,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে শ্লীতাহানির ভুয়া মামলায় নিজেই কারাগারে

চট্টগ্রাম, ২৯ নভেম্বর :চট্টগ্রামে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার আলী নগরের বাসিন্দা সুমি আক্তার। গত ৫ মে সে নিজের শ্লীতাহানির অভিযোগে এনে তিনজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০/৩০ ধারায় ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় সুমি আক্তার এর সাথে বাদি হন নিজের স্বামি  মো.ইব্রাহিমও।
মামলার আরজিতে বলা হয়, ২৫ এপ্রিল মফিজ, শফিক ও এরশাদ তাদের আলীনগরের বাসায় গিয়ে সুমি আক্তারের শ্লীতাহানির করেন। ট্রাইব্যুনাল সেটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠান। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে গত ৬ আগস্ট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল হয়। ১ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।  ১৫ নভেম্বর তিন আসামিকে তাদের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে নবীনগর থানা পুলিশ। গতকাল রোববার  তাদের জামিন আবেদনের উপর শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু রবিবার সুমি আক্তারের পক্ষ থেকে তিন আসামির জামিনে আপত্তি নেই মর্মে ট্রাইব্যুনালে একটি দরখাস্ত দাখিল করা হয়। শুনানির সময় ট্রাইব্যুনাল সুমি আক্তারের কাছে জানতে চান, জামিনে আপত্তি নেই বলছেন, তাহলে কি মামলা মিথ্যা ছিল। এই সময় বের হয়ে আসে থলের বিড়াল। ট্রাইব্যুনালের জবাবে সুমি আক্তার বলেন, ভুল বোঝাবুঝি থেকে মামলাটি করা হয়েছিল। স্বামীর সঙ্গে তিন আসামির বিরোধকে কেন্দ্র করে তার নির্দেশে আমি মামলাটি করেছিলাম। আদালতের সঙ্গে প্রতারণা করায় এবং তিনজন নিরীহ মানুষকে ফাঁসানোর দায়ে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একইসঙ্গে আদালত তিন অভিযুক্তকে জামিনও দিয়েছেন। চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মো.সেলিম মিয়ার আদালতে এই বিচার কাজ সম্পূর্ন হয়েছে।এদিকে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আদালতের ভিন্নধর্মী ওই আদেশ শোনার পর অনেক আইনজীবী বিষয়টি জানতে ট্রাইব্যুনালে ভিড় জমান। আইনজীবীরা মনে করছেন মিথ্যা মামলা দায়ের করায় বাদিকে জেলহাজতে পাঠানোর ঘটনা চট্টগ্রাম আদালতের ইতিহাসে রেকর্ড হয়ে থাকবে। এই বিষয়ে অ্যাডভোকেট বিবেকানন্দ চৌধুরী নামে এক আইনজীবী  বলেন, আদালতকেন্দ্রিক একটি চক্র নারী নির্যাতনের মিথ্যা মামলা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ লোকজনকে হয়রানি করে আসছে।  ব্যক্তিগত কিংবা পারিবারিক বিরোধের জের ধরে হয়রানি করতে নারী নির্যাতন মামলাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।  আদালতের এই আদেশ রেকর্ড সৃষ্টি করবে এবং হয়রানি কমাবে।

মতামত...