,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রাম বন্দরকে প্রভাবশালীরা বাবার সম্পত্তি বানিয়েছেনঃ মহিউদ্দীন চৌধুরী

aনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ ঢাকা, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, বন্দর সংশ্লিষ্ট নন-এমন বহিরাগত লোকজন বন্দরে অবাধে যাওয়া-আসা করছে। কিছু প্রভাবশালী লোকজন বন্দরকে তাদের বাবার সম্পত্তি বানিয়েছেন। তারা বন্দরকে মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য আমদানির ঘাঁটিতে পরিণত করেছেন। তাদের কথায় বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চলেন। বিনিময়ে তারা পাহাড় সমান সম্পদের মালিক হয়েছেন।

বুধবার (৪ মে) বন্দরের এমপিবি গেটে রেজিস্ট্রেশন প্রদানের দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দর বার্থ, টার্মিনাল ও শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রাম বন্দরে তালিকাভুক্ত শ্রমিক-কর্মচারী ছাড়া অবাঞ্ছিত লোকজনের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ ও নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা বলয় নিশ্চিতর দাবি জানিয়ে বলেন, নয়তো চট্টগ্রাম বন্দর মাফিয়া ও লুটেরাদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হবে।

তিনি উইচম্যানদের (ক্রেন অপারেটর) বন্দরের শ্রম শাখায় অবিলম্বে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী ৭ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্র্রেশন দেওয়া না হলে আগ্রাবাদের যুগ্ম শ্রম-পরিচালকের দপ্তরে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু হবে। সোমবার (৯ মে) যুগ্ম শ্রম-পরিচালকের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন প্রদানের গড়িমসির কারণ জানতে তার দপ্তরে শ্রমিক-কর্মচারীরা অফিস চলাকালীন সময় পর্যন্ত অবস্থান করবেন।

তিনি বলেন, আদালতের রায় অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন প্রদানের ক্ষেত্রে যুগ্ম শ্রম-পরিচালকের অনীহা ও গড়িমসি আদালত অবমাননার শামিল এবং শ্রমিক বান্ধব সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপপ্রয়াস। এর সাথে জড়িতরা শ্রমজীবী জনতার দুশমন। সবচেয়ে লজ্জার বিষয় একটি স্বাধীন দেশে শ্রমিকের ট্রেড ইউনিয়ন করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত মজুরিও দেওয়া হচ্ছে না।

তিনি বার্থ অপারেটর ও শিপ হ্যান্ডলিং শ্রমিকের মজুরি বাড়ানোর দাবি জানিয়ে বলেন, তাদের মজুরি দৈনিক মাত্র ৩০০ টাকা। এ ছাড়াও তারা নিয়মিত বুকিং পায় না। এই বেতন বৈষম্য কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। বন্দরের ৩ নম্বর গেটে শ্রমিক ও তাদের পোষ্যদের জন্য ২০ শয্যার একটি হাসপাতাল করার প্রতিশ্রুতি বন্দর কর্তৃপক্ষ এখনো পূরণ না করেনি।

তিনি বন্দর অব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে বলেন, ২৪ ঘণ্টাই ৬০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করেন। অথচ কাজের পরিবেশ নেই। টয়লেট ও পানি নেই। পর্যাপ্ত শ্রম-শেড নেই। শ্রমিকদের বৃষ্টিতে ভিজতে হয়, রোদে পুড়তে হয়। তাদের চিকিৎসা নেই, আবাসন নেই, সন্তানদের শিক্ষার ভাতা নেই। বন্দরে চারদিকে শুধু নেই আর নেই অবস্থা।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরকে আধুনিকায়নের কোনো উদ্যোগ নেই। অবকাঠামোগত উন্নয়ন শিকেয় ঝুলে আছে। অথচ চট্টগ্রাম বন্দরের তহবিল থেকে পানগাঁওয়ে টার্মিনালের জন্য নেওয়া হয়েছে ১৮০ কোটি টাকা। পায়রা বন্দরের জন্য নেওয়া হয়েছে ৪ হাজার কোটি টাকা। সেখানে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য নেওয়া হবে আরও ৪ হাজার কোটি টাকা। এভাবে চট্টগ্রাম বন্দরকে তহবিল শূন্য করা হচ্ছে। অথচ বন্দরের উন্নয়নতো দূরের কথা, দিন দিন জীর্ণ-শীর্ণ হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর ১ থেকে  ১৩ নম্বর জেটিতে ফুটবল খেলা যাবে। এখানে কোনো জাহাজ ভিড়তে দেওয়া হয় না; নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে ভিড়তে বাধ্য করা হয়। এ কারণে অন্যান্য জেটিগুলোতে শ্রমিকরা বেকার ও অলস সময় কাটাচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর বার্থ টার্মিনাল শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে মো. হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত শ্রমিক সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মীর নওশাদ, শ্রমিক নেতা মোহাম্মদ হাসান, জহুর আহমদ, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ, আবু তাহের, মো. ইলিয়াছ, হাসান মুরাদ, শফিউল আলম, কামাল সোহেল চৌধুরী, নূর করিম, সরওয়ার জাহান চৌধুরী, মোহাম্মদ শফি, মোহাম্মদ নাছির উল্লাহ ও আবুল হাসেম।

মতামত...