,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে ভল্ট ভেঙে ৩০ লাখ লুট

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: চট্টগ্রাম শহরের দেওয়ান হাট এলাকায় লোহার দামি ভল্টের দরজা ভেঙে চোরের দল প্রায় ৩০ লাখ লুট করে নিয়েছে। আর ভল্ট ভাঙার আগে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে অফিসে থাকা দশটি ক্লোজসার্কিট ক্যামেরার সুইচ। ভেঙে ফেলা হয়েছে একটি ক্যামেরা। পুরো অফিসটি তছনছ করে চোর।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত একটা থেকে গতকাল বুধবার ভোর চারটার মধ্যবর্তী সময়ে দুর্ধর্ষ চুরির এ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে নগরীর দেওয়ানহাট পোস্তারপাড় এলাকার প্রাইম কর্পোরেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানের অফিসে।

অনেকটা পরিকল্পিত এ চুরি সংঘটিত হলেও আশেপাশের কেউ বিষয়টি বুঝতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভারের পণ্যসামগ্রী বাজারজাত করে থাকে। মঙ্গলবার রাত একটা থেকে ভোর চারটার মধ্যবর্তী সময়ে এ চুরির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকাল আটটায় অফিস খুলে চুরির বিষয়টি বুঝতে পারে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লোকজন।

ডবলমুরিং থানার পরিদর্শক (ওসি) একেএম মহিউদ্দিন সেলিম জানান, প্রাইম কর্পোরেশন নামে এ প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভারের পরিবেশক। ধারণা করা হচ্ছে, রাত একটার পর যে কোনো সময় জানালার গ্রিল কেটে চোর ভেতরে প্রবেশ করেছে। অফিসে থাকা ভল্টে কয়েকদিনের পণ্য বিক্রির বেশ কিছু টাকা জমা ছিল। ভল্টের দরজা ভেঙে টাকা লুট করা হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সিআইডির ক্রাইম সিনের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গুরুত্বপূর্ণ আলমত সংগ্রহ করেছে। আশা করছি শীঘ্রই চুরির রহস্য উদঘাটন হবে।

প্রাইম কর্পোরেশনের পরিচালক নুরুল আবছার সাকী জানান, কি পরিমাণ টাকা নিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুরো অফিস এলোমেলো করা হয়েছে। ভাঙা হয়েছে টাকার ভল্ট। তবে আনুমানিক ৩০ টাকা লুট হয়েছে বলে ধারণা করছি। সবকিছু গোছানোর পর কত টাকা খোয়া গেছে তা নিশ্চিত করে বলা যাবে।

বুধবার দুপুরে পোস্তারপাড় ছাগলের বাজার সংলগ্ন সাত তলা একটি ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত প্রাইম কর্পোরেশনের অফিসে জানালার গ্রিলের দুটি শিক কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পুরো অফিসে দশটি ক্লোজ-সার্কিট ক্যামেরা থাকলেও সবগুলো ক্যামেরা উল্টো দিকে ঘুরিয়ে রাখা হয়েছে। অফিসের একটি কক্ষে দামী ভল্টের দরজা ভাঙা হয়েছে লোহার হাতুড়ি দিয়ে। ভল্টের ভেতরে নিচের অংশে থরে থরে সাজানো একশো-পঞ্চাশ-বিশ-দশ টাকার নোটের বান্ডিল থরে থরে সাজানো। পুরো রুমের মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন ব্যাংকের শত শত চেক, প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র। সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক চেক করে দেখা যায়, রাত একটার দিকে সিসি ক্যামেরায় মূল সুইচ বন্ধ করে দেয়া হয়। মূলত সুইচ বন্ধ করার পর ভল্ট ভেঙে টাকা লুট করা হয়েছে এমনটি ধারণা করছে পুলিশ।

তিনি জানান, তারা মূলত ইউনিলিভারের পরিবেশক। ভবনটির প্রথম ও দ্বিতীয় তলা গো-ডাউন হিসাবে ব্যবহার করা হয়। তৃতীয় তলায় অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা ব্যবহার করেন। রাতে কেউ অফিসে থাকে না। তিনি (সাকী) সবার শেষে অফিস থেকে বের হন। বাইরে দুইজন নিরাপত্তকর্মী থাকেন। পণ্য বিক্রির টাকা প্রায় সময় ভল্টে থাকে। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার রাত এগারোটায় অফিস বন্ধ করে দরজায় তালা লাগিয়ে দেয়া হয়। সকালে আটটায় অফিস খোলার পর চুরির বিষয়টি নজরে আসে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেলিম ও আহসান উল্লাহ জানান, রাত এগারোটার দিকে অফিস বন্ধ করে গ্রিলে তালা দিয়ে লোকজন চলে যায়। আমরা সাধারণত বাইরে থাকি। কখনো অফিসের ভেতরে প্রবেশ করিনি। বাইরে অফিসের বেশ কয়েকটি গাড়ি থাকে। তাও দেখাশোনা করি। জানালার গ্রিল কখন কাটা হয়েছে তা আমরা বুঝতে পারিনি।