,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে মিটারবিহীন সিএনজির বিরুদ্ধে অভিযানের খবরে গাড়ি হাওয়া! ৯৫০ মামলার ৪০ জব্দ

ang policeনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া বাড়িয়েও চালকদের মিটারে চলাচলে বাধ্য করা যাচ্ছে না। তাদের এখনও সেই পুরনো সুর- ‘পোষায় না’। তবে এবার যানজট ও ভাঙ্গাচোরা রাস্তার কারণে যাত্রীদের অনেকে মিটার সিস্টেমের বিরোধিতা করছেন। অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের অভিযান চলছে কেবল যেসব সিএনজি-অটোরিক্সায় মিটার নেই তাদের বিরুদ্ধে। কিন্তু যেসব সিএনজিতে মিটার থাকার পরেও তারা মিটারে চলছে না তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এ নিয়ে চালকদের মাঝেও রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এমতাবস্থায় চালকদের অনীহার পাশাপাশি যাত্রীদের এই অনাগ্রহও মিটারে সিএনজি-অটোরিক্সা চলাচলের ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ট্রাফিক পুলিশ দুয়েকদিনের অভিযানের পর আবারো থমকে যায়। এরপর আর মিটারে চলে না সিএনজি-অটোরিক্সা। নতুবা চালকদের কাছে বাধ্য হয়ে চুক্তিভিত্তিক ভাড়ায় যেতে যাত্রীদের মানিয়ে নিতে হয়। এরই মাঝে গতকাল থেকে আবারও শুরু হয়েছে মিটারবিহীন সিএনজি-অটোরিক্সার বিরুদ্ধে অভিযান।

সরেজমিনে দেখা যায়, অভিযানের খবর পেয়ে অধিকাংশ মিটারবিহীন সিএনজি-অটোরিকক্সা এদিন রাস্তায় নামেনি। আর যেসব মিটার সংযুক্ত গাড়ি রাস্তায় ছিলো তার কিছুটা পুলিশি কড়াকড়িতে মিটারে চলাচল করলেও অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের অনাগ্রহও চোখে পড়েছে।

ট্রাফিক পুলিশের কন্ট্রোল রুম সূত্র মতে, প্রথমদিন মিটারবিহীন ও মিটারে চলাচল না করার অভিযোগে ৯৫০টি মামলার পাশাপাশি ৪০টি সিএনজি-অটোরিক্সা জব্দ করেছে ট্রাফিক পুলিশ। এ প্রসঙ্গে সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) পারভেজ আহমেদ  বলেন, এ অভিযান চলমান থাকবে।

এদিকে সিএমপি’র ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে চট্টগ্রামে সিএনজি-অটোরিক্সা মিটারে চলাচল বাধ্যতামূলক করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল সিএমপি। কিন্তু পরবর্তীতে মিটার সংযোজনের সময় এক মাস বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর গত ২৭ জানুয়ারি সিএনজি অটোরিকশার চালক-মালিক এবং বিআরটিএ’র প্রতিনিধিদের সঙ্গে পুলিশের বৈঠকে তারা ৩১ জানুয়ারির মধ্যে মিটার সংযোজনের অঙ্গীকার করেন। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মিটার সংযোজনের সময় আর বাড়ানো হবে না বলেও জানানো হয়। এরপর গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে মিটারে অটোরিকশা চলাচলের বিষয়ে অনড় অবস্থানের কথা জানায় ট্রাফিক বিভাগ। সে সময় পুলিশের কড়াকড়িতে কয়েকদিন মিটারে চললেও চূড়ান্ত রূপ পায়নি। সর্বশেষ গতকাল রোববার থেকে আবারও মিটারবিহীন সিএনজি-অটোরিক্সার খোঁজে অভিযানে নামেন ট্রাফিক পুলিশ। মিটার চলাচল প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সিএনজি-বেবি টেক্সি মালিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন বিডিনিউজ রিভিউজকে বলেন, আমিও চাই মিটারে চলুক। যাত্রী হয়রানি বন্ধ হোক। কেননা আমি নিজে মালিক হলেও যাত্রী হয়েই তো আমাকে চলাফেরা করতে হয়। সুতরাং যাত্রী হয়রানি আমিও মানতে চাই না। তবে মিটারে না চলার ক্ষেত্রে চালক-যাত্রী উভয়েরই অনাগ্রহ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দু’পক্ষই চায় নিজের সুবিধা। যে কারণে তারা মিটারের পরিবর্তে চুক্তিতে যেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

