমিশনার মো. ইকবাল বাহার। নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে এসে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট প্রদানের জন্য ডাক্তার সমাজের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন তাঁরা। এদিকে, সুষ্ঠু নির্বাচনে নিজ নিজ প্যানেলের জয়ের প্রত্যাশা করেছে দুই পক্ষই।
ডাক্তারদের এ নির্বাচনে এবার মূল ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছেন চট্টগ্রামের বর্তমান ও সাবেক মেয়র। দু’জনই আবার মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদাধিকারী। একজন সভাপতি, অন্যজন সাধারণ সম্পাদক। ফলে ডাক্তারদের এ নির্বাচনী লড়াই এখন যেনো পুরোদস্তুর রাজনৈতিক। যা মহানগর আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতার মর্যাদার লড়াই বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
ডা. মুজিব-ফয়সাল প্যানেলই। তারাই প্রথম (২২ নভেম্বর) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে বর্তমান সিটি মেয়রের মাধ্যমে নিজেদের প্যানেল ঘোষণা করান। এরপরই মূলত নড়াচড়া শুরু করে অপর পক্ষটি। এর দুইদিন পরই (২৪ নভেম্বর) সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসায় যান ডা. নাসির-মিনহাজ প্যানেলের নেতাকর্মীরা। সেখানে এই নেতার সমর্থন চান তাঁরা। আলোচনায় সাবেক মেয়র তাদের সমর্থন দেন বলে দাবি প্যানেলটির। যদিও এর ২/১ দিন পর ডা. নাছির-মিনহাজ প্যানেলের সবাইকে নিজের বাসায় ভূরিভোজ করান সাবেক মেয়র। এর মাধ্যমে এই প্যানেলকে সমর্থন দেয়ার বিষয়টি প্রকাশ পায়। এছাড়া গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনসহ আরো একাধিক রাজনৈতিক নেতার শরণাপন্ন হয় এই প্যানেলটি। পরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজেদের প্যানেল ঘোষণা করে ডা. নাসির-মিনহাজ পরিষদ।

সংবাদ সম্মেলনে অবশ্য সাবেক মেয়র বা কোন মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না। তবে দিন গড়ানোর সাথে সাথে এই নির্বাচনী লড়াইয়ে রাজনৈতিক আবরণ শক্ত হতে থাকে দিনে দিনে। রাজনৈতিক বিভিন্ন নেতার সমর্থনের খবর প্রচার করতে দেখা গেছে উভয়ই প্যানেলকেই। এ যেনো নেতাদের সমর্থন আদায়ের প্রতিযোগিতা। বসেছিলেন না নেতারাও। তাঁরাও বিভিন্ন স্থানে নিজেদের সমর্থনপুষ্ট প্যানেলের জন্য প্রকাশ্যে ভোট চেয়েছেন। বিশেষ করে বর্তমান সিটি মেয়র নিজের সমর্থন দেয়া প্যানেলের জন্য ভোট চেয়েছেন প্রকাশ্যেই। যদিও সে পথে হাঁটতে দেখা যায়নি সাবেক মেয়রকে। তিনি সমর্থন দান ও ভোট চাওয়ার ক্ষেত্রে ঘরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন। বাইরে প্রকাশ্যে এ নিয়ে তাঁকে কথা বলতে দেখা যায়নি।
পেশাজীবী চিকিৎসকদের এ নির্বাচনে এভাবে রাজনৈতিক আবরণ জড়ানোর বিষয়ে অবশ্য একে-অপরকে দুষছে দুই পক্ষই।

ডা. নাছির-মিনহাজ প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী ডা. নাসির উদ্দিন মাহমুদের দাবি- ওই প্যানেলই ডাক্তারদের এ নির্বাচনকে চরম মাত্রায় রাজনৈতিক আবরণে মুড়িয়েছে। তাঁরা একজন নেতাকে দিয়ে সর্বপ্রথম আনুষ্ঠানিক ভাবে প্যানেল ঘোষণা করিয়েছেন। যার ফলে তাঁরাও সাবেক মেয়রসহ অন্য নেতৃবৃন্দের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়েছেন। আশ্রয় প্রার্থী হয়েছেন। তবে এমনটি মানতে নারাজ ডা. মুজিব-ফয়সাল প্যানেলের নেতা-কর্মীরা। এই প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক ডা. মো. শরীফের দাবি- বর্তমান সিটি মেয়র দীর্ঘদিন ধরে মেডিকেল কলেজ ও চিকিৎসকদের সুখে-দুঃখে পাশে আছেন। তাঁকে দিয়ে প্যানেল ঘোষণাও নতুন নয়। আগেও এমন ঘোষণা হয়েছে। বরং অপর প্যানেলই বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও মন্ত্রীর কাছে গিয়ে ছবি তুলে প্রচার করেছে। তাঁদের সমর্থন দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন। যদিও এবারের নির্বাচন ঘিরে যা হয়েছে তা কোন ভাবেই প্রত্যাশিত নয় বলে অভিমত এই চিকিৎসক নেতার। ডাক্তারদের নির্বাচন নিয়ে এভাবে রাজনীতিতে জড়ানো কোন ভাবেই উচিত হয়নি বলেও মন্তব্য বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার সদ্য প্রাক্তন এই সাধারণ সম্পাদকের।
দুই প্যানেলের প্রতি দুই নেতার আনুষ্ঠানিক সমর্থনের ফলে এ নির্বাচন অনেকটা বর্তমান ও সাবেক মেয়রের লড়াইও বলা যায় বলে স্বীকার করেছেন ডা. নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও ডা. মো. শরীফ। অবশ্য, ডাক্তারদের নিজেদের কারণেই পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌছেছে বলে অভিমত এই দুই চিকিৎসক নেতার। তবে আর যাই হোক, এই লড়াইয়ে কে জেতে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় নগরবাসীও। খুব বেশি নয়, অপেক্ষার প্রহর বড়জোর আজকের দিনটাই।

মতামত...