,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে হামলার পরিকল্পনাকারী ৬ জঙ্গি গ্রেফতার,অনেক তথ্য জানা যাবেঃ ডিআইজি

abnr ad 250x70 1নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ  চট্টগ্রামে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনাকারী ৬ জঙ্গিকে সীতাকুন্ড থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আরেকজনকে গ্রেফতার করলে অনেক তথ্য জানা যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি শফিক আহমেদ।

বুধবার ১৩ জুলাই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ১৫টি জেলা প্রশাসনের সাথে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সে এসব কথা বলেন তিনি।

ডিআইজি শফিক আহমেদ বলেন,গতমাসে জঙ্গি বিরোধী অভিযানে চট্টগ্রাম থেকে ১৫ জন জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।সে অভিযানে জেএমবি,আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 তিনি বলেন, শনিবার চট্টগ্রামে বড় ধরনের হামলা করতে চেষ্টা করছিল গ্রেফতারকৃত ঐ জঙ্গিরা।তাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করা হয়েছে।

সীতাকুন্ডসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি একজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তাকে গ্রেফতার করতে পারলে চট্টগ্রামে পুলিশ ও বিদেশী নাগরিককে আশঙ্কামুক্ত বলা যাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কক্সবাজার থেকে শুরু করে পার্বত্য জেলায় বিদেশী নাগরিক আসে তাদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

তিনি আরো বলেন,যারা জঙ্গি তৎপরতার সাথে জড়িত তারা পরিবারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে দূরবর্তী নির্জন স্থানে গিয়ে ভাড়া বাসায় থাকছে। এবং সে বাসাতে তারা অস্ত্র-সস্ত্র রেখে প্রশিক্ষণ গ্রহন করে। সে বাসা থেকে পরবর্তীতে তারা অন্য একটি বাসায় গিয়ে ওঠে এবং সেখান থেকে তারা অভিযান পরিচালনা করতে যায়। অপারেশন পরিচালনা করার পর সে বাসা ত্যাগ করে চলে আসে।

ডিআইজি আরো বলেন,আমরা সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দিচ্ছি প্রত্যন্ত অঞ্চলে যারা ভাড়া বাসায় থাকে তাদের তথ্য সংগ্রহ করতে। যে সমস্ত বাসায় জঙ্গিরা থাকে সে সমস্ত বাসার ঠিকানা সংগ্রহ করছে বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রামে যারা বাসা ভাড়া করে থাকে তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। কুমিল্লা জেলায় ৫০০টি বাসার মধ্যে ৩০টি বাসায় নজরদারি রাখা হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে। যেখানে সব সময় মানুষ বাসা ভাড়া করে বসবার করে। বাকি বাসাগুলোতে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে।যে সমস্ত বাসায় মানুষের আনাগোনা বেশী সে সমস্ত বাসায় তালিকা তৈরী করছে পুলিশ।

তিনি আরো জানান, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে যারা নিখোঁজ রয়েছে তাদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। আইজিপি মহোদয়ের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে স্পেশাল ব্রাঞ্চ র্ফোস টিম গঠন করা হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে কারা জড়িত তার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে ।

১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী যারা নিখোঁজ রয়েছে তাদের পিতা-মাতা পরিবারের সাথে কথা বলে তাদের বন্ধুদের সাথে কথা বলে তাদের স্থান জানতে চেষ্টা করছে। সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে তাদের অবস্থান নিশ্চিত করতে সংগ্রহের চেষ্টা করছে।
বিভিন্ন ধর্মীয় নেতাদের বিশেষ করে মন্দিরের সেবায়েত, ভিক্ষুদের হত্যা করা হচ্ছে একটি নিদির্ষ্ট সময়ে।সকাল ৬ টা থেকে ৮টার মধ্যে এই ঘটনা ঘটাচ্ছে। অথবা যেসব নির্জন স্থানে মন্দির রয়েছে সে সমস্ত স্থানে হামলা করা হচ্ছে।

যে সমস্ত মন্দিরে সেবায়েত,ভিক্ষু বসবাস করে তাদের একাকী বের না হতে নির্দেশ জারি করা হয়েছে।আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে তাদের পাহারা দিবে।

শফিক আহমেদ আরো বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীতে সোয়াতের একটি টিম গঠন করা হয়েছে । যা আমেরিকা থেকে উন্নত মানের প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছে।প্রয়োজন হলে সিএমপি কমিশনার তাদের ব্যবহার করবে।

কনফারেন্সে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো.রুহুল আমীন,জেলা প্রশানক মেজবাহ উদ্দিন,চট্টগ্রাম সিএমপি কমিশনার ইকবাল বাহার,পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার,খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মজিদ মিয়া,চট্টগ্রাামের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যলয়ের উপাচার্য ও বিভিন্ন পেশার নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

মতামত...