,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে সেলফোনেচাঁদা দাবি

জনতা ব্যাংক চট্টগ্রামের মোহাম্মদপুর শাখার ব্যবস্থাপক অরুণ কান্তি শীল। গত শনিবার বেলা ২টায় তার সেলফোনে পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টির পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি টেলিটক কোম্পানির একটি নম্বর থেকে কল করে ৪০ লাখ টাকা দাবি করেন। এ সময় অকথ্য ভাষায় গালাগালসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেন ওই ব্যক্তি। ৪০ মিনিট পর পুনরায় ফোন করে একই ব্যক্তি জানান, টাকা না দিলে তাকে মেরে ফেলা হবে। একই সঙ্গে অফিসে আক্রমণ ও পরিবার-পরিজনের ক্ষতি করা হবে। টাকা পাঠানোর জন্য ওই ব্যক্তি একটি বিকাশ নম্বরও দেন।

এ ঘটনার পর থেকেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন অরুণ কান্তি শীল। বিষয়টি নিয়ে রোববার নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেন এ ব্যাংকার।

তরুণ কান্তি শীলই শুধু নয়, একই দিন সেলফোনে টাকা চেয়ে হুমকি দেয়া হয় জনতা ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়ের (জোন সি) উপমহাব্যবস্থাপক দিদারুল আলম চৌধুরী, সাধারণ বীমা শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক আবদুর রশীদ, কালুরঘাট শাখার ব্যবস্থাপক আবুল মনছুর, মুরাদপুর শাখার ব্যবস্থাপক সুব্রত দাশ, ওয়াসা শাখার ব্যবস্থাপক মোস্তাফা আনোয়ার, কাজীর দেউড়ি শাখার ব্যবস্থাপক খোরশেদ আলমসহ ব্যাংকটির কয়েকটি শাখাপ্রধানদের। প্রত্যেক কর্মকর্তার কাছে প্রথমে দাবি করা হয় ২০ থেকে ৫০ লাখ টাকা। কমপক্ষে ২-৪ লাখ টাকা হলেও দেয়ার কথা বলেন হুমকিদাতারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনার আব্দুল জলিল মণ্ডল  বলেন, বিভিন্ন ব্যাংক, সিডিএ ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের কাছে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেয়ার বিষয়ে আমার জানা নেই। থানায় অভিযোগ করলে হুমকিদাতাদের খুঁজে বের করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।

জনতা ব্যাংক আঞ্চলিক কার্যালয়ের সাধারণ বীমা শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক আবদুর রশীদ বলেন, ‘পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টির আঞ্চলিক কমান্ডার বিপ্লব পরিচয়ে একটি ফোন আসে শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে। ফোনে তিনি আমার কাছে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করেন এবং তার নেতার সঙ্গে কথা বলতে বলেন। আমি তার নেতার সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানাই এবং তাকে ব্যাংকে এসে দেখা করতে বলি। পরে ওই প্রান্ত থেকে গালাগাল করে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিলে আমি ফোন কেটে দিই।’ কয়েক মাস আগে এ কর্মকর্তা কক্সবাজার শাখায় কর্মরত থাকা অবস্থায়ও ফোনে একই ধরনের হুমকি পান বলে জানান।

উপমহাব্যবস্থাপক দিদারুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘আমার সেলফোনে সর্বহারা পার্টির জন্য বিপ্লব পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি চাঁদা দাবি করেছেন। জনতা ব্যাংক চট্টগ্রামের আরো কয়েকটি শাখায় একই ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে শুনেছি। এ ঘটনায় জনতা ব্যাংকের মোহাম্মদপুর শাখার ব্যবস্থাপককে থানায় জিডি করতে বলেছি। একের পর এক সেলফোনে চাঁদা দাবি ও মেরে ফেলার হুমকির ঘটনায় আমরা ব্যাংক কর্মকর্তারা আতঙ্কের মধ্যে আছি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সোনালী ব্যাংক লালদীঘি শাখার এক কর্মকর্তা জানান, সোনালী ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার কয়েকজন কর্মকর্তাকে ফোন করে চাঁদি দাবি ও হুমকির ঘটনা ঘটেছে। এমনকি কয়েকজন কর্মকর্তা হুমকিদাতাদের টাকা পরিশোধ করেছেন বলে শোনা গেছে।

শুধু ব্যাংকার নন, চাঁদার দাবিতে সেলফোনে হুমকি পেয়েছেন চট্টগ্রাম সিডিএ ও চসিক কর্মকর্তরাও। গত সোমবার একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন পান সিডিএর রাজস্ব কর্মকর্তা আনিসুল হক পাটোয়ারী। রিসিভ করতেই তার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন ওই অজ্ঞাত ব্যক্তি। অন্যথায় তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। ওই হুমকির পর নগরীর কোতোয়ালি থানায় জিডি করেন আনিসুল হক।

একইভাবে চাঁদা চেয়ে ফোন এসেছে সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান বিন শামস, নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমানসহ প্রকৌশলী বিভাগ, প্ল্যানিং বিভাগ, সংস্থাপন ও হিসাব শাখার কয়েকজন কর্মকর্তার কাছে।

এর আগে ১০ নভেম্বর থেকে কয়েক দিন একই ধরনের চাঁদা দাবি ও হুমকি দেয়া হয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের রাজস্ব বিভাগ ও হিসাব শাখার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। এ সময় করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আহমুদুল হক, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, রাজস্ব কর্মকর্তা শামসুল আলমসহ আটটি রাজস্ব সার্কেলের কর আহরণকারী বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার অভিযোগে ১০ নভেম্বর কোতোয়ালিসহ বিভিন্ন থানায় জিডি করেন বিভিন্ন সার্কেলের ট্যাক্সেশন অফিসার (টিও) ও ডেপুটি ট্যাক্সেশন অফিসাররা (ডিটিও)। তাদের প্রত্যেকের কাছে ৫-১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের রাজস্ব সার্কেল (৩)-এর ট্যাক্সেশন অফিসার জসিম উদ্দিন বলেন, ‘কখনো সর্বহারা পার্টি পরিচয়ে, কখনো পরিচয় না দিয়ে করপোরেশনের হিসাব শাখা ও রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে চাঁদা দাবি করেছে। ঘটনায় আমরা থানায় জিডি করেছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’

মতামত...