,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রাম কলেজে অস্থিরতা, রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আশংকাঃ আতঙ্ক-নিরাপত্তাহীনতায় শিক্ষার্থীরা

ctg collage gateনাছির মীর, বিডিনিউজ রিভিউজঃ দেশের স্বনামধন্য চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজ গত এক দশকে শিবির নিয়ন্ত্রণাধীন থাকা অবস্থায় ছাত্রলীগ-ছাত্রশিবির যতবার সংঘর্ষ হয়েছিলো ২০১৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে কলেজ দুটো ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রনে আসার মাত্র আট মাসে তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি তারা নিজেরা-নিজেরাই সংঘর্ষে জড়িয়েছে। কেবল আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই ছাত্রলীগের দু’পক্ষের একের পর এক সহিংসতায় প্রতিনিয়ত উত্তাল নগরীর ঐতিহ্যবাহী এ দুটি বিদ্যাপীঠ। চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি ও স্থানীয় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নুর মোস্তফা টিনু প্রকাশ্যে পক্ষ দুটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন । প্রথম গ্রুপ চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং অপর গ্রুপ প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির অনুসারি হিসেবে পরিচিত। তাদের দাবি, কলেজে বহিরাগত ছাত্রদের অনুপ্রবেশ ঠেকানো আর অন্যপক্ষের দাবি, স্থানীয় ছেলেদের অগ্রাধিকার । পুলিশ প্রশাসনের নিরব দর্শকের ভুমিকা ও ব্যর্থতায় এবং বিবদমান দু’পক্ষের রাজনৈতিক পরিচয়ের কাছে অসহায় কলেজ কর্র্তৃপক্ষ । মূলত এই দুই পক্ষের টানাপোড়েনে চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজের অন্তত ত্রিশ হাজারের মতো সাধারণ শিক্ষার্থী পড়েছেন বিপাকে। আতঙ্কে-নিরাপত্তাহীনতায় কলেজে নিয়মিত আসাও বন্ধ করে দিয়েছেন অনেক শিক্ষার্থী। বিশেষত মেয়েরা মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ফলে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ। তাদের দাবি, আমরা রাজনীতি বুঝি না। আমরা চাই আতঙ্কমুক্ত শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ।

sl gun fightজানা যায়, নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি দীর্ঘদিনের শিবির নিয়ন্ত্রিত চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজ তার নেতৃত্বে শিবিরমুক্ত হয়েছে দাবি করে কলেজ দুটিতে ছাত্রলীগের কমিটি দিয়ে সেখানে যে কোন মূল্যে তার আধিপত্য বজায় রাখতে চায়। অন্যদিকে শিবির অধ্যুষিত চকবাজার এলাকার স্থানীয় নেতা নুর মোস্তফা টিনু চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজে ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর শিবির নিয়ন্ত্রিত কোচিং সেন্টার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করে নেয় । আর এসব ব্যবসা টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে তিনি স্থানীয় ছেলেদের (ছাত্র ও বহিরাগত) মাধ্যমে সেখানে আধিপত্য গড়ে তুলতে মরিয়া। মূলত ক্ষমতা ও দখলদারিত্ব নিয়েই রনি-টিনুর দ্বৈরথ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা। যার ফলাফল একদিকে কলেজে একের পর এক সংঘর্ষ-সহিংসতা অন্যদিকে শিক্ষার পরিবেশ হচ্ছে বানচাল।

নুর মোস্তফা টিনু নিজেকে স্থানীয় ১৬ নং চকবাজার ওয়ার্ড যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পরিচয় দিয়ে বিডিনিউজ রিভিউজকে বলেন, চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজ কখনো শিবিরমুক্ত হতো না যদি স্থানীয়দের সহযোগিতা না থাকতো। সেক্ষেত্রে তাদের কলেজে তাদের অগ্রাধিকার থাকতে হবে। কলেজে শিক্ষার পরিবেশ স্থিতিশীল রাখা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেহেতু এগুলো আমাদের এলাকার কলেজ। ছাত্রলীগের কমিটির নেতাকর্মীরা নির্দিষ্ট মেয়াদে দায়িত্ব পালন করে চলে যাবে। কিন্তু আমরা স্থানীয়রা ২৪ ঘন্টাই এখানে থাকবো। এখানে আমাদের দায়িত্ব আছে। এসব মারামারি ও সহিংসতার জন্য রনিকে দায়ী করে টিনু বলেন, রনি যতদিন জেলে ছিল ততদিন কলেজে কোন গণ্ডগোল হয়নি। আর জেল থেকে ছাড়া পাওয়া মাত্রই গণ্ডগোল শুরু হয়ে গেছে। প্রসঙ্গত, নুর মোস্তফা টিনুর রাজনৈতিক পরিচয় প্রসঙ্গে মহানগর যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকা আজাদীকে বলেন, চকবাজারে যুবলীগের কমিটির কার্যক্রম আপাতত বন্ধ আছে। আর সর্বশেষ কমিটিতে আকরাম হোসেন সভাপতি ও কাজলপ্রিয় বড়ুয়া সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। নুর মোস্তফা টিনু নামে কোন নেতার নাম ওই কমিটিতে কিংবা মহানগর যুবলীগের ১০১ সদস্যের কমিটিতেও নেই।

