,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে মহিউদ্দিন চৌধুরী-মেয়র নাছিরের বাক-যুদ্ধ উত্তাপ ছড়িয়েছে রাজধানী ঢাকায়

মহিউদ্দিন চৌধুরী ও আ জ ম নাছির উদ্দীনের এমন দৃশ্য এখন কি শুধুই স্মৃতি?-বিডিনিউজ রিভিউজ.কম

দিলরুবা খানম, ১৩  এপ্রিল, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: চট্টগ্রামের প্রবীণ রাজনীতিক মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের মধ্যে বিরোধ আবার মাথা চড়া দিয়ে উটেছে। গেল কদিনে তাদের বাক-যুদ্ধ গোটা চট্টগ্রামে টক-অবদি কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। চট্টগ্রামে এই দুই নেতার এমন পরস্পরের বাক-যুদ্ধে নেতা-কর্মী তো বটেই সাধারনের মধ্যেও কানিক আতংক ছড়িয়েছে বইকি!

চট্টগ্রামে রাজনীতির মাঠের এই গরম বাক্য বিনিময়ের উত্তাপ ছড়িয়েছে রাজধানী ঢাকায়ও!আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিষয়টি নিয়ে বুধবার মেয়র নাছিরের সাথে ফোনে কথা বলেছেন এবং কয়েকদিনের মধ্যে ওবায়দুল কাদের দুই নেতাকে নিয়ে এক টেবিলে বসতে পারেন বলে নগর আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল এক নেতা জানিয়েছেন।

চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা জানান, ওবায়দুল কাদের হয়তো চট্টগ্রামে এসে দুই নেতার সাথে বসতে পারেন কিংবা তাদেরকে ঢাকায় তলব করতে পারেন।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বুধবার বিডিনিউজ রিভিউজ.কম’কে বলেন, ‘নাছিরের সাথে তো দলীয়ভাবে আমার কোনো বিরোধ হয়নি। নগরবাসীর নাগরিক অধিকার রক্ষায় আমি তার অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। বলে যাবো।’

সিটি মেয়র ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘কাদের ভাই বিষয়টা নিয়ে আমার সাথে ফোনে কথা বলেছেন। কী কারণে হঠাৎ এমন অবস্থার সৃষ্টি হলো তা তিনি জানতে চেয়েছেন। আমি আমার মতামত দিয়েছি।’

সিটি মেয়র বলেন, ‘আমি তো উনার (মহিউদ্দিন) সাথে বিরোধে জড়াইনি। উনি গায়ে পড়ে আমার সাথে বিরোধে জড়িয়েছেন।’
‘নগরবাসী যাতে বিভ্রান্ত না হন, সেজন্য আমি আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য-উপাত্ত নিয়ে উনার (মহিউদ্দিন) কথার জবাব দিয়ে আমার অবস্থান তুলে ধরবো’, বলেন মেয়র নাছির।

গেল সোমবার নগরীর লালদীঘি মাঠে জনসভায় মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র নাছিরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ও সমালোচনা করেন এবং পরদিন দুপুরে নগরীর জিইসিস’ প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলনে মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র নাছিরকে খুনি হিসেবে অভিহিত করেন।

মহিউদ্দিন চৌধুরীর এসব অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় মেয়র নাছিরও তার দিকে পাল্টা সমালোচনার তীর ছোঁড়েন।

গত বছরের পহেলা মে নগরীর লালদীঘি মাঠে শ্রমিক সমাবেশে মহিউদ্দিন চৌধুরী সিটি করপোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানো নিয়ে প্রকাশ্যে মেয়র নাছিরের কড়া সমালোচনা করেন। এ নিয়ে দুই নেতার সম্পর্কে তিক্ততা দেখা দেয়।

গত বছর ৮ নভেম্বর বন্দরে এক শ্রমিক সমাবেশে মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র নাছিরকে ‘ডাকাতের বড় ভাই’ আখ্যায়িত করে বলেছিলেন, ‘নাছির মেয়র হয়েছেন বন্দর খাওয়ার জন্য নয়। সে-সহ আরো চার ডাকাত বন্দরকে লুটপাট করে খাচ্ছে।’

এর পর আকস্মিক উভয় নেতার তিক্ততার দৃশ্যপট হঠাৎ রূপ নেয় সখ্যতায়! এর পর একদিন রাতে মেয়র নাছিরের নগরের আন্দরকিল্লার বাসায় ছুটে যান মহিউদ্দিন। আওয়ামী লীগের একটি সাংগঠনিক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠক শেষে মেয়র নাছিরের সাথে এক টেবিলে বসে মহিউদ্দিন খাওয়া-দাওয়াও করেন।

অপরদিকে, গত ১ ডিসেম্বর জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতে ফুল হাতে মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসায় ছুটে গিয়েছিলেন মেয়র নাছির।

ডিসেম্বর পেশাজীবী চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) চট্টগ্রাম শাখার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্যানেলকে নিয়ে মনস্তাত্তিক লড়াইয়ে মেতে ওঠেন দুই নেতা।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের এই দুই নেতা গেল কদিন যাবথ প্রকাশ্যে একে অপরের বিরুদ্ধে বাক-যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছেন  এতে দুই নেতার বিরোধের ঢেউ লেগেছে তাদের অনুসারী তৃণমূল কর্মীদের মধ্যেও।

তিক্ততা ভুলে দুজনের মধ্যে আবারও সখ্যতা তৈরি হবে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নেতারা।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ বলেন, ‘তাদের এমন তিক্ততা বেশি দূর গড়াবে না। দলের স্বার্থে তারা এক হতে বাধ্য হবেন।’

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের অপর সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান বলেন, ‘দলীয় কর্মসূচিতে দুই নেতা এক মঞ্চে আসবেন। কেননা সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই।’

মতামত...