,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে সরকারি স্কুলে ৫ দিনে ২০ হাজার ভর্তি আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম: চট্টগ্রাম মহানগরীর নয় সরকারি স্কুলে পাঁচদিনে ৫ম-৯ম শ্রেণির মোট ৩ হাজার ৬৩৩ শূন্য আসনের বিপরীতে প্রায় বিশ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। তবে মোট আবেদনের অর্ধেকেরও বেশি জমা পড়েছে পঞ্চম শ্রেণিতে।

সরকারি স্কুলে ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে  ৩০ নভেম্বর আর চলবে আগামী ১২ ডিসেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত। সোমবার সকাল পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৬৩৩ শূন্য আসনের বিপরীতে মোট ১৯ হাজার ৮৬৬টি আবেদনের মধ্যে এ শ্রেণির জন্য জমা পড়ে ১১ হাজার ৪৯৬টি।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. হাবিবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত জানান, ৫ম শ্রেণির পর বেশি আবেদন পড়েছে ৬ষ্ঠ শ্রেণির জন্য। এ শ্রেণিতে আবেদন সংখ্যা ৫ হাজার ৩৩৬টি। ৭ম, ৮ম ও নবম শ্রেণিতে যথাক্রমে ৪৫৪, ৭৭৮ ও ১ হাজার ৮০২টি আবেদন জমা পড়েছে। সোমবার সকাল দশটা পর্যন্ত এসব আবেদন জমা পড়েছে জানিয়ে অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন- আবেদন প্রক্রিয়ায় এখনো পর্যন্ত বড় ধরনের কোন সমস্যা বা অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অনলাইনে অনেকটা নির্বিঘ্নে আবেদন প্রক্রিয়া চলছে। তবে কোন ধরণের ভুল যাতে না হয়- খুব সতর্কভাবে অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণের অনুরোধ জানান তিনি।

প্রকাশ, চট্টগ্রাম মহানগরীর সরকারি স্কুলগুলোতে পঞ্চম শ্রেণিতে মোট ১৯৬০টি, ষষ্ট শ্রেণিতে ৬৩৮টি, সপ্তম শ্রেণিতে ৮০টি, অষ্টম শ্রেণিতে ২০৫টি ও নবম শ্রেণির ৭৫০টি আসনে এবার শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

স্কুল ভিত্তিক আবেদন : ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শুধুমাত্র পঞ্চম শ্রেণির ৩২০ আসনে আবেদন জমা পড়েছে ১ হাজার ৯৮২টি। কলেজিয়েট স্কুলে পঞ্চম শ্রেণির ৩২০ ও নবম শ্রেণির ১৪০ আসনের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ২ হাজার ৫২৫টি। এরমধ্যে পঞ্চম শ্রেণিতে ২ হাজার ৭৭টি ও নবম শ্রেণিতে ৪৪৮টি আবেদন জমা পড়েছে। সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির ১৬০ আসনে ১ হাজার ২৪৩টি, ৬ষ্ঠ শ্রেণির ১৭৩ আসনে ১ হাজার ৪৭৪টি ও নবম শ্রেণির ১৪০ আসনে ৩’শ আবেদন জমা পড়েছে। নাসিরাবাদ সরকারি (বালক) উচ্চ বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির ১৬০ আসনে ১ হাজার ৪৩৫টি, ৬ষ্ঠ শ্রেণির ১৮০ আসনে ১ হাজার ৫২০টি, অষ্টম শ্রেণির ৭০ আসনে ৩২৪টি ও নবম শ্রেণির ১৫০ আসনে ৩৭৪টি আবেদন জমা পড়েছে। চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির ২৪০ আসনে ১ হাজার ২৮০টি, অষ্টম শ্রেণির ৮০ আসনে ২৭৯টি ও নবম শ্রেণির ৮০ আসনে ২১১টি আবেদন পড়েছে।