bnr ad 250x70 1aচট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি বিডিনিউজ রিভিউজকে বলেন, কলেজ দুটি শিবিরমুক্ত করার পর থেকে বহিরাগতদের প্রভাব খাটানো নিয়ে আমরা প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি। বহিরাগতরা বারবার এসে হামলা করছে। এ ব্যাপারে একটা মামলাও নেয়া হচ্ছে না। আমরা চাই শান্তিপূর্ণ ক্যাম্পাস। কিন্তু বহিরাগতরা এসে তা নষ্ট করছে। ছাত্রত্ব নেই এমন কেউ এসে যদি কলেজে আধিপত্য দেখাতে চায় তবে আমরা তা মেনে নিবো না। আর এসব বহিরাগতদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন টিনু। যার কোন রাজনৈতিক পরিচয়ই নেই। তাকে যারা শেল্টার দিচ্ছে তাদের উচিত তার একটা প্লাটফর্ম তৈরি করে দেওয়া। যাতে সে নিজের সঠিক পরিচয় দিতে পারে। গত রোববারের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেদিন যারা গুলিবিদ্ধ হয়েছে তারা সবাই বহিরাগত এবং তাদের কারোরই ছাত্রত্ব নেই। আর এরা সবাই টিনুর অনুসারী।  সে বহিরাগতদের দিয়ে কলেজে তার প্রভাব প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তিনি বলেন, কলেজ ছাত্রলীগের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। কিন্তু বহিরাগত টিনু এসে কলেজে অবস্থান নিতে চাওয়ার কারণে এসব অনাকাঙিক্ষত ঘটনা হচ্ছে। এখন সে যদি কলেজে আসা বন্ধ করে দেয় তবে নিমিষেই সব ঝামেলা চুকে যাবে। কলেজে শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে আমাদের সদিচ্ছা রয়েছে দাবি করে রনি বলেন, মারামারি হচ্ছে কিন্তু ক্যাম্পাসের বাইরে। তার মানে আমরা কলেজ ক্যাম্পাসের ভিতরে কোন ঝামেলা হোক তা চাই না। এরপরও আমরা কলেজ প্রশাসনকে জানিয়েছি দোষীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী কলেজ দুটিতে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ছাত্র সংগঠনের অভিভাবক হিসেবে ছাত্রলীগের ভূমিকা প্রসঙ্গে মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু বিডিনিউজ রিভিউজকে বলেন, আমরা সবসময় চাই আমাদের নিজেদের মধ্যে কোন বিরোধ না থাকুক, শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক থাকুক, চট্টগ্রাম ও মহসিন কলেজের সুনাম অক্ষুণ্ন থাকুক। কিন্তু ছাত্র সংগঠনগুলোর আসলে কিছু ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা থাকে উল্লেখ করে ইমু বলেন, চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজের বিবদমান সঙ্কট নিরসনে কেন্দ্রকে অবহিত করে আমরা একটা কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। দেখা যাক কি করা যায়।

পারস্পরিক বিরোধের কারণে কলেজে প্রতিনিয়ত সমস্যা হচ্ছে বলে দাবি কলেজ প্রশাসনের। এতে দীর্ঘমেয়াদি সঙ্কট তৈরির পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে বলেও দাবি তাদের। কিন্তু বহিরাগতদের নিয়ন্ত্রণে বারবার হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বারবার সংঘর্ষে লিপ্ত পক্ষ দুটি কারা কিংবা কিইবা তাদের স্বার্থ সেটা উদ্ঘাটনে কর্তৃপক্ষ নীরব থেকেছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীমহলের। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ জেসমিন আক্তার বলেন, বহিরাগতদের নিয়ন্ত্রণ ঠেকাতে আমরা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করে সমস্যা সমাধানে কাজ করা হচেছ। রবিবারের সংঘর্ষ নিয়ে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো নেওয়া হয়নি, তবে শীঘ্রই নেওয়া হবে। তবে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা বিষয়ে জানতে চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিজ আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে জানান।

 

মতামত...