,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রাম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার ৭২ রানের লিড

ক্রীড়া প্রতিবেদক,৬ সেপ্টেম্বর, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া ৭২ রানের লিড নিয়েছে। হাতে আছে আরও ১ উইকেট। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৩০৫ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১১৮ ওভারে অজিদের সংগ্রহ ৯ উইকেটে ৩৭৭। স্টিভ ও’কিফ ৮ রানে ব্যাট করছেন। অপর প্রান্তে নাথান লায়ন। এদিকে আজকের দিনের শেষ দিকে সাকিব আল হাসানের প্রথম শিকারে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন অ্যাশটন অ্যাগার (২২)। স্বস্তিই পান সৌম্য সরকার। একই ওভারে (১১১তম) যে স্লিপে সহজ ক্যাচ ফেলে দেন। এর আগে মেহেদি হাসান মিরাজের ডেলিভারি ইচ্ছাকৃত প্যাডে লাগিয়ে এলবিডব্লুর শিকার হন প্যাট কামিন্স (৪)। আম্পায়ার আউট না দিলে বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই রিভিউ নিয়ে সফল হন মুশফিকুর রহিম।

ম্যাথু ওয়েডকে (৮) এলবিডব্লু করে নিজের তৃতীয় শিকার বানিয়েছেন ‘বার্থডে বয়’ মোস্তাফিজুর রহমান। ৩৪২ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় অজিরা। ৪ রান যোগ হতেই গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে (৩৮) ফেরান মেহেদি হাসান মিরাজ। হিল্টন কার্টরাইটকে (১৮) স্লিপে সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানিয়ে উইকেটের খাতায় নাম লেখান মেহেদি হাসান মিরাজ। দলীয় ২৯৮ রানের মাথায় সেঞ্চুরিয়ান ডেভিড ওয়ার্নারের (১২৩) উইকেট তুলে নেন ২২-এ পা রাখা মোস্তাফিজ। লেগ গালিতে প্রথম চান্সে ক্যাচটি তালুবন্দি করতে না পারলেও হাতছাড়া করেননি ইমরুল কায়েস। ওয়ার্নার-ম্যাক্সওয়েল জুটিতে আসে ৪৮।

দু’বার জীবন পেয়ে ইনিংসটিকে টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরিতে রূপ দেন ওয়ার্নার। এটি তার ২০তম টেস্ট সেঞ্চুরি। ঢাকা টেস্টে দল হারলেও দ্বিতীয় ইনিংসে শতক হাঁকিয়েছিলেন। ওয়ার্নারের হান্ড্রেড পূরণে ননস্ট্রাইক থেকে সিঙ্গেল নিতে গিয়ে নিজের উইকেটটা বিলিয়েছেন পিটার হ্যান্ডসকম্ব (৮২)। দু’জনের জুটি থামে ১৫২ রানে। স্বস্তি ফেরে বাংলাদেশ শিবিরে। নাসির হোসেনের বলে হ্যান্ডসকম্বকে রানআউট করে মূল্যবান ব্রেকথ্রু এনে দেন সাকিব আল হাসান। আড়াইশ’ রানে অজিদের তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটে।

তার আগে ভারী বৃষ্টির কারণে ৩ ঘণ্টারও অধিক সময় শুরু হয় চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা। চালকের আসনে থাকা অজিদের যত দ্রুত সম্ভব অলআউট করে ম্যাচে ফেরার লক্ষ্যে চোখ রাখছেন সাকিব-মিরাজ-তাইজুলরা। দিনের দশম ওভারের মাথায় (৭৪তম) ভাঙে পথের কাটা হয়ে ওঠা ওয়ার্নার-হ্যান্ডসকম্ব পার্টনারশিপ।

আজ বুধবার তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে একটি বলও মাঠে গড়ায়নি। নতুন করে আর বৃষ্টি না হলে কমপক্ষে ৬৭ ওভারের খেলা হবে। দুই উইকেটে ২২৫ রান (৬৪ ওভার) নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছিল সিরিজে সমতায় ফিরতে মরিয়া সফরকারীরা। ১২৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ওয়ার্নার ৮৮ ও হ্যান্ডসকম্ব ৬৯ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন।

সুযোগগুলো কাজে লাগাতে না পারার মাশুলই গুনতে হয়েছে টাইগারদের। দু’বার (৫২ ও ৭৩ রানে) আউটের হাত থেকে বেঁচে যান ওয়ার্নার। তাইজুল ইসলামের বলে লেগশর্টে ক্যাচ ফেলে দেন মুমিনুল হক। পরে আবারো ভাগ্যের সহায়তা পান অজি ওপেনার। মেহেদি হাসান মিরাজকে এগিয়ে খেলতে গিয়ে মিস করলেও ‘সহজতম’ স্ট্যাম্পিং মিস করেন মুশফিকুর রহিম। বলের লাইনটাই বুঝে উঠতে পারেননি। খানিকটা নিচু হয়ে আসা ডেলিভারি তার কিপিং প্যাডে গিয়ে লাগে।

শুরুটা ভালো হয়েছিল। ঢাকা টেস্টে উইকেটশূন্য মোস্তাফিজুর রহমান ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ফেরান ম্যাট রেনশকে (৪)। এক হাতে দুর্দান্ত ক্যাচ উপহার দেন মুশফিক। কিন্তু দলীয় ৫ রানে উইকেট হারানোর ধাক্কা সামলে জুটি গড়ে দলকে পথ দেখান ওয়ার্নার ও অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। স্মিথকে (৫৮) বোল্ড করে দু’জনের ৯৩ রানের পার্টনারশিপ ভেঙে মূল্যবান ব্রেকথ্রু এনে দেন তাইজুল। স্মিথ ফিরলেও অজিদের ব্যাটিং লাইনআপে আঘাত হানতে পারেননি সাকিব-মিরাজরা। মুমিনুলের ক্যাচ মিস ও মুশফিকের স্ট্যাম্পিং ব্যর্থতা দ্বিতীয় দিনে টার্নিং পয়েন্ট হয়ে থাকে। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় অজিদের হাতে।

মতামত...