চট্টগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির ১৬০ আসনে ১ হাজার ৪’শটি, ৬ষ্ঠ শ্রেণির ১০০ আসনে ৯২৬টি ও নবম শ্রেণির ৬০ আসনে ১২৪টি আবেদন পড়েছে। হাজী মুহাম্মদ মহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির ১৬০ আসনে ৯১২টি, ৬ষ্ঠ শ্রেণির ৩০ আসনে ৪২৩টি, সপ্তম শ্রেণির ২০ আসনে ২০৬টি ও নবম শ্রেণির ৪০ আসনে ৯৯টি আবেদন জমা পড়েছে। সিটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির ২৪০ আসনে ১৭৩টি এবং নবম শ্রেণির ৬০ আসনের বিপরীতে ৫৯টি আবেদন জমা পড়েছে। আর বাকলিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে (বালক-বালিকাসহ) মোট আবেদন জমা পড়েছে ২ হাজার ৫৩৬টি। এর মধ্যে বালকের ১ হাজার ৭১৭ ও বালিকাদের ৮১৯টি আবেদন পড়েছে। বিদ্যালয়টির পঞ্চম শ্রেণিতে মোট আসন সংখ্যা ২০০ (ছাত্র ১০০ ও ছাত্রী ১০০)। ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ১৫৫ (ছাত্র ১১০ ও ছাত্রী ৪৫), সপ্তম শ্রেণিতে ৬০ (ছাত্র ৩০ ও ছাত্রী ৩০), অষ্টম শ্রেণিতে ৫৫ (ছাত্র ৪০ ও ছাত্রী ১৫) ও নবম শ্রেণির ৮০ (ছাত্র ৪০ ও ছাত্রী ৪০) আসনে এবার শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। এর বিপরীতে পঞ্চম শ্রেণিতে মোট ৯৯৪টি (বালক ৫৮২ ও বালিকা ৪১২), ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ৯৯৩টি (বালক ৭৩৬ ও বালিকা ২৫৭), সপ্তম শ্রেণিতে ২৪৮টি (বালিকা ১৭০ ও বালিকা ৭৮টি), অষ্টম শ্রেণিতে ১৭৫টি (বালক ১৩৯টি ও বালিকা ৩৬টি) এবং নবম শ্রেণিতে ১২৬টি (বালক ৯০টি ও বালিকা ৩৬টি) আবেদন জমা পড়েছে সোমবার সকাল পর্যন্ত। সময় গড়ানোর সাথে সাথে এ আবেদন আরো বাড়বে বলে জানান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. হাবিবুর রহমান।

জেলাপ্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী- সরকারি স্কুলগুলোর ৫ম-৮ম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২১, ২৩ ও ২৬ ডিসেম্বর। ৯টি স্কুলকে এবার তিনটি ক্লাস্টারে (গ্রুপে) বিভক্ত করায় ভর্তি পরীক্ষাও নিতে হচ্ছে তিন দিনে। শিক্ষার্থীদের (র্র্দয://ষষষ.থ্রটর্.ণফর্ণটফপ.ডমব.ঠঢ) এই ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। আগামী ১২ ডিসেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ পাবে শিক্ষার্থীরা।

তবে গত বছর এক আবেদনে ক্রমান্বয়ে সবকয়টি স্কুল পছন্দের সুযোগ থাকলেও এবার একটি আবেদনে একটি মাত্র স্কুল পছন্দ দিতে পারবে শিক্ষার্থীরা। সেক্ষেত্রে তিনটি ক্লাস্টারে পরীক্ষায় অংশ নিতে হলে আলাদা ভাবে তিন বার আবেদন করতে হবে ছাত্রদের। একই ভাবে দুটি ক্লাস্টারে পরীক্ষায় বসতে দুই বার আবেদন করতে হবে ছাত্রীদের।

 পদ্ধতি পরিবর্তন হলেও ফি’র অংক অভিন্নই আছে।  প্রতি আবেদন বাবদ দেড়শ (১৫০) টাকা ফি দিতে হবে ভর্তিচ্ছুদের। আর এ ফি পরিশোধ করতে হবে অনলাইনেই। গতবার ডাচ বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নেয়া হলেও এবার টেলিটকের মাধ্যমেই এ ফি পরিশোধ করতে হচ্ছে ভর্তিচ্ছুদের।

উল্লখ্য, পরীক্ষার আগে বিভিন্ন কোটার আবেদন যাচাই-বাছাই করা হলেও এবার যাচাই করা হবে ফলাফলের পর। মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হলে কোটায় আবেদন করা পরীক্ষার্থীকে ফলাফল প্রকাশের পরদিনই কোটার স্ব-পক্ষে যাবতীয় ডকুমেন্ট (প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্র) সহ সংশ্লিষ্ট স্কুলে উপস্থিত হতে হবে। সেখানে জেলাপ্রশাসনের প্রতিনিধি ও শিক্ষক প্রতিনিধিগণ কোটার ডকুমেন্ট যাচাই-বাছাই করবেন। আর শিফটের বিষয়ে মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া বিজোড় সংখ্যার রোল নম্বরধারীরা মর্নিং শিফট এবং জোড় সংখ্যার রোল নম্বরধারীরা সংশ্লিষ্ট স্কুলে ডে শিফটে ভর্তির সুযোগ পাবে।

মতামত...