,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রাম নগরকে জলাব্ধতা মুক্ত করতে ২৬কি:মি: বেড়ীবাঁধ হবে: মেয়র নাছির

aনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন এর দায়িত্ব গ্রহনের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে ২৫ জুলাই।  সোমবার নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে সুধি সমাবেশে নগরীর রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, আইনজীবী, প্রকৌশলী, ডাক্তার, ব্যবসায়ী, শিল্পপতি সহ নানা শ্রেণি ও পেশার বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ সহ সুধিজন উপস্থিত ছিলেন। সুধি সমাবেশে সিটি মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত সময়ে তার কার্যক্রমের উপর প্রামান্যচিত্র বড় পর্দায় প্রদর্শন করা হয়। এ ছাড়াও এক বছরের যাবতীয় কার্যক্রমের উপর প্রকাশিত প্রতিবেদনের একটি বই উপস্থিত সকলের কাছে বিতরণ করা হয়। সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন, বাইবেল, ত্রিপিটক ও গীতা থেকে পাঠ করা হয়। পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, বিগত সময়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, প্রশাসক, কমিশনার, কাউন্সিলর পদে থেকে মৃত্যুবরণকারী, চসিক এর প্রয়াত কর্মকর্তা-কর্মচারী সহ নগরীর প্রয়াত বিশিষ্ট নাগরিকদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় এক মিনিট দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন এবং মোনাজাত করা হয়। সুধি সমাবেশে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতা সহ মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে। ২৮ এপ্রিল ২০১৫ অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি কর্র্পোরেশনের মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী মনোনীত করার জন্য বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে কৃতজ্ঞতার সাথে তাকে স্মরন করে বলেন, চট্টগ্রাম বাসী বুক ভরা ভালবাসায় তাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেছে। প্রিয় নগরবাসী তাদের কাংখীত সেবা ও প্রত্যাশা আমার উপর ন্যস্ত করেছে। তিনি বলেন, নির্বাচিত হয়েও আইনি জটিলতার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্বের বাহিরে থাকতে হয়েছে। ৪র্থ সাধারণ পরিষদের মেয়াদান্তে ২৬ জুলাই ২০১৫ খ্রি. তারিখে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়েছে। মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, নিয়ম অনুযায়ী চসিকের ৫ম নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদকাল ১ম সাধারণ সভা থেকে গননা হলেও দায়িত্ব গ্রহন থেকেই আমি আমার মেয়াদ বিবেচনায় আজ আপনাদের মুখোমুখি হয়েছি। সুধি সমাবেশে উপস্থিত আপনারা চট্টগ্রাম তথা দেশের সুনাগরিক, আপনাদের মাধ্যমে আমার বিগত দিনের কার্যক্রম উপস্থাপন করা হলো, তার সুফল ও কুফল, ভাল ও মন্দ দিক বিবেচনার দায়িত্ব নগরবাসীর। মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ২০০৫ সন সহ আরো আগের দায় দেনা প্রায় ৩৮০ কোটি টাকার দায় কাঁধে নিয়ে আমার যাত্রা শুরু করেছি। বিগত সময়ে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতির বোঝা কাঁধে নিয়ে যাত্রা শুরু করে আমার নির্বাচনী ওয়াদা ও নগরবাসীর প্রত্যাশা পুরনে সচেষ্ট হই। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে যোগ্য কর্মকর্তার অভাব, সক্ষমতার ঘাটতি সহ নানান ধরনের ঝুঁকি নিয়েই আমার প্রতিশ্রুতি পুরনের লক্ষে কাজ শুরু করি। আমার বিশ্বাস চট্টগ্রাম একটি গুরুতপূর্ণ নগরী। নানামুখী মানদন্ডে দেশের এক নম্বর নগরী। কারণ চট্টগ্রাম বন্দর সহ এ এলাকাটি অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র। বিশ্বমানের আধুনিক নগর, মেগাসিটির পরিকল্পনা মাথায় রেখে এ নগরীকে গ্রিন ও ক্লিন সিটির ভিশন নিয়ে সেবা শুরু করি। নানামুখী প্রতিকূল ও বৈরি পরিবেশ উপেক্ষা করেই আমাকে সফলতার দিকে এগুতে হবে- এই ছিল আমার প্রতিজ্ঞা। মেয়র বলেন, দায়িত্ব গ্রহন করেই আমার ঘোষনা ছিল আমি সরকারী বা কর্পোরেশনের বৈধ বা অবৈধ কোন সুযোগ সুবিধা গ্রহন করবো না, সেই দিক থেকে বেতন-ভাতা, গাড়ী, ড্রাইভার, সম্মানী সহ কোন সুযোগ সুবিধা আমি এ সময়ে গ্রহন করিনি। এ সময়ে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, আত্মীয়করণ ও দলীয়করণ করার কোন নজির কেউ দেখাতে পারবে না। