,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে সল্টগোলা-এয়ারপোর্ট বিমান যাত্রীদের আলাদা সড়ক

cনিজস্ব প্রতিবেদক,বিডিনিউজ রিভিউজঃ চট্টগ্রামে সল্টগোলা থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত বিমান যাত্রীদের আলাদা সড়ক নির্মাণ করা হবে। এ রোড়ের যানজট কমাতে সল্টগোলা ক্রসিং থেকে বিমান বন্দর সড়ক পর্যন্ত রাস্তার বাম পাশে পৃথক একটি লেন তৈরি করার পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়ে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. ইকবাল বাহার বলেন, নগরীর একমাত্র ভিআইপি সড়ক- এয়ারপোর্ট রোডের যানজট নিয়ে প্রতিনিয়তই আমরা অভিযোগ পেয়ে আসছি। অনেকের যানজটে পড়ে বিমানের ফ্লাইট মিস করার কথাও আসছে। তবে এটি নিয়ে আমরা নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আগামী কিছুদিনের মধ্যে সল্টগোলা ক্রসিং থেকে রাস্তার বাম পাশে পৃথক একটি লেন তৈরি করা হবে। এই লেন দিয়ে শুধুমাত্র বিমান যাত্রীর যানবাহনই যাতায়াত করবে। এটি করতে গিয়ে সড়কের বাম পাশে যেসব স্থাপনা থাকবে সব উচ্ছেদ করা হবে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে আশা করছি বিমান যাত্রীদের আর ফ্লাইট মিস করতে হবে না।

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘দোষারোপ নয়, দুর্ঘটনার কারণ জানতে হবে, সবাইকে নিয়ম মানতে হবে’ শীর্ষক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে সংগঠনের সভাপতি এস এম আবু তৈয়বের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শফিক আহমেদ সাজীব।

সিএমপি কমিশনার আরো বলেন, একটি নিরাপদ সড়কের জন্য প্রথমে প্রয়োজন পরিকল্পনা গ্রহণ, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং সড়ক ব্যবহারের নিয়ম ও আইন জানা থাকা। এসব বিষয়ে অবগত থাকলে সড়কে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমবে বলে আমরা মনে করি।

কমিশনার ইকবাল বাহার আরো বলেন, আমাদের সকলের মানসিকতা হলো ‘বিচার মানি, তাল গাছ আমার’। এই মানসিকতা পরিহার করতে হবে। যতদিন এ মানসিকতা লালন করব, ততদিন সড়ক নিরাপদ হবে না, আসবে না শৃঙ্খলা। আমি ক্ষমতাশালী তাই আমার গাড়ি সড়কের ওপর দাঁড় করিয়ে রাখব- এই চিন্তা বাদ দিতে হবে। দাঁড়াতে হলে প্রয়োজনে সড়কের এক পাশেই গাড়ি দাঁড় করাতে হবে।

তিনি আরো বলেন. আমাদের একটি দোষ আছে- সেটি হলো আমরা যে যে বিষয়ে অভিজ্ঞ তার থেকে সে বিষয়ে মতামত গ্রহণ করি না। একজন চালক সে যতই ছোট হোক, গাড়ির বিষয়ে তারও কিছু অভিজ্ঞতা আছে। কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি তার কাছ থেকে কোনো মতামত না নিয়ে।

ইকবাল বাহার আরো বলেন, বর্তমানে সড়কে কোনো শৃঙ্খলা নেই। এ কারণে আমাদের সড়ক নিরাপদ নয়। বিশৃঙ্খল ও অনিরাপদ সড়কে তাই প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। তবে দুর্ঘটনা কমাতে কেবল চালককে নয়, একই সঙ্গে পথচারী, যাত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকেই সচেতন হতে হবে। মানতে হবে আইন।

তিনি বলেন, আমাদের সকলের উপদেশ দেওয়ার প্রবণতা বেশি। আমরা উপদেশ দিতেই বেশি ভালবাসি। কিন্তু উপদেশ শুনতে, পালন করতে ও মানতে অভ্যস্ত নই। এ প্রবণতাও পরিহার করতে হবে। তবেই সড়কে শৃঙ্খলা আসবে।
সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ এনামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং এন্ড বার্থ অপারেটরস্‌ এসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান এ, কে এম শামসুজ্জামান (রাসেল), দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশের সহ-সম্পাদক এম. নাসিরুল হক, বাংলাদেশ জাতীয় সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন, সিলেট-চট্টগ্রাম পূর্বাঞ্চলীয় কমিটির সভাপতি ছিদ্দিকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম প্রাইমমুভার ট্রেইলর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হুমায়ূন কবির, চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের সভাপতি উজ্জ্বল বিশ্বাস, বাংলাদেশ অটোরিকশা অটো-টেম্পো শ্রমিক ইউনিয়ন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম (খোকন), ওমেগার কর্ণধার মোঃ মোস্তফা কামাল লিটন ও সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাংবাদিক চৌধুরী ফরিদ।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ফুলকলি ফুডস’র জিএম এম এ ছবুর, চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের মহাসচিব মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম হালকা মোটরযান চালক শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনোয়ার হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামশুল ইসলাম আরজু, নিরাপদ সড়ক চাই বাকলিয়া থানা কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ইমরান, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ওসমান গণি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ আলম, আবু সৈয়দ, নিরাপদ সড়ক চাই চকবাজার থানা কমিটির আহ্বায়ক খালিদ বিন মিঠু, সদস্য সচিব আসিফ নেওয়াজ বাবু, চট্টগ্রাম শুভপুর মুহুরী প্রজেক্ট বাস, মিনি বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বেলায়েত হোসেন, কার্যকরী সভাপতি মোঃ আনোয়ারুল কাদের, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম, চট্টগ্রাম হালকা মোটর চালক শ্রমিক ইউনিয়ন সদস্য ফোরামের সভাপতি নুর মোহাম্মদ ইলিয়াছ, মোহাম্মদ আজাদ দোভাষ প্রমুখ।

মতামত...