,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রাম নগরীর ঘর-বাড়ি ও স্থাপনার তথ্য সংগ্রহ শুরু

বিশেষ সংবাদদাতা, বিডিনিউজ রিভিউজঃ  চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের এসেসরগণ আজ থেকে নগরীর ঘর-বাড়ি ও স্থাপনার তথ্য সংগ্রহ  শুরু করছে। পঞ্চবার্ষিকী কর পুনর্মূল্যায়নের জন্য দ্বিতীয় পর্যায়ে নগরীর ৩১ ওয়ার্ডের ঘর-বাড়ি ও স্থাপনার তথ্য সংগ্রহ করবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। এ লক্ষ্যে আজ বৃহষ্পতিবার থেকে রাজস্ব শাখার এসেসরগণ গৃহে যাওয়ার কথা রয়েছে। পুনর্মূল্যায়ন শুরু হতে যাওয়া ৩১ ওয়ার্ডের ১৪টিই পূর্বে ‘নন কনজার্ভেন্সি’ ওয়ার্ড হিসেবে চিহ্নিত ছিল। এবারের পুনর্মূল্যায়নে এসব ওয়ার্ডকে ‘কনজার্ভেন্সি’ ওয়ার্ডে পরিণত করা হচ্ছে। ফলে পুনর্মূল্যায়িত গৃহকরের ক্ষেত্রে এসব ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের বিদ্যমান করের সাথে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ কর পরিশোধ করতে হবে। প্রথম পর্যায়ের পুনর্মূল্যায়নকৃত ওয়ার্ডগুলোর ন্যায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ওয়ার্ডগুলোতেও এসেসমেন্ট করা হবে ভাড়াভিত্তিক। অর্থাৎ পূর্বে বর্গফুটের মূল্যায়নভিত্তিক যে জেনারেল এসেসমেন্ট হয়েছিল এবার তা থাকবে না।

 জানা গেছে, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী হোল্ডিং মালিকদের তাদের বাসা বাড়া থেকে প্রাপ্ত আয়ের বিপরীতে ১৭ শতাংশ হারে হোল্ডিং ট্যক্স দিতে হবে কর্পোরেশনকে। ১৭ শতাংশ করের মধ্যে হোল্ডিং বাবদ ৭ শতাংশ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের বিপরীতে ৭ শতাংশ এবং সড়ক বাতির বিপরীতে ৩ শতাংশ কর নির্ধারণ করা আছে। তবে এতদিন নগরীর মোট ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৬টি ওয়ার্ডকে ‘নন কনজার্ভেন্সি’ ওয়ার্ড হিসেবে মূল্যায়ন করা হত। এসব ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের ১৪ শতাংশ কর পরিশোধ করতে হতো। তারা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের বিপরীতে ৭ শতাংশ করের পরিবর্তে ৪ শতাংশ পরিশোধ করতেন। এখন কনজার্ভেন্সি ওয়ার্ডে পরিণত করা হলে তাদেরকেও ১৭ শতাংশ কর পরিশোধ করতে হবে। আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া ৩১ ওয়ার্ডের মধ্যে এমন এলাকা রয়েছে ১৪৫টি।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন আজ থেকে যে ৩১ ওয়ার্ডের এসেসমেন্ট শুরু হতে যাচ্ছে সেগুলো হচ্ছে- ২ নং জালালাবাদ, ৩ নং পাঁচলাইশ, ৪ নং চান্দগাঁও, ৫নং মোহরা, ৬নং পূর্ব ষোলশহর, ৭নং পশ্চিম ষোলশহর, ৯নং উত্তর পাহাড়তলী, ১০ নং উত্তর কাট্টলী, ১১ নং দক্ষিণ কাট্টলী, ১২নং সরাইপাড়া, ১৩নং পূর্ব পাহাড়তলী, ১৪নং লালখান বাজার, ১৫নং বাগমনিরাম, ১৬নং চকবাজার, ১৭নং পশ্চিম বাকলিয়া, ১৮নয় পূর্ব বাকলিয়া, ১৯ নং দক্ষিণ বাকলিয়া, ২০নং দেওয়ান বাজার, ২২ নং এনায়েত বাজার, ২৩নং উত্তর পাঠানটুলী, ২৫নং রামপুর, ২৬নং উত্তর হালিশহর, ২৭নং দক্ষিণ আগ্রাবাদ, ২৮নং পাঠানটুলী, ২৯নং পশ্চিম মাদারবাড়ি, ৩০নং পূর্ব মাদারবাড়ি, ৩৪নং পাথরঘাটা, ৩৭নং মুনিরনগর, ৩৯নং দক্ষিণ হালিশহর এবং ৪০ নং উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ড। এর আগে গত ২০ মার্চ থেকে প্রথম পর্যায়ে ১১টি ওয়ার্ডে পঞ্চবার্ষিকী কর পুনর্মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। সম্প্রতি ওসব ওয়ার্ডের এসেসমেন্ট কার্যক্রম শেষ হয়।

