,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে ২৫ হাজার কোটি টাকার চীনা ইকোনমি জোন ও কর্ণফুলীর টানেল নির্মাণের কাজ শুরু

china-epzপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের রাষ্ট্রপতি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও ফলক উন্মোচন করবেন ১৪ অক্টোবর

নাছির মীর,বিডিনিউজ রিভিউজঃ  চট্টগ্রামে ২৫ হাজার কোটি টাকার দুই মেগা প্রকল্প উদ্বোধনের জন্য ভিডিও কনফারেন্সের কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। আনোয়ারায় কৃষিজমি ভরাট করে শুরু হয়েছে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পজোনে যাওয়ার রাস্তা নির্মাণের কাজ এবং কর্ণফুলী নদীতে টানেল নির্মাণের জন্য নেভাল একাডেমি পয়েন্টে আজ ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে উদ্বোধনের ফলক বসানোর কাজ।

karnofuli-tunnel-620x330আগামী ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয় যৌথভাবে এই দুই মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণ কার্যক্রম শুরুর ফলক উন্মোচন করবেন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে।

চীনা অর্থনৈতিক জোন প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে সোমবার চট্টগ্রাম-বাঁশখালী সড়কের আনোয়ারার কালাবিবির দীঘির মোড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্কেভেটর দিয়ে চলছে কৃষিজমি ভরাটের কাজ, পাশাপাশি একটি পে লোডারও কাজ করছে। প্রায় ৩০০ ফুট পর্যন্ত মাটি ভরাটের কাজ শেষ হয়েছে। আর চারপাশের কৃষিজমিগুলোতে রয়েছে কৃষকের ব্রি- ২২, ৩২, ৪৯, ৬২ জাতের ধান। মাস দেড়েক পরেই এসব ধান কাটার কথা রয়েছে। এই ধান ক্ষেতের মধ্যেই চলছে মাটি ভরাটের কাজ। আর মাঠে দাঁড়িয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জায়গা সার্ভের কাজ করছেন কার কী পরিমাণ জমিতে কোন ধরনের ধান চাষ করা হয়েছে তা নির্ধারণের জন্যে। উদ্দেশ্য এসব ধানের ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

রাস্তা নির্মাণে সাইট ইঞ্জিনিয়ারের দায়িত্বে থাকা শ্যামল সাহা বিডিনিউজ রিভিউজকে বলেন, ‘বেলচূড়া মৌজার এই বিলের উপর দিয়ে ১০০ ফুট চওড়া ও দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ একটি রাস্তা হবে। গত শনিবার থেকে শুরু হয়েছে রাস্তা নির্মাণের কাজ, এই রাস্তা যাবে অর্থনৈতিক জোনে। এখন আগামী ১৪ অক্টোবর উপলক্ষে চলছে এই রাস্তা নির্মাণের কাজ, যাতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চীনের রাষ্ট্রপতিকে দেখানো যায় যে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে।’

চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পজোন সম্পর্কে আনোয়ারার উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা গৌতম বাড়ৈ বিডিনিউজ রিভিউজকে বলেন, ‘১৪ অক্টোবর ভিডিও কনফারেন্সের জন্য কাজ চলছে। তবে পুরো রাস্তার এখন কাজ হবে না। শুধুমাত্র ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রকল্পের উদ্বোধনের জন্য আমরা স’ানটিকে নির্বাচন করে রাখছি।’

জানা যায়, আনোয়ারা উপজেলায় বেলচূড়া, হাজিগাঁও, বটতলী বৈরাগ ও গহিরা এলাকার ৭৭৪ একর জমিতে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকায় এই অর্থনৈতিক ও শিল্পজোন গড়ে তোলা হবে। প্রকল্পটিতে জাহাজ নির্মাণ শিল্প, ইলেকট্রিক ফার্নেস ও সিমেন্ট শিল্পকে প্রাধান্য দিয়ে ৩৭১টি শিল্প-কারখানা গড়ে তোলা হবে। প্রকল্পের কাজ আগামী বছর শুরু হয়ে ২০২০ সালে শেষ হতে পারে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের জন্য ২৯১ একর খাসজমি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষকে (বেজা) হস্তান্তর করেছে জেলা প্রশাসন ও বাকি ৪৮৪ একর ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রায় ৯ একর ভূমি এখনো অধিগ্রহণ করা হয়নি এবং ভূমির মালিকরা এখনো অর্থ পায়নি।

অপরদিকে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে কর্ণফুলীর তলদেশে শুরু হচ্ছে টানেল নির্মাণের কাজ। কর্ণফুলীর পশ্চিম তীরে নেভাল একাডেমি পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে অপর পাড়ে ( পূর্বদিকে) কাফকো ও সিইউএফএল পয়েন্টে গিয়ে শেষ হবে টানেল। আগামী ১৪ অক্টোবর টানেলেরও নির্মাণকাজ উদ্বোধনের কথা চীনা রাষ্ট্রপতির।

কর্ণফুলীর তলদেশে টানেল নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ইফতেখার কবির বিডিনিউজ রিভিউজকে বলেন, ‘কর্ণফুলীর পশ্চিম তীরে প্রজাপতি পার্কের পাশে ভিত্তিপ্রস্তর স’াপনের জন্য একটি ফলক নির্মাণের কাজ আজ শুরু হবে। একইসাথে একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করার জন্য যা যা করার প্রয়োজন আমরা তাই করবো।’

এই টানেল নির্মাণের কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে ২০০৮ সালে লালদীঘি ময়দানে দেয়া বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা।

প্রকাশ, সিডিএ পতেঙ্গার নেভাল একাডেমি থেকে দক্ষিণ কাট্টলী রাসমনি ঘাট পর্যন্ত নির্মাণ করছে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ কাম আউটার রিং রোড। এই রোডের শেষ প্রান্তে নেভাল একাডেমি এলাকায় নির্মিত হচ্ছে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল। আর টানেলের শেষ প্রান্তে ( আনোয়ারা অংশে) গড়ে তোলা হচ্ছে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পজোন। টানেল ২০১৯ সালের মধ্যে শেষ করার কথা রয়েছে। আর অর্থনৈতিক জোন শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ২০২০ সালে। আউটার রিং রোড শেষ হচ্ছে ২০১৯ সালের জুনে। আউটার রিং রোড বাস্তবায়ন হলে কক্সবাজারমুখী গাড়িগুলো আর শহরের ভেতরে প্রবেশ করবে না। একইভাবে চীনা অর্থনৈতিক জোন থেকে বের হওয়া যানবাহনগুলোও টানেল ও আউটার রিং রোড ব্যবহার করে ঢাকার দিকে চলে যেতে পারবে। সব মিলিয়ে এই তিন প্রকল্প একসাথে বাস্তবায়ন হলে বদলে যাবে চট্টগ্রামের চিত্র।

মতামত...