,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে হাজারী গলিতে ভেজাল ওষুধের কারবার

চট্টগ্রামের হাজারী গলিতে ভেজাল ওষুধের কারবার নিয়ে এখন মুখোমুখি ম্যাজিস্ট্রেট ও ওষুধ ব্যবসায়ীরা। গত মঙ্গলবার দেশের বড় এই ওষুধের বাজারে অভিযান চালাতে গেলে হামলা করেন ব্যবসায়ীরা। ভ্রাম্যমাণ আদালত ও নগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ভেজাল ওষুধ সরবরাহ করে হাজারী গলিতে রাতারাতি ‘আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ’ হয়ে গেছে ১০টির বেশি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ভেজাল ওষুধের নেপথ্যে রয়েছে ৩০ জন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী।
যাদের আয় মাসে ৪০ লাখ টাকার বেশি। ইতিমধ্যে এসব ব্যবসায়ীর নামের তালিকা চূড়ান্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শিগগিরই তাদের ধরতে অভিযান চালানো হবে। তবে অন্যদিকে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওষুধ ব্যবসায়ীরা।
তাদের দাবি, অভিযানের নামে হাজারী গলিতে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করছেন ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রশাসনের লোকজন। তাই বাধ্য হয়েই দোকান বন্ধ রেখে রাস্তায় নামতে হয়েছে তাদের। ভবিষ্যতে এই ধরনের কর্মসূচি নেয়া হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ওষুধ ব্যবসা বন্ধ রাখবেন বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন অনেকে।
জেলা প্রশাসনের সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন নজরদারিতে থাকার পর শেষমেশ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হয়েছেন যে হাজারী গলিতে ভেজাল ওষুধের ভয়াবহ কারবার রয়েছে। একটি চক্র প্রশাসনের আড়ালে এসব ওষুধ প্রস্তুত ও বাজারজাত করছে সারা দেশের ফার্মেসিগুলোতে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নথি ঘেঁটে দেখা যায়, গত ৬ মাসে চট্টগ্রাম নগরীর অন্তত আড়াই হাজার ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে দেখা গেছে, সেখান থেকে যেসব ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে তার অধিকাংশ ভেজাল। এসব ভেজাল ওষুধের সঙ্গে অনেক সময় মিলছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালসহ একাধিক সরকারি মেডিকেলের চোরাই ওষুধও।
পরে আটককৃত লোকজন জানান এসব ওষুধ সরবরাহের পেছনে রয়েছে হাজারী গলির ব্যবসায়ীরা। যাদের কাছ থেকে অত্যন্ত কম দামে পাওয়া যায় এসব ওষুধ। এসব ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে ১৫৮টি মামলা দায়ের করেছেন ম্যাজিস্ট্রেট। এসব মামলার অধিকাংশই হাজারী গলির ব্যবসায়ীরা।
ঘটনা অনুসন্ধানে চলতি মাসের জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত তালিকা প্রস্তুত করে গোয়েন্দারা ৩০ জন ওষুধ ব্যবসায়ীর নাম চূড়ান্ত করেন। যাদের মধ্যে অনেকে গত মঙ্গলবারের হামলার ঘটনারও নেতৃত্ব দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভেজাল ওষুধের কারবার নিয়ে মানবজমিনের সঙ্গে কথা হয় ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রুহুল আমিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, কয়েকটি শক্তিশালী চক্র আসলে এই কাজের সঙ্গে জড়িত। তারা চায় না প্রশাসন সেখানে অভিযান চালাক। কারণ এতে তাদের কোটি টাকার ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষকে নিরাপদ রাখতে আমরা অভিযান অব্যাহত রাখবো। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের সহযোগিতা করছে। ইতিমধ্যে যারা অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে হামলা চালিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
অন্যদিকে ম্যাজিস্ট্রেটের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির নেতারা জানান, ঢালাওভাবে সবার ওপর খড়গ চালানো ঠিক নয়। যারা নিম্নমানের ওষুধ সরবরাহ করছে তাদের ওপর ব্যবস্থা গ্রহণ করলে কোন আপত্তি নেই। কিন্তু অন্যায়ভাবে অনেক ফার্মেসি মালিককে থানায় নিয়ে যাওয়া যাবে না।
সংগঠনের সভাপতি সমীর কান্তি সিকদার বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত। কোন ধরনের অভিযোগ ছাড়াই অনেক ব্যবসায়ীকে হয়রানি করা হচ্ছে। এই ধরনের কাজ অব্যাহত থাকলে ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে না। দোকান বন্ধ রেখে অনির্দিষ্টকালের জন্য রাস্তায় নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।

মতামত...