,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ৪ চিন্তাইকারি আটক ১০ লাখ টাকা উদ্ধার

aনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ চট্টগ্রামে সম্প্রতি  দিনদুপুরে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নগদ ১৫ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে এদের গ্রেফতার ও উদ্ধার করা হয় ছিনতাইয়ের ১০ লাখ ২০ হাজার টাকাও।

রোববার (২৪ এপ্রিল) নগরীর পাঁচলাইশ থানার বাদুরতলা এলাকায় এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ধরা পড়ে স্থানীয় একটি গ্যারেজের সিসি ক্যামেরায়।  সিসি ক্যামেরার এই ফুটেজের ওপর ভিত্তি করে চারজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পাঁচলাইশ থানা পুলিশ।

গ্রেফতার চার ছিনতাইকারী হলেন দক্ষিণ শোলকবহর এলাকার সেকান্দর মিয়ার ছেলে মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান (২১), ঘাসিয়াপাড়া এলাকার মো. শাহজাহানের ছেলে মো. ডালিম ওরফে সোহেল (২২), শোলকবহরের মুন্সিপুকুরের দক্ষিণ পাড় এলাকার মৃত মো. আব্দুল আলিমের ছেলে পারভেজ আহমেদ তুহিন ওরফে মোটা তুহিন এবং বড় মিয়া মসজিদ এলাকার ওয়াইজ উল্লাহ মেম্বারের বাড়ির নুরুল ইসলামের ছেলে তারিকুল ইসলাম লিসান (২০)।

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় পাঁচলাইশ থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিবরণ দিয়ে উপ পুলিশ কমিশনার (উত্তর) পরিতোষ ঘোষ বলেন, ঘটনার দিন ব্যবসায়ী দিদার আলম ব্র্যাক ব্যাংকের চকবাজার শাখা থেকে নগদ ১৫ লাখ টাকা তুলেন।  টাকা তোলার পর থেকে তাকে কয়েকজন ছিনতাইকারীরা অনুসরণ করছিল। এসময় রাইডারে (মিনিবাস) চড়ে নিজের গন্তব্যস্থলে যাচ্ছিলেন aওই ব্যবসায়ী। গাড়িটি বাদুরতলার জেবি করপোরেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সামনে পৌঁছালে দিদার আলমকে মারধর করে জোরপূর্বক টাকা ভর্তি ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে যায় দুষ্কৃতিকারীরা।  এ ঘটনায় ১০ থেকে ১২ জন ছিনতাইকারী অংশ নেয়।

বিভিন্ন সূত্র ও আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে জড়িতদের মধ্য থেকে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।  প্রথমে তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ের ৩০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও ৯ লাখ ৯০ হাজার টাকাসহ ব্যাগটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতার ও বাকি টাকা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

গ্রেফতার চারজন বিভিন্ন পেশার সঙ্গে জড়িত আছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে অন্যান্য থানায় কোনো মামলা আছে কিনা তা দেখা হচ্ছে।

এদিকে ছিনতাইয়ের ঘটনার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ ও পাঁচলাইশ থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই দিন (২৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ৪৪ মিনিটে প্রথমে রাইডার গাড়িটি প্রতিরোধ করা হয়। এসময় ছিনতাইকারী দলের কয়েকজন গাড়িতে উঠে দিদার আলমের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করতে থাকেন। তাকে টেনেহিঁচড়ে গাড়ি থেকে নামিয়ে আনেন। এসময় দিদার আলমের পিঠে থাকা স্কুল ব্যাগটি কেড়ে নিতে আরেকদফা ধস্তাধস্তি করে ছিনতাইকারীরা। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে গ্রেফতার মো. ডালিম ব্যাগটি কাঁচি দিয়ে কেটে নিয়ে বহদ্দারহাটের দিকে দৌঁড় দেয়। এসময় দিদার আলম সেদিকে যেতে চাইলে গ্রেফতার আরেক আসামি পারভেজ তুহিন তাকে কিল-ঘুষি মারতে মারতে পেছনের দিকে সরিয়ে দেয়। পরে সবাই দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরে পড়ে।

এসময় অনেক মানুষ ছিনতাইয়ের ঘটনা দেখলেও কেউ দিদার আলমকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসেনি।

সংবাদ সম্মেলনের সময় থানায় উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী দিদার আলম ও তার আত্বীয় স্বজনরা।

দিদার আলম বলেন, ‘টাকাগুলো আমার চাচাতো ভাই ব্যবসায়ী সেকান্দর তালুকদারের। তিনি আমাকে ৮ লাখ এবং ৭ লাখ টাকার দুটি চেক দিয়ে টাকাগুলো তুলে আনতে বলেন। ব্যাংক থেকে টাকাগুলো তুলে আমি চকবাজারের তেলিপাট্টি মোড় পর্যন্ত হেঁটে যাই। সেখান থেকে রাইডারে উঠি। গাড়িটি বাদুরতলায় পৌঁছলে হঠাৎ করে কয়েকজন গাড়িতে উঠে আমাকে প্রথমে গালিগালাজ এবং মারধর করতে শুরু করে। প্রতিরোধ করতে চাইলে তারা আমাকে টেনেহিঁচড়ে নিচে নামিয়ে পিঠে থাকা ব্যাগটি নিয়ে পালিয়ে যায়। এসময় আমি ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করলেও কেউ এগিয়ে আসেনি।’

 

মতামত...