,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে বেকারী পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে ক্যাব উদ্বেগ

বিশেষ সংবাদদাতা, বিডিনিউজ রিভিউজঃ চট্টগ্রামে পুর্ব ঘোষনা ছাড়া যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে সাধারন জনগনের সকাল-বিকেলের নাস্তার অন্যতম উপাদান বেকারী পণ্য বিশেষ করে পাউরুটি, বিস্কুট, কেক, বন, পেটিস এর ২০-২৫% মূল্য বৃদ্ধির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে এ মূল্যবৃদ্ধি স্থগিত করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পুর্বানুমতি গ্রহন করে এবং ভোক্তাদের ক্রয় ক্ষমতা বিবেচনা করে মুল্য পুণঃ নির্ধারনের দাবি জানিয়েছেন দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থসংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগ ও নগর কমিটি। হটাৎ করে চট্টগ্রাম বেকারী মালিক সমিতি কর্তৃক দাম বাড়ানোর ঘোষনায় এক প্রতিক্রিয়ায় ক্যাব নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান।
 
বিবৃতিতে ক্যাব নেতৃবৃন্দ বলেন বেকারী পণ্যের ক্রেতারা সাধারন ও নিন্ম মধ্যবিত্ত পরিবার। যাদের সীমিত আয়ের উপর পারিবারিক জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। সেখানে হটাৎ করে তেল, ময়দা চিনির দাম বৃদ্ধির অযুহাতে হটাৎ করে দাম বাড়ানো  অযৌক্তিক, অমানবিক, সরকারী প্রশাসন ও আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের সামিল। কারন দাম বৃদ্ধি করতে হলে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে জেলা প্রশাসন, বিএসটিআই এর পুর্বানুমুতি প্রয়োজন। তারা স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত না করে বেকারী মালিকগন নিজেরা তাদের ইচ্ছামতো দাম নির্ধারন করে ভোক্তাদের প্রতি চরম অবিচার ও পকেট কাটার উদ্যোগ নিয়েছে। যা সভ্য সমাজে কোন ভাবেই কাম্য হতে পারে না। বেকারী মালিকদের এ ধরনের আচরন সরকারী প্রশাসন ও আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের সামিল।
 

নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন পুরো বিশ্বে যেখানে ন্যায্যা ব্যবসা প্রসারে এবং ব্যবসার অন্যতম নিয়ামক ভোক্তাদের সামর্থ, তাদের মতামতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে পণ্য উৎপাদন, বিপপন ও মুল্য নির্ধারন করা হয়ে থাকে, সেখানে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা আদিম যুগে ফিরে যাচ্ছে। তাদের কাছে ভোক্তাদের মতামত ও সামর্থ কোন ভাবে আমলে নেয়া হচ্ছে না। তারা বিভিন্ন সময় নানা অযুহাতে জনগনের পকেট কেটে আবার দানবীর সেজে যাচ্ছে। জনগনকে জিম্মি করে অত্যাবশ্যকীয় ভোগ্য পণ্যসহ নানা পণ্যের সংকট, সিন্ডিকেট ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে কোটি কোটি হাতিয়ে নিয়ে এসমস্ত ব্যবসায়ীরা নামধারী মুল্য সন্ত্রাসীরা এক সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিলে বিপুল পরিমান দান খয়রাত করে, অনেক সময় মন্ত্রী, এমপি, মেয়র ও রাজনৈতিক নেতাদের তহবিলে দান করে। আবার অনেকে মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সিএসআর এর নামে পত্রিকায় বিপুল পরিমান বিজ্ঞাপন দেয়, মিডিয়ার মালিক হচ্ছে এবং নিজ নিজ গ্রামে নিজের নামে স্কুল, মাদ্রাসা খুলে দানবীর সেজে জনগনের কাছে প্রতারনা করে থাকে। তাই এসমস্ত দানবীরদের বিষয়ে সকর্ততা অবলম্বন ও তাদের বিপননকৃত পণ্য বর্জন করা ছাড়া বিকল্প নেই বলে মতপ্রকাশ করে স্থানীয় ভাবে এসমস্ত দানবীর ব্যবসায়ীদের আয়ের উৎস সম্পর্কে পরিস্কার তথ্য জানার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।     

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন ক্যাব দীর্ঘদিন ধরেই দাবী করে আসছিল, নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পন্যের বিকল্প বাজার হিসাবে টিসিবিকে কার্যকর করার জন্য দাবী করলেও একশ্রেনীর ব্যবসায়ী টিসিবিকে সক্রিয় করতে সরকাকে বাঁধা প্রদান করছে। তাদের যুক্তিহলো টিসিবি অথর্ব প্রতিষ্ঠান এবং লোকসানি। অন্যদিকে সরকারী চিনি ও খাদ্য সংস্থার আওতাধীন চিনি মিলগুলিতে বিপুল পরিামান অবিক্রিত চিনি মজুত থাকলেও চিনি সংকটের সময় তাদেরকে অঘোষিত ভাবে বাজারে আসতে দেয়া হয়নি। এমনকি চালের বাজারে কৃত্রিম সংকটের সময় টিসিবি ঘুমন্ত আছে। 
 
নেৃতবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন ক্যাব পুরো বছর জুড়ে বাজার মনিটরিং এর দাবী করে আসলেও একশ্রেনীর ব্যবসায়ী নেতাদের আশ্বাসে ও বাজার স্থিতিশীল থাকবে, পর্যাপ্ত মজুত ইত্যাদি কথায় বিলম্বে বাজার মনিটরিং শুরু করায় ভোগ্য পণ্যের বাজার অস্থির হয়ে আছে। আর ব্যবসায়ীরা এটাকে স্বাবাভিক বললেও প্রকৃতপক্ষে মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের জনগোষ্ঠির জন্য এটা বাড়তি বোঝা যা সরকারের অনেকগুলি উন্নয়ন কর্মকান্ডকে ম্লান করে দিচ্ছে।
 
বিবৃতিতে যারা স্বাক্ষর করেন তারা হলেন ক্যাব কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটি সদস্য এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগরের সভাপতি জেসসিন সুলতানা পারু, সাধারন সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান প্রমুখ। 

মতামত...