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতায় বিশ্বাসী এবং প্রতিষ্ঠানকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতার আওতায় আনায়নে সচেষ্ট আছি। বিগত এক বছরে কঠোর সমালোচকও এ বিষয়টি স্বীকার করবেন বলে আমি আশাবাদী। তিনি বলেন, এক বছরে অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। সমস্যা চিহ্নিত করেছি, এখন সমাধানের পরিকল্পনা গ্রহন করছি।

সুধি সমাবেশে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন আরো বলেন, নগরবাসী’র পরামর্শ,নির্দেশনা ও যে কোন আলোচনা-সমালোচনা করার অধিকার রাখে। নগরবাসীর স্বার্থে যে কোন নাগরিক আমার মোবাইলে ফোন করে এস এম এস দিয়ে যে কোন বিষয় জানাতে পারবে। নগরীর স্বার্থে যে কোন স্থানে আমাকে আহবান করলে আমি স্বশরীরে সেখানে উপস্থিত হয়ে নাগরিকদের কথা শুনব। তিনি বলেন, বিগত এক বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী ৩ বছরের কর্মপরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে। তিন অর্থ বছরের মধ্যে দেয়া অঙ্গিকার একে একে বাস্তবায়ন করা হবে। কর ব্যবস্থার বিষয়ে মেয়র বলেন, সরকারের আইন দ্বারা হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারিত আছে। হোল্ডিং ট্যাক্স এক টাকাও বৃদ্ধি করার ক্ষমতা বা এখতিয়ার মেয়রের নেই। এ বিষয়ে যারা ট্যাক্স না দিতে নগরবাসীকে আহবান করেছিল তাদের আহবানে নগরবাসী কেউই সাড়া দেয় নাই, উপরন্তু ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরের চেয়ে বিগত ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে ৪৯ কোটি টাকা অতিরিক্ত হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় হয়েছে। জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, প্রাকৃতিক জলাবদ্ধতা নিরসন ব্যয়বহুল। এ ব্যয় বহুল কাজটি করার জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ডিপিপি তৈরী হয়েছে। মেয়র সুধি সমাবেশকে অবহিত করেন যে, মদুনাঘাট থেকে পতেঙ্গা নেভাল এভিনিউ পর্যন্ত এলাকায় বেড়িবাঁধ, বন্যা প্রতিরোধ দেয়াল, রাস্তা নির্মাণ, ২৬ টি খাল ড্রেজিং, খালের মুখে পাম্প হাউস সহ স্ল্যুইচ গেইট নির্মাণ করার পরিকল্পনা সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। তবে মানব সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতোমধ্যে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আবর্জনা ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, নাগরিক স্বার্থে রাতে বর্জ্য অপসারন এর কার্যক্রম গ্রহণ করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নগরবাসীকে সন্ধ্যা ৭ টা থেকে ১১ টার মধ্যে আবর্জনা ফেলার আহবান করা হয় সেমতে রাতেই আবর্জনা অপসারন কার্যক্রম চলছে তবে এ কার্যক্রমে নাগরিকদের শতভাগ সহযোগিতা পাওয়া যায় নাই। বাধ্য হয়ে ডোর টু ডোর আবর্জনা সংগ্রহ ও অপসারন কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। আগষ্ট থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ৪১ টি ওয়ার্ডে এ পদ্ধতি চালু হবে। ডোর টু ডোর আবর্জনা সংগ্রহ ও অপসারনে চসিক’কে বৎসরে অতিরিক্ত সাড়ে ২৮ কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। জাতিসংঘ পার্ক প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, এ পার্কটি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া। আমার দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সেখানে ২টি সুইমিংপুল ও জিমনিসিয়াম নির্মাণ করা হয়েছিল। সেগুলো জনকল্যাণে না আসায় জাতিসংঘ পার্কটির উন্নয়ন ও দৃষ্টিনন্দন পার্কে পরিণত করার উদ্যোগ নেয়া হয়। যারা বিগত সময়ে