,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে মহেশখালের বাঁধ আগ্রবাদ-হালিশহরবাসির গলার ফাঁদ সরানোর দাবি

aমীর মুহাম্মদ নাছিরউদ্দীন সিকদার, বিডিনিউজ রিভিউজঃ চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর রোডের ছোটোপুলের নিচ দিয়ে বয়ে গেছে প্রায় ১৫০ ফুট চওড়া মহেশখাল। পুলের পূর্ব দিকে খালজুড়ে ময়লা আবর্জনার স্তূপ। জমে থাকা স্তূপের উপর দিয়ে দিব্যি হেঁটে বেড়ানো যায়।

মহেশখাল খালের ভাটির দিকে আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকার ২০ নম্বর রোডের শেষ মাথার পুলের কাছেও দেখা যায় খালের উপর জমে থাকা ময়লা আবর্জনায় খালটি ভরাট হয়ে যাওয়া খালে হেঁটে হেঁটে এটা ওটা খুঁজছে টোকাইরা।

বন্দর রিপাবলিক ক্লাবের পাশে মহেশ খালের উপর বাঁধ দেয়ার কারণে ভাটার টানে সব পানি নেমে যেতে পারছে না বলে খাল বা নালায় কোনো স্রোত নেই। এতে পুরো দেওয়ানহাট, রঙ্গীপাড়া, ঈদগাহ, নয়াবাজার, হালিশহর বসুন্ধরা, কর্ণফুলী, শান্তিবাগ, আগ্রাবাদ সিডিএ, ছোটোপুল, হালিশহর এ ব্লক, বি ব্লকসহ পুরো এলাকার নালা ও খালগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে। খালে জমে থাকা পানি কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ায় বাড়ছে মশার বংশ এবং দূষিত হচ্ছে এলাকার পরিবেশ। হালিশহর ছোটোপুলের উপর অস’ায়ীভাবে দোকান নির্মাণ করছেন জয়নাল আবেদিন। ষাটোর্ধ জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আগে এই খালে স্রোত ছিল, ভাটার টানে খালের মধ্যে ময়লা আবর্জনাগুলো কর্ণফুলীতে চলে যেত। কিন’ এখন মহেশখালের উপর বাঁধ দেয়ার কারণে পানিতে গতি নেই, আর তা না থাকাতে সকল আবর্জনা জমে জমে ভরাট হয়ে যাচ্ছে খাল। এখন খালের উপর দিয়ে মানুষ হাঁটতে পারছে।

হালিশহর আর্টিলারি রোডের খালপাড়ের বেইলি ব্রিজের অংশে গিয়ে দেখা যায়, খালটি অর্ধ ভরাট অবস’ায় রয়েছে। খালের মধ্যে ময়লা আবর্জনার পাশাপাশি মাটির স্তূপও দেখা যায়। একইভাবে বড়পুল ব্রিজের কাছেও খালটি প্রায় ভরাট হয়ে আছে। এখানে আবর্জনার পরিমাণ কম থাকলেও মাটির পরিমাণ বেশি দেখা যায়। অর্থাৎ চারপাশ থেকে আসা মাটি জমে জমে খালটি ভরাট হয়ে যাচ্ছে।

মহেশখাল বাঁধের ব্যাপারে সাংবাদিক জাহেদ কাউছার বলেন, ‘খালের মধ্যে কচুরিপানায় ভরে গেছে। আর কচুরিপানার সাথে সাথে আবর্জনা জমে জমে ধীরে ধীরে ভরাট হয়ে যাচ্ছে একসময় গভীরতম এই খাল। গত এক বছরে প্রায় অর্ধেক ভরাট হয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে।’

সাংবাদিক বাবুল হোসেন বাবলা বলেন, ‘সাধারণ একটি বিষয় পরিষ্কার যে ভাটার টানে নগরীর ময়লা আবর্জনা পানি নদীতে নেমে গেলে জোয়ারের সময় আবার পরিষ্কার পানি আসবে। কিন’ বাঁধ নির্মাণ করে আমরা সেই পথ বন্ধ করে দিয়েছি, এখন পানির দুর্গন্ধে ও মশার উৎপাতে এলাকায় থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। মহেশখাল বাঁধ সরানো প্রয়োজন।’

