,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে ভূকিম্পে ১০ বহুতল ভবন হেলে পড়েছে অর্ধশতাধিক আহত

aনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ চট্টগ্রাম, প্রচন্ড ভুমিকম্পের ঘটনায় চট্টগ্রামে অন্তত ১০ থেকে ১২টি বহুতল ভবন হেলে পড়েছে। এসময় হুরোহুড়ি করে বিভিন্ন ভবন থেকে নামতে গিয়ে পদদলিত হয়ে অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ১৬ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বাকিদের বেপজা হাসপাতালসহ বিভিন্ন হানপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ এসব খবর নিশ্চিত করেছে।

এর মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ৯ পোষাক শ্রমিক ও এক ছাত্রসহ ১৬ জনকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুম সুত্রে জানাগেছে, জানায় সন্ধ্যা ৭টা ৫৭ টায় সৃষ্ট প্রচন্ড ভূমিকম্পে সারাদেশের ন্যায় কেঁপে উঠে চট্টগ্রামও। এসময় প্রাণ বাঁচাতে নগরীর বিভিন্ন ভবন থেকে লোকজন বাইরে বের হয়ে আসে। হুড়োহুরি করে নামতে গিয়ে নগরীর অক্সিজেন ট্যানারী বটতল এলাকায় ১৫ নারী পোষাক শ্রমিক আহত হয়েছে।

তাদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ৯জনকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাত পৌনে ১১টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জহিরুল ইসলাম, নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ভুমিকম্পে আহত ১৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৯ জন গার্মেন্টস শ্রমিক। তারা অক্সিজেন বটতল এলাকার সাদ মুসা গ্রুপের মালিকানাধীন একটি পোষাক কারখানার নারী শ্রমিক।

এ ছাড়া ভূমিকম্পের সময় চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের শাহজালাল হলের ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে রায়হান নামে এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে । তাকেও চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ইপিজেড থানার ওসি আবুল কালাম জানান ইপিজেড এর বিভিন্ন কারখানায় হুরোহুড়ি করে নামতে গিয়ে ৩০ জন আহত হয়েছে। আহতদেরকে ইপিজেট হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। একজনকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে ভূমিকম্পে বিভিন্ন নগরীতে ৭টি বহুতল ভবন হেলে পড়েছে বলে খবর নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুম কর্মকর্তা বিশু কুমার দাস।

এর মধ্যে হালিশহর বি-ব্লকের ২ নং রোডে ৫তলা একটি ভবন পাশের ৬তলা অপর একটি ভবনের উপর হেলে পড়েছে। নগরীর আগ্রাবাদ বারেক মিয়াা স্কুলের পাশে বিএস গার্মেন্টস’র পরিত্যক্ত একটি ভবন অপর একটি ৬তলা ভবনের উপর হেলে পড়েছে।

নগরীর ব্যস্ততম এলাকা নিউ মার্কেটের পশ্চিম পাশে রেয়াজুদ্দিন বাজারেও একটি বহুতল ভবন হেলে পড়ার সংবাদ পাওয়া গেছে।

নন্দনকানন মুসাফিরখানা মসজিদের পাশে ১১ তলা একটি নির্মাণাধীন ভবন পশ্চিম-উত্তর দিকে হেলে গেছে।
মোমিন রোড়ের দস্তগীর হোটেলের পার্শ্বে প্যারাডাইস নামে একটি ৮ তলা ভবন হেলে গেছে।

জুবিলি রোড লাভলেইন এলাকায় ১৭৩ নং ৩ তলা বিল্ডিংটি পাশের এবি ব্যাংকের ভবনের উপর হেলে পড়ে।
চাঁন্দগাও আবাসিক এলাকার বি-ব্লকের ৮ নং রোডের ৫৩৮ নং ভবনটি পাশের একটি ভবনের উপর হেলে পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন চাঁন্দগাও থানার অফিসার ইনচার্জ শাহজাহান কবির।

এছাড়া বন্দর, লালখান বাজার ওয়াসা, হাজারী গলি তামাকুন্ডি লেইন, মোমিন রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় ৮থেকে ১০টি ভবন হেলে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা হেলে পড়া এসব ভবন তদারকি করছেন বলে জানান ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুম কর্মকর্তা বিশু কুমার দাস।

নগরীর ছাড়ওি জেলার বিভিন্ন উপজেলায়ও এ ভূমিকম্পে সাধারন মানুষের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। ফটিকছড়ি, হাটহাজারীসহ কয়েকটি উপজেলায় কিছু কিছু ভবনে ফাটল দেখা গেছে বলে স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে। এর মধ্যে হাটহাজারি ১০নং উত্তর মাদার্শায় ১২ বৎসরের একটা এক কিশোর পড়ে গিয়ে মাথা ফেটে আহত হয়েছে। উত্তর মাদার্শা আওয়ামীলীগ নেতা দৌলতের ২তলা ভবন ফাটল দেখা দিয়েছে বলে জানান স্থানীয় সাংবাদিক জাহেদ মনজু।

তবে ভুমিকম্পের কারণে মধ্য রাত পর্যন্ত বড় ধরনের কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

মতামত...