,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে ২ লাখ ৫০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ৪ চোরাকারবারী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::চট্টগ্রামে ২ লাখ ৫০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ৪ চোরাকারবারী গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।  চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানাধীন বেপারীপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ইয়াবা তৈরির ২টি মেশিন এবং ২,৫০,০০০ (দুই লাখ ৫০ হাজার ) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ মূল কারিগর শ্যামল মজুমদার ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

আগ্রাবাদের বেপারীপাড়াস্থ কমিশনার গলির আবুল হোসেন সওদাগরের ৫ম তলা বিল্ডিংয়ের ৩য় তলার মধ্যম ফ্ল্যাটে গত মঙ্গলবার রাত পৌনে এগারটার দিকে  এ অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তারকৃত শ্যামল মজুমদার দেশে নকল ইয়াবা তৈরির অন্যতম হোতা বলে পুলিশ জানিয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক শ্যামল মজুমদার (৩৭) স্বীকার করেন যে, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি ও ব্যথানাশক ট্যাবলেটে রঙ আর গন্ধ মিশিয়ে বানানো হচ্ছে নকল ইয়াবা। স্থানীয় বাজার থেকে ইয়াবা তৈরির বিভিন্ন কাঁচামাল সংগ্রহপূর্বক মেশিনের মাধ্যমে ইয়াবা ট্যাবলেট তৈরি করে চট্টগ্রাম মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তিনি বিক্রি করেন।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, মূলত আসল ইয়াবার সাথে উচ্চমাত্রার ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে এসব ভেজাল ইয়াবা। আর এসব সেবনের ফলে মাদকাসক্তদের মধ্যে মস্তিষ্ক বিকৃতির ঘটনার হার বেড়েই চলেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, দেশে ইয়াবাসেবীর একটা বড় অংশ নকল ইয়াবা ব্যবহার করছে। আকার, রঙ, ও গঠন একই রকম হওয়ায় ইয়াবাসেবীরা কোনটা আসল কোনটা নকল তা বুঝতে পারে না। এ কারণে মাদকাসক্তরা না জেনেই নকল ইয়াবা ব্যবহার করছে। সূত্র জানায়, নকল ইয়াবা ব্যবসায়ীরা বাজার থেকে ইয়াবার আকারে নানা ধরনের ট্যাবলেট কিনে তাতে রঙ আর ইয়াবার গন্ধ মিশিয়ে বিক্রি করছে। এক্ষেত্রে মহিলাদের জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি ও ব্যথার ট্যাবলেট বেশি ব্যবহার হচ্ছে। জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খুব সস্তা দামে বিক্রি হয় বলে নকলবাজরা সেগুলোই বেশি ব্যবহার করছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক তপন কুমার শর্মা জানান, ইয়াবা তৈরির মূল উপাদান মিথাইল অ্যামফিটামিন এবং ক্যাফেইন। একটি ট্যাবলেটে ৩০ থেকে ৩৫ মাত্রার মিথাইল অ্যামফিটামিন এবং বাকিটা ক্যাফেইন।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর মোহম্মদ মোহসিন জানান, মিয়ানমার থেকে ইয়াবা পাচার কষ্টসাধ্য বিধায় মাদক বিক্রেতারা এখন এখানেই ইয়াবা তৈরি করা শুরু করেছে। যাতে করে বহু পাড়া মহল্লায় এখন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইয়াবার জমজমাট ব্যবসা চলছে।

পুলিশ ও র‌্যাব সূত্র জানায়, মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান নানা হাত হয়ে চট্টগ্রাম আসে। এতে করে একেকটা ইয়াবার পেছনে অতিরিক্ত খরচ হয় ৩০ থেকে ৪০ টাকা। এই খরচ বাঁচাতেই নকল ইয়াবা কারখানা দেয়ার চেষ্টা করছে ইয়াবা ব্যবসায়ী চক্র।

