,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে হুন্ডির শত কোটি টাকা মেরে সপরিবারে বিএনপি নেতা উধাও

Shajahan ex councilorনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ চট্টগ্রামের সাবেক এক কাউন্সিলর মো. শাহজাহান হুন্ডির ’শত কোটি টাকাসহ সপরিবারে নিরুদ্দেশ হয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে । ভুক্তভোগীরা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে পাওনাদাররা বাড়িতে গিয়ে তার কোনো হদিস পাচ্ছেন না। তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এ ঘটনায় তার ঘনিষ্ট স্বজনেরাও গা ঢাকা দিয়েছেন। শাহজাহান নগরীর  দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের সাবেক এক কাউন্সিলর ও ওই ওয়ার্ডের  বিএনপির সভাপতি।

 

২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তৌফিকের কাছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হেরে যান শাহাজাহান।
সাবেক কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা জাফর আলম চৌধুরী বলেন, ‘শাহজাহান হুন্ডির শত শত কোটি টাকা নিয়ে সপরিবারে নিরুদ্দেশ হয়ে গেছেন বলে শুনেছি। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক পাওনাদার তার বাড়ি গিয়ে ভিড় করছে। কিন্তু তার হদিস পাচ্ছে না।’ একই বক্তব্য পাশ্ববর্তী চিকনদন্ডী ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক সৈয়দ মহসিনেরও।
হাটহাজারী থানার ওসি মো. ইছমাঈল  বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমকে বলেন, ‘শাহজাহান হুন্ডির ব্যবসা করত কি-না সেটা জানি না। গেল  কয়েকদিন ধরে লোকজন তার হদিস পাচ্ছে না। তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তবে সাবেক এ কাউন্সিলর বিপুল পরিমাণ টাকা-পয়সা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছে বলে এলাকায় প্রচার আছে।’
ভুক্তভোগী হাটহাজারী উপজেলার কাটিরহাট এলাকার রফিকুল ইসলাম বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমকে বলেন, ‘আমার ছোটভাই তৌফিকুল আলম দুবাই থাকেন। গেল সপ্তাহে পাকাঘর করার জন্য হুন্ডির মাধ্যমে শাহজাহানের কাছে চার লাখ টাকা পাঠায়। এখন তার কোনো হদিস মিলছে না। বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে তার বাসা তালাবদ্ধ।’ বক্তব্য নিতে বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম একাধিকবার শাহাজাহানের মোবাইল কল দিলেও তার  ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
হুন্ডিতে টাকা লেনদেন করা অবৈধ। এরপরও কেন শাহজাহানের কাছে আপনার ভাই টাকা পাঠালেন, প্রশ্ন করলে বলেন, ‘দ্রুত টাকার দরকার ছিল। ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠালে টাকা পেতে দেরি হয় তাই।  জানা গেছে, সপরিবারে নিরুদ্দেশ হওয়ার আগে নিজের ব্যবহৃত ২৬ লাখ টাকা দামের গাড়িটিও শাহজাহান বিক্রি করে দেয় ১৪ লাখ টাকায়।
অভিযোগ আছে, বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত থাকলেও আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে হুন্ডিসহ নানা অবৈধ ব্যবসা করে আসছে শাহজাহান।

এক সময় হতদরিদ্র ছিল শাহাজাহান। ১০-১৫  বছর আগে তার বড়ভাই সেলিম দুবাই চলে গেলে ভাগ্য বদলে যায় তার পরিবারের।  চৌধুরীহাটে আরাফাত টাওয়ারসহ শতকোটি টাকার সম্পত্তির মালিক তারা।

ভুক্তভোগী নগরের রেয়াজউদ্দিন বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা  জানান, শাহাজাহান রেয়াজউদ্দিন বাজারকেন্দ্রিক হুন্ডি ব্যবসায় জড়িত। প্রশাসনের দুর্নীতিবাজ কিছু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এতদিন  হুন্ডির ব্যবসা করে আসছিল ।  শত কোটি টাকা মেরে দেওয়ার প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি থাকলেও বেআইনি হওয়ায় আইনের আশ্রয়ও নিতে পারছেন না ভুক্তভোগীরা।

বি এন আর/০০১৬০০৩০০১৩/০০০১৯৯/পি

মতামত...