,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে বিনা চিকিৎসায় নির্যাতিত প্রতিবন্ধি শিশু, বহাল তবিয়তে সেই ইছহাক

aনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামে প্রকাশ্যে প্রতিবন্ধি শিশু নির্যাতনকারী কথিত যুবলীগ নেতা সেই ইছহাক বহাল তবিয়তে। পুলিশি নিস্ক্রিয়তার কারণে অপরাধ করেও এখন দিব্যি দোকানদারী করছে সে। অপরদিকে বিনা চিকিৎসায় নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে যন্ত্রনায় কাতর হয়ে নিজ বাড়ীতে পড়ে আছে নির্যাতিত শিশু মিনহাজ।

শিশু মিনহাজকে নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এবং মিডিয়ায় তোলপাড় ফেললেও তা গায়ে মাখছেন না চট্টগ্রামের পুলিশ প্রশাসন। অভিযোগ রয়েছে মোটা অংকের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে পেরেছে অপরাধিরা।

মিনহাজের চাচার সাথে আইপিএল’র বাজিতে হেরে চুরির অপরাধে নির্মম নির্যাতন করার পরেও আইনের ফাঁকে মাত্র আটকের দিনই ছাড়া পায় নির্যাতনকারী ইছহাক।

ছাড়া পাওয়ার পরই এলাকায় ফিরে হুমকি দিতে থাকে মিনহাজের আত্মীয় স্বজনকে। পুলিশের সাথে যোগসাজস করে বিনা চিকিৎসায় মিনহাজকে পাঠিয়ে দেয়া হয় তার গ্রামের বাড়ী আনোয়ারা বুরুমছড়ায়। নগরীর কোন হাসপাতালে যাতে চিকিৎসা নিতে না পারে সে জন্য ইছহাকের সহযোগিরা বসায় কড়া নজরদারী।

বর্তমানে অর্থাভাবে বিনা চিকিসায় পড়ে আছে মিনহাজ। নির্যাতনের যন্ত্রনায় কাতর মিনহাজের প্রতিটা মুহুর্ত কাটছে কষ্ঠ আর আতংকে। শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্নগুলো কালছে বর্ণ ধারন করেছে।

মিনহাজের বড় ভাই মিজান জানান, টাকার অভাবে তার চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পুলিশ নগরীতে চিকিৎসা নিতে দেয়নি। নির্যাতনকারীর সাথে হাত মিলিয়ে মিনহাজকে গ্রামে নিয়ে আসতে বাধ্য করে। এ জন্য থানায় সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়া হয়। মিজান আরো জানান, পুলিশ আমাদের কাছ থেকে মামলা নেয়নি। এমনকি মিনহাজের চিকিৎসার জন্য কোন ক্ষতিপূরনও দেয়া হয়নি। শুনেছি আসামীর সাথে মোটা অংকের টাকা নিয়ে সাধারণ মারধরের মামলায় ইসহাককে পুলিশ আদালতে চালান দেয়ায় পর দিন তার জামিন হয়ে যায়।

মিনহাজকে নির্যাতনের ভিডিও চিত্রটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পর টনক নড়েনি পতেঙ্গা থানা পুলিশের।

সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকদের সাথে কথা না বলতে ভয় দেখানো হয় মিনহাজের পরিবারের সদস্যদেরকে।
সম্প্রতি সরেজমিন পতেঙ্গা হাদীপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে ইছহাকের মালিকানাধীন এ ওয়াহাব ফার্ষ্টফুড দোকানটি খোলা বে ইছহাককে সেখানে পাওয়া যায়নি।

মনিহাজের এক চাচা তারেক জানান ইছহাক তাঁর সাথে আইপিএল’র খেলা নিয়ে বাজি ধরে ২৪ হাজার টাকার। সে টাকা না দিতে চুরির অভিযোগ এনে মিনহাজের উপর নির্যাতন চালায় ।

২৩ এপ্রিল নির্যাতনের সময় খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় নির্যাতনের শিকার মিনহাজের ফুফুসহ স্বজনরা। এসময় দোকানদার ইসহাক আরো অগ্নিমূর্তি ধারণ করে। ইসহাকের সঙ্গে এবার যোগ দেয় তার ভাই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ফোরকান আলী (৫২)। দু’সহোদর আবারো পেটায় শিশু মিনহাজকে। শুধু তাই নয়, হাদিরপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল ওহাবের দু’পুত্র মিনহাজের স্বজনদেরও নির্যাতন করতে তেড়ে আসে, ধাক্কা দেয়। তাদের শর্ত দেয়া হয়, মিনহাজকে ছেড়ে দেয়া হবে। তবে থানা পুলিশে ঘটনা জানানো যাবে না, মামলা করা যাবে না।

তাকে পাঠিয়ে দিতে হবে গ্রামের বাড়ি আনোয়ার থানার বরুমছড়ায়। রাজি হয়, মিনহাজের স্বজনরা। আহতাবস্থায় ছেড়ে দেয়া হয় তাকে। কিন্তু বিপত্তি দেখা দেয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া শিশু মিনহাজের নির্যাতনের ভিডিও ক্লিপটি।

এতে পুলিশ ইসহাককে গ্রেফতার করলেও আপোষরফার মাধ্যমে তাকে সাধারণ মারধরের মামলায় আদালতে পাঠালে পর দিন সে জামিনে বেরিয়ে এসে শিশু মিনহাজের নির্যাতনের মোবাইলে ভিডিও ধারণকারীকে খুঁজতে থাকেন এবং মামলা তুলে নিতে শিশু মিনহাজ ও স্বজনদের বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দেন।

এখানেও থেমে থাকেনি স্থানীয় প্রভাবশালী যুবলীগ কর্মী দোকান মালিক মোহাম্মদ ইসহাক ও তার ভাই ফোরকান আলী। তারা এলাকায় গণমাধ্যম কর্মীদের প্রবেশ অঘোষিতভাবে নিষিদ্ধ করেন! স্থানীয় মাস্তানদের দিয়ে ‘পাহারা’ বসান।

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর জয়নাল আবেদিন বলেন, ইছহাক যদি এ ধরনের অন্যায় করে থাকে তাহলে তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা উচিত।

তবে মামলা না নেওয়া এবং মিনহাজকে চিকিৎসা না দেওয়া এত সমালোচনার পরেও পতেঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ ইছহাককে একদিনের জন্য হলেও আটক করেছেন বলে কৃতিত্ব দাবী করেন। একজন প্রতিবন্ধি শিশুকে প্রকাশ্যে দিবালোকে নির্যাতন করার পরেও কিভাবে ইছহাক ছাড়া পেল এমন প্রশ্নের জবাবে পতেঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলমগীর বলেন এটি আদালতের এখতিয়ার।

কেন তার বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের ধারা মামলায় অর্ন্তভূক্ত করা হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি আলমগীর বলেন, শিশু নির্যাতনের কোনো আইন নেই! সে কারণে মারধর ও হত্যাচেষ্টার ৩২৩/৩২৪/৩৪২/৩০৭/৫০৬ (২)/৩৪ দন্ডবিধিতে মামলা রুজু করা হয়।

উল্লেখ্য গত শনিবার (২৩ এপ্রিল) বিকাল চারটায় হাদীপাড়া ওয়াহাব মিয়ার বাড়ীর সামনে মিনহাজকে নির্যাতনের এই ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত ব্যবসায়ি ইসহাককে গ্রেফতার করলেও এক দিনের মাথায় সে আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে যান।

মতামত...