চসিকের ভারপ্রাপ্ত রাজস্ব কর্মকর্তা মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, দি সিটি কর্পোরেশন ট্যাক্সেশান রুলস ১৯৮৬ এর ২১ ধারা মতে, সিটি এলাকায় প্রতি ৫ বছর অন্তর সকল প্রকার স্থাপনার পরিমাপ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য সরেজমিন সংগ্রহ করে সিটি কর নির্ধারণ করা হয়। ইতোমধ্যে অনেক ঘর-বাড়ি, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, স্থাপনা নতুনভাবে নির্মাণ ও বিলুপ্ত হওয়ার ফলে অনেক স্থাপনা পরিবর্তন, পরিবর্ধন এবং উন্নয়ন হয়েছে এসব ওয়ার্ডে। ফলে দি সিটি কর্পোরেশন ট্যাক্সেশান রুলস ১৯৮৬ এর ২১ ধারা মোতাবেক গৃহ ও ভূমির পঞ্চবার্ষিকী কর পুন:মুল্যায়নে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।

কর পুনর্মূল্যায়ন করার সময় কারো মালিকানাধীন ভবনটি যদি সম্পূর্ণ ভাড়া প্রদত্ত হয় তবে বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় বাবত দু মাসের ভাড়া বাদ দেয়া হবে। অবশিষ্ট দশ মাসের ভাড়া হিসাব করেই কর নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া কারো ভাড়াঘর নির্মাণ বা ক্রয়ে সরকার, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন, তফশিলি ব্যাংক বা কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে থাকে তাহলে ঋণের বার্ষিক সুদ মূল্যায়ন থেকে বাদ দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, সাবেক মেয়র মনজুর আলমের মেয়াদকালে করা এসেসমেন্ট অনুযায়ী বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি হোল্ডিং রয়েছে ১ লক্ষ ৫৬ হাজার ৮৯ টি। এসব হোল্ডিংয়ের বিপরীতে চলতি অর্থ বছরের (২০১৬-২০১৭) ঘোষিত বাজেটে ১ হাজার ১ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে চসিক। এর মধ্যে বকেয়া কর ও অভিকর থেকে ২৪২ কোটি ৪৬ লক্ষ ৫২ হাজার টাকা, হাল ও অভিকর ৫৫০ কোটি ৮৯ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকা ও অন্যান্য কর থেকে ২২২ কোটি ২৭ লক্ষ টাকা আয় ধরা হয়েছে। তবে গত অর্থবছরে (২০১৫-২০১৬) ৩৩৭ কোটি ১৮ লাখ ৯৩ হাজার ৫৫২ টাকার গৃহকর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। এর বিপরীতে একই অর্থ বছরে আদায় হয়েছে ১১২ কোটি ২৫ লাখ ৩০ হাজার ৪৩৫ টাকা ৫৭ পয়সা।

মতামত...