বন্দর রিপাবলিক ক্লাবের পাশে মহেশখালের উপরে প্রায় সাড়ে চারকোটি টাকা খরচ করে গত অক্টোবরে এই বাঁধ নির্মাণ করেছিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকার মানুষদের বর্ষাকালে প্রতিদিনের জোয়ারের দুর্ভোগ থেকে রক্ষা করতে এই বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন’ বাঁধ নির্মাণের পর এখন নতুন বিপত্তি দেখা দেয় বাঁধের পেছনের এলাকার (আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকার) মানুষ আটকে থাকছে বৃষ্টির পানিতে। অর্থাৎ, বিশাল এই ক্যাচমেন্ট এরিয়ার পানি বের হতে পারছে না বলে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। এই মৌসুমের বৃষ্টিতে আগ্রাবাদবাসী এই জলাবদ্ধতা ভোগ করেছে। এ বিষয়ে এই এলাকার বাসিন্দা স’পতি জেরিনা হোসেন বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই খালে প্রবাহ না থাকলে ধীরে ধীরে পলিজমে ভরাট হয়ে যাবে নালা ও খাল। আর মহেশখালের সাথে সংযুক্ত নালা ও খালগুলোর ক্ষেত্রে তাই ঘটছে।’
এদিকে নালা ও খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ২৫ নম্বর রামপুর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এস এম এরশাদ উল্লাহ বলেন, ‘আমার এলাকায় কিছুদিন ধরে নালা ও খাল ভরাট হয়ে রাস্তায় পানি জমে যাচ্ছে। এটা হয়তো মহেশখালের বাঁধের কারণে পানি দ্রুত গতিতে নামতে পারছে না এবং ব্লকেজ সৃষ্টি হচ্ছে।’

নালা ও খাল পরিষ্কার রাখতে সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে জানিয়ে নির্বাহি প্রকৌশলী সুদীপ বসাক বলেন, ‘আগে যেখানে প্রাকৃতিক স্রোতে ময়লা আবর্জনাগুলো নদীর দিকে নেমে যেতো, এখন তা না পেরে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলীরা এসব ব্লকেজ একদিকে পরিষ্কার করলে অপরদিকে আবার ভরাট হয়ে যাচ্ছে।’

চট্টগ্রাম শহরের পাহাড়তলী, দেওয়ানহাট, ঈদগাহ, ঝর্নাপাড়া, রঙ্গীপাড়া, শ্যামলী আবাসিক এলাকা, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, কর্ণফুলী আবাসিক এলাকা, হালিশহর আনন্দিপুর, নয়াবাজার, হালিশহর কে ব্লক, এল ব্লক, শান্তিবাগ, বেপারী পাড়া, মুহুরীপাড়া, পানওয়ালা পাড়া, হাজীপাড়াসহ বিস্তৃর্ন এলাকার নালা ও খালের পানি ছোটোপুল পুলিশ লাইনের পাশের এই খালটি হয়ে আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকার পেছন দিয়ে গিয়ে মূল মহেশখালের সাথে মিলিত হয়েছে। আর নিমতলা খালপাড় হয়ে এই পানি বন্দর রিপাবলিকের পাশ দিয়ে সল্টগোলা রেলক্রসিংয়ের পাশ দিয়ে মিলিত হয়েছে কর্ণফুলীতে। অপরদিকে মহেশখালের অপর একটি অংশ হালিশহর এ ব্লক, ফইল্যাতলী বাজার, বি ব্লক, জি ব্লক, জে ব্লক, আর্টিলারি অঞ্চলের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে  আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকার পেছনে এসে ছোটোপুল পুলিশ লাইনের দিক থেকে আসা খালের সাথে মিলিত হয়ে দুইয়ের মিলিত ধারা মহেশখাল নামে বন্দর রিপাবলিক ক্লাবের পাশ দিয়ে সল্টগোলা রেলক্রসিং হয়ে কর্ণফুলীতে গিয়ে পতিত হয়েছে। এই বিশাল এলাকার আবর্জনা কর্ণফুলীতে গিয়ে পড়ার কথা থাকলেও এখন তা নালা ও খালেই থেকে ভরাট হয়ে যাচ্ছে।

মতামত...