তবে প্রায় ছয় হাজারের বেশি সদস্যের সংগঠন চট্টগ্রাম অটোরিক্সা, অটোটেম্পো, ফোরস্ট্রোক ও সিএনজি মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনির হোসেন বিডিনিউজ রিভিউজকে বলেন, পুলিশ যেসব গাড়ির মিটার থাকার পরেও মিটারে চলে না তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। অথচ অনিয়ম বেশি করছে তারাই। তিনি বলেন, চালকরা অনেক সময় মিটারে যেতে চাইলেও যাত্রীরাই যেতে আগ্রহী হয় না। কেননা নগরীর ভাঙ্গাচোরা রাস্তাঘাট এবং যানজটের ফাঁদে যাত্রীরাই মূলত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে যাত্রীরা বলছেন, নগরীতে যে পরিমাণ যানজট তাতে মিটারে চলাচলের জো নেই। এতে বরং লাভের চেয়ে ক্ষতিই হচ্ছে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে যাত্রীরা চালকদের কাছে চুক্তিতে যেতেও বাধ্য হচ্ছেন। বহদ্দারহাট এলাকার বাসিন্দা শাহাদাত আজাদ বলেন, মিটারের কথা বললে অনেক চালক কথাও বলতে চান না। তবে মিটারে চলাচল নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ হলেও চট্টগ্রামের বাস্তবতায় এখনো উপযুক্ততা পায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সুর মিলেছে চালক শামসুল ইসলামের কথায়ও। তিনি বলেন, কোন যাত্রী বহাদ্দারহাট হতে নিউ মার্কেট মিটারে যেতে চাইলে যানজটের কারণে তার ভাড়া আসবে অন্তত ১২০ টাকা। কিন্তু সমঝোতার মাধ্যমে গেলে দেখা যাবে ৮০ টাকায়ও আমরা চলে যাচ্ছি। তাহলে লাভ কাদের এবার আপনারাই বলুন।

অপরদিকে চালক-যাত্রীদের এমন বাস্তবতায় উভয়পক্ষেরই মিটারের প্রতি অনাগ্রহের বিষয়টি বারবার ওঠে আসছে। এমতাবস্থায় মিটারে চলাচলের বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হবে কিনা এমন প্রশ্নও ওঠেছে। তবে ট্রাফিক বিভাগ বলছে, কোন পক্ষের লাভ-ক্ষতি বিবেচনার সুযোগ তাদের নেই। তারা কেবল সরকারি নিয়মের প্রয়োগ ঘটাতে চান। এ প্রসঙ্গে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) মোহাম্মদ ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বিডিনিউজ রিভিউজকে বলেন, আমরা কেবল সরকারি নির্দেশ পালনে কাজ করে যেতে চাই। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মিটারবিহীন সিএনজি-অটোরিক্সা এবং ওইসব সিএনজি-অটোরিক্সা মিটারে চলাচল না করলে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। আমরা সেভাবেই ব্যবস্থা নিচ্ছি। এতে কোন পক্ষের লাভ-ক্ষতি বিবেচনা করার সুযোগ আমাদের নেই। এ অভিযান কতদিন চলবে কিংবা অতীতের মতো দুয়েকদিন পর আবারো থমকে যাবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা অবশ্যই রয়েছে। তবে অন্যান্য কাজের চাপে হয়তো মাঝেমধ্যে কিছুটা স্তিমিত হতে পারে কিন্তু অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকবে।

 

মতামত...