চট্টগ্রামে প্রথম ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া যায় ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি নগরীর প্যারেড ময়দানসংলগ্ন এলাকায়। ধরা পড়েন রাখাল চন্দ্র নামে এক ব্যক্তি। দ্বিতীয় বারের মতো ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান মিলে ২০১২ সালের ১৩ অক্টোবর। বাকলিয়ার রসুলবাগ এলাকায়। ওই কারখানার মালিক ছিলেন শ্যামল মজুমদার। এই শ্যামলই গত মঙ্গলবার পুনরায় ধরা পড়ে তার তিন সহযোগীসহ। তার ওস্তাদ ছিলেন রাখাল চন্দ্র।

শ্যামলের তিন সহযোগী হলো আব্দুল্লাহ আল আমান (৩৪), মো. মামুন হোসেন আ মামুন (৩২) ও আয়শা সিদ্দিকা (২৭)। গ্রেফতার করা চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মো. সফি উদ্দিন এই আদেশ দিয়েছেন। এদের মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া শ্যামল মজুমদার (৩৭), আবদুল্লাহ আল আমান (৩৪) এবং মামুন হোসেনকে (৩২) তিনদিনের হেফাজতে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। এছাড়া গ্রেপ্তার হওয়া আয়শা সিদ্দিকাকে (২৭) দুইদিনের জন্য হেফাজতে নিতে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ–কমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী বলেন, মামলার তদন্তকারী সংস্থা নগর গোয়েন্দা পুলিশ আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছিল। শুনানি শেষে আদালত তিনজনকে তিনদিন এবং একজনকে দুইদিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন।

অভিযান পরিচালনাকারী নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (পশ্চিম) হুমায়ূন কবীর ঘটনার বিবরণে জানান, নগরীতে বেশ কয়েকটি নকল ইয়াবা তৈরির কারখানা রয়েছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা এসব কারখানায় অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তারই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাত পৌনে এগারটার দিকে গোপন খবরের ভিত্তিতে ডবলমুরিং থানাধীন বেপারীপাড়া কমিশনার গলিতে আবুল হোসেন সওদাগরের ৫ম তলা বিল্ডিংয়ের ৩য় তলার মধ্যম ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ২,৫০,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, তিনটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তায় পলিথিনে মোড়ানো লাল গোলাপী রংয়ের ইয়াবা ট্যাবলেট তৈরির কাঁচামাল (এ্যামফিটামিনযুক্ত পাউডার), তিনটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তায় পলিথিনে মোড়ানো সাদা রংয়ের ইয়াবা ট্যাবলেট তৈরির পাউডার, ইয়াবা ট্যাবলেট তৈরির ২ টি মেশিন, ৪ টি স্টিলের ডাইস, লোহার তৈরি ২ টি প্রেশার মেশিন, ১ টি ডিজিটাল স্কেল এবং ১টি সাদা জারে ইয়াবা ট্যাবলেট তৈরির কাজে ব্যবহৃত ৪ লিটার তরল গোলাপী রং উদ্ধারসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তারকরা হয়। বাড়িটি থেকে ইয়াবার প্রচুর কাঁচামাল জব্দ করা হয়েছে, যা দিয়ে প্রায় ১০ লাখ ভেজাল ইয়াবা প্রস্তুত করা যেত বলে পুলিশের দাবি। গ্রেফতারকৃতরা পুলিশকে জানিয়েছে, তিন বছর ধরে তারা ভেজাল ইয়াবা তৈরি করে বিক্রি করছিলেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক শ্যামল মজুমদার (৩৭) আরো জানান, বাসাটিতে আয়েশা তার দুই সন্তানকে নিয়ে থাকতেন। শ্যামল, মামুন ইয়াবা তৈরি করতেন, আমান সেগুলো চট্টগ্রাম, ঢাকার বিভিন্ন মাদক বিক্রেতার কাছে সরবরাহ করতেন। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ডবলমুরিং থানায় মামলা করা হয়েছে।

মতামত...