,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রাম বন্দরে ভারতের ট্রানজিটঃ ফেনী নদীতে নির্মিত হচ্ছে মৈত্রী সেতু

ctg fani -india roarনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম বন্দরের ট্রানজিট এবং ব্যবসায়িক সুবিধা পেতে অবশেষে বাংলাদেশ-ভারতের ”রামগড়-ত্রিপুরা” সীমান্তে ফেনী নদীর উপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। সম্পূর্ণ ভারতীয় অর্থ্যায়নে নির্মিয়মান এ সেতুর নাম দেয়া হয়েছে ভারত- বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের রামগড় ও ফটিকছড়ি সংলগ্ন ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকা ত্রিপুরা রাজ্যের সাব্রুম মহকুমা। সাব্রুমের আনন্দ পাড়া থেকে রামগড় মহামুনি (রামগড় থানার পশ্চিম পাশ্বে) ৪১২ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৪.৮ মিটার প্রস্ত এই মৈত্রী উড়াল সেতু নির্মিত হবে। তবে ফেনী নদীর উপর হবে মুল সেতুর ১৫০ মিটার। এজন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার গত ২৭ এপ্রিল বুধবার ১২৫ কোটি ভারতীয় রুপি মঞ্জুর করেছে বলে ত্রিপুরার মুখ্য সচিব যশপাল সিং এর বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করেছে।

এই সেতুর জন্য বাংলাদেশের রামগড় ও ফটিকছড়ির সোনাইকুল হয়ে হেঁয়াকো-চট্টগ্রাম সড়কের অবকাঠামো এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সাব্