,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে বিদেশ নেয়ার নামে ৫ কোটি টাকার প্রতারনা,৩ আটক

aনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃচট্টগ্রাম, তিনি ইন্টারন্যাশনাল এন্টিক কয়েন ব্যবসায়ী, রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী, জমির ব্রোকার ও কন্সালটেন্সি ফার্মের মালিক, একটি ফোন কলেই নাকি সরকারি দলের বহু রথী মহারথী মুহূর্তেই হাজির হন! এমনটি বলেই পুলিশ কে বাগে আনার ব্যর্থ চেষ্টা করলেন- গ্রেফতারকৃত বহুরূপী প্রতারক শিমূল কান্তি ধর। বহুরূপী প্রতারককে  গ্রেফতারের পর পুলিশী তদন্তে  শুধু চট্টগ্রামেই ২২ জনের কাছ থেকে সে বিদেশে পাঠানোর নাম করে প্রায় ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এসময় তার দুই সহযোগী অমিত দাশ (২৪) ও মো: আইয়ুবকে(৪৫)গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাকে ছেড়ে দেয়ার জন্য শেখ রেহেনা ও শেখ সেলিমের ভয় দেখানো হয় পুলিশ কে। তাতে চিড়ে না ভিজলে অবশেষে ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বশির উদ্দিন আহমেদ খানকে ফতেয়াবাদে তার কেনা জমিটা লিখে দেয়ার টোপ দেন। দুর্ভাগ্য তাতেও কাজ হয় নি।

 মাহমুদুল হক ভূঁইয়া নামের এক পাওনাদার বাদি হয়ে   ডবলমুরিং থানায় মামলা (নং ২) দায়ের করেন। এ প্রসঙ্গে ওসি ডবলমুরিং বলেন,প্রতারণা যে কত ধরনের হতে পারে, তার একটি নজির সৃষ্টি করেছে শিমুল। সহজ সরল মানুষ পেলে এরা তাকে বিভিন্নভাবে ভয় দেখিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করে।

ঘটনার বিবরণে মামলার বাদী মাহমুদুল হক ভূঁইয়া  জানান, প্যানাসনিক পাওয়ার ডিভিশনের প্রতিষ্ঠাতা মাহমুদুল হক র্ভূঁইয়া থানায় অভিযোগ করেন যে, তিনি আবু ইউসুফ, মো: জহুরুল হক মৃধা ও মো: আজাদের সাথে মাস দুয়েক আগে মো: আইয়ুবের মাধ্যমে শিমুলের সাথে পরিচয় হয়। শিমুল জানায়, সে নিউজিল্যান্ড, কানাডা, আস্ট্রেলিয়াসহ পশ্চিমা বিভিন্ন দেশের এন্টিক কয়েনের ব্যবসার সুবাদে অতি সহজে ম্যান পাওয়ার সাপ্লাইকরণসহ ইমিগ্রেশন ভিসা প্রদান করে। তাকে চারজনে ৫ লাখ করে মোট ২০ লাখ টাকা দেয়। এছাড়া জহুরুল কাইয়ুম নামে অপর একজনকে নিউজিল্যান্ডে ইমিগ্র্যান্ট সিটিজেনশিপ দেয়ার কথা বলে দুই লাখ টাকা নেয়। এরপর থেকে তার আর কোন খোঁজ নেই। টাকা দিলেন কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাই আমি নিজে ইঞ্জিনিয়ার। ছেলেটাও পড়ছে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। চেয়েছিলাম তাকে যদি বিদেশে সেটেল করা যায়, তবে ছেলেটার একটা গতি হয়। তিনি আরো জানান, আমরা ছাড়াও সিলেটের এক ব্যবসায়ীর খোঁজ পেয়েছি, যার থেকে শিমুল একই কথা বলে ২০ লাখ টাকা নিয়েছে।

ওসি ডবলমুরিং বলেন, আমরা ৩ এপ্রিল রাত আটটার দিকে খবর পাই যে, শিমুল তার দুই সহযোগীসহ সেন্টমার্টিন হোটেলের ৪০৩ নং রুমে অবস্থান করছে। সাদা পোশাকে আমার টিম তাদের হাতেনাতে গ্রেফতার করে। এসময় শিমুল ও অমিত বেশ প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করে। শেখ সেলিম স্যার ও শেখ রেহানা ম্যাডামের নাম করে ভয় ভীতি দেখায়। আমরা বুঝতে পারি এটাও প্রতারণার আরেকটি কৌশল। তাদের আটক করে নিয়ে আসি। এসময় অমিত নিজেকে ছাত্রলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে বলে, শিবির জবাই করার পরও তার কিছু করতে পারে নি কোন প্রশাসন। এসব বলে লাভ না হওয়ায় শিমুল আমাকে তার জমি লিখে দেয়ার অফার করে। আমরা কোন কিছু না শুনে তাদের গ্রেফতার করে নিয়ে আসি।

বি এন আর/০০১৬/০০৫/০০৪/০০০৪৮০৫/ এন

মতামত...