জনস্বার্থের পরিপন্থি বাণিজ্যিক স্বার্থের বিবেচনায় জাতিসংঘ পার্কে অপরিকল্পিত ভাবে জনগনের ট্যাক্সের টাকার অপচয় করল তাদের বিষয়ে কোন মহল থেকে কোন ধরনের আলোচনা বা সমালোচনা না করে উপরন্তু চসিক এর গঠনমূলক ও পরিকল্পিত উন্নয়নকাজের বাধা সৃষ্টি করতে অযৌক্তিক কারনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হল এবং হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, পার্ক এর উন্নয়ন প্রসঙ্গে নানামুখি জটিলতা সৃষ্টি করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর যৌক্তিক কোন কারন ছিল বলে তিনি মনে করেন না। কারন পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় বহুপূর্ব থেকেই কমিউিনিটি সেন্টার, হাসপাতাল সহ বহু বাণিজ্যিক স্থাপনা সেখানে বিদ্যমান আছে। মেয়র দুঃখ করে বলেন, সত্যকে সত্য এবং মিথ্যাকে মিথ্যা বলার সৎ সাহস থাকা উচিত। সিটি কর্পোরেশনে বিগত এক বছরে গৃহিত কার্যক্রম উল্লেখ করে মেয়র বলেন, প্রশাসনিক শৃংখলা আনায়ন, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দায় দায়িত্ব বিষয়ে সচেতন করা, প্রমোশন, পদায়ন, বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা, সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয় সহ নানামুখি জটিল সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জনাব আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ভূতুর্কি হ্রাস ও আয় বর্ধন করার বিষয়েও কর্মপরিকল্পনা গৃহিত হয়েছে। সিটি মেয়র সার্বিক বিষয়ে নাগরিক সমাজের গঠনমূলক সমালোচনা, আলোচনা ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করে জঙ্গী ও সন্ত্রাসী বিষয়ে বলেন, পবিত্র ইসলামের মর্মবাণীকে বিকৃত ভাবে উপস্থাপন করে যাদের জঙ্গী ও সন্ত্রাসী অপকর্মে উৎসাহিত করছে-মদদ দিচ্ছে-অর্থের যোগান দিচ্ছে-বা যারা যারা বিপদগামী হচ্ছে তাদের বিষয়ে সর্বসাধারনকে সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে। ইসলাম শান্তির ধর্ম। পবিত্র ইসলামে খুন,সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের কোন স্থান নেই। সুধিজনের বক্তব্যে মেয়রের মর্যাদা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মর্যাদার বিষয়টি বিবেচনায় এনে আমি মেয়র পদে প্রার্থী হই নাই। মেয়রের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে মর্যাদার বিষয়ে কোথাও কোন জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় নাই। সুতরাং এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বা সমালোচনা না করতে তিনি সুধিজনদের প্রতি অনুরোধ জানান। সুধি সমাবেশে সিটি মেয়রের বিগত এক বছরের কার্যক্রমের উপর আলোচনা করেন ইউ এস টি সি’র উপাচার্য প্রফেসর ডা. প্রভাত চন্দ্র বড়–য়া, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি কলিম সরওয়ার, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক মহসিন চৌধুরী, দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশের সহযোগী সম্পাদক এম নাসিরুল হক, দৈনিক বীর চট্টগ্রাম মঞ্চের সম্পাদক সৈয়দ ওমর ফারুক, সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী, বিজিএমই এর প্রথম সহ সভাপতি মঈন উদ্দিন আহমেদ মিন্টু, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ডার মোজাফফর আহমদ, চট্টগ্রাম চেম্বার পরিচালক অহিদ সিরাজ চৌধুরী, মহিলা চেম্বার পরিচালক রেখা আলম চৌধুরী, উপজেলা চেয়ারম্যান এহসানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল, বি এম এ চট্টগ্রামের সভাপতি ডা. মো.মজিবুল হক, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সাদেক মোহাম্মদ চৌধুরী। সুধি সমাবেশে কাউন্সিলরদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, মিসেস জোবাইরা নার্গিস খান, নিছার উদ্দিন আহমদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ শফিউল আলম। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপন করেন সিটি মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম।

মতামত...