,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে বে-টার্মিনাল নির্মাণে চুক্তি সই

a (5)নিউজ ডেস্ক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ চট্টগ্রামের বহুল প্রত্যাশার বে-টার্মিনাল নির্মাণে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের (ফিজিবিলিটি স্টাডি) জন্য বিদেশী পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। জার্মানির সেলহর্ন এবং হামবুর্গ পোর্ট কনসালটিং (এইচপিসি) এর সাথে দেশীয় প্রতিষ্ঠান কে এস কনসালটেন্টস লিমিটেডের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ প্রতিষ্ঠানকে বে-টার্মিনালের ফিজিবিলিটি স্টাডি করার জন্য পরামর্শক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

বুধবার ১৭ আগস্ট সকালে চট্টগ্রাম বন্দরের সম্মেলন কক্ষে এই ব্যাপারে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। কনসালটিংয়ের পক্ষে বেনজামিন লিডার ও চট্টগ্রাম বন্দরের পক্ষে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম. খালেদ ইকবাল চুক্তিপত্রে সই করেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (ইঞ্জিনিয়ারিং) কমডোর জুলফিকার আজীজ, সদস্য (এডমিন এন্ড প্ল্যানিং) মোহাম্মদ জাফর আলম, সদস্য (হারবার এন্ড মেরিন) কমডোর শাহীন রহমান, পরিচালক (নিরাপত্তা) লে.কর্নেল আবদুল গাফফার, চিফ ইঞ্জিনিয়ার (মেকানিক্যাল) নাজমুলক হক ও সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুকসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। চুক্তি স্বাক্ষরের পর আগামী কয়েকদিনের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি বে-টার্মিনালের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করবে বলে আশা প্রকাশ করেন বন্দরের কর্মকর্তারা।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কে এস কনসালটিং এর পরিচালক হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, ‘এ ডিটেইলড টেকনিক্যাল ইকোনমিক্যাল, এনভায়রোনমেন্টাল, অপারেশনাল, ফিনিন্সিয়াল স্টাডি এন্ড ট্রাফিক ইমপেক্ট এসেসমেন্ট অফ কনস্ট্রাকশন অফ বে টার্মিনাল’ প্রকল্পের আওতায় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বে টার্মিনালের প্রস্তাবিত স্থানে জাহাজ ও জলযান যাওয়ার জন্য সেই স্থানের নেভিগেশনাল বিষয়গুলো বিশ্লেষণ এবং এসংক্রান্ত দিক নির্দেশনা প্রদান করবে। এছাড়া বে-টার্মিনালের নির্ধারিত স্থানে জেগে উঠা চরের স্থায়ীত্ব নির্ণয় এবং এটিকে টার্মিনালের অংশ হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তাবনা এবং বে-টার্মিনালের জন্য একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হবে। এই প্রকল্পের আওতায় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বে-টার্মিনালের টেকনিক্যাল ফিজিবিলিটি রিপোর্ট, ইকোনমিক্যাল ফিজিবিলিটি রিপোর্ট, এনভায়রোনমেন্টাল ফিজিবিলিটি রিপোর্ট, অপারেশনাল ফিজিবিলিটি রিপোর্ট, ফিন্যান্সিয়াল ফিজিবিলিটি রিপোর্ট, ট্রাফিক ইমপ্যাক্ট এসেসমেন্ট এবং মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করে বন্দর কর্তৃপক্ষকে সরবরাহ করা হবে।

বন্দর সূত্র জানায়, প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করতে ৯ মাস সময় লাগবে। বিভিন্নভাবে সমীক্ষা চালিয়ে রিপোর্ট প্রদান করবে প্রতিষ্ঠানটি। রিপোর্ট পাওয়ার পর অন্যান্য কার্যক্রম শুরু হবে। বে-টার্মিনাল নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষের অনাপত্তিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যে পরিবেশ ছাড়পত্র পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। বন বিভাগের অনাপত্তি এবং পুলিশের অনাপত্তিপত্রের কাগজপত্রও জমা দেয়া হয়েছে। বে-টার্মিনালের জন্য উপকূলীয় এলাকার ৯০৭ একর ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়াও চলছে। বন্দরের কর্মকর্তারা জানান, হালিশহর উপকূলে জোয়ার-ভাটার নির্ভরতামুক্ত এলাকায় টার্মিনালটি নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার এবং প্রস্ত প্রায় ৬০০ মিটার। সমুদ্রে জেগে ওঠা চরে বে-টার্মিনালের অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। ১৯৯০ সালের পর চরটি জেগে ওঠে। তীর থেকে প্রায় ৮০০ মিটার দূরে জেগে উঠা চরটি নতুন একটি চ্যানেলের সৃষ্টি করেছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ ওই চরকে ঘিরে সৃষ্ট চ্যানেলে টার্মিনালটি নির্মাণ করতে চায়। ড্রেজিং করে চ্যানেলটিতে বড় বড় মাদার ভ্যাসেল বার্থিং দেয়া যাবে বলে জানান বন্দর কর্মকর্তারা।

বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালসহ সবগুলো জেটিতে বর্তমানে সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৫০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভিড়ানো হয়। বে-টার্মিনাল হলে ১০-১২ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভিড়ানো যাবে। বর্তমানে এই বন্দরে সর্বোচ্চ ১৮শ টিইইউএস কন্টেনার বোঝাই জাহাজ ভিড়ানো যায়। বে-টার্মিনালে অনায়াসে ৫ হাজার টিইইউএস কন্টেনার বোঝাই জাহাজ ভিড়ানো যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। গতকাল চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বন্দরের পদস্থ কর্মকর্তারা বে-টার্মিনালকে আগামীর বাংলাদেশের বন্দর বলেও আখ্যায়িত করেছেন। তারা বলেছেন, বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নত বিশ্বের কাতারে সামিল করতে বে-টার্মিনাল মুখ্য ভূমিকা পালন করবে।

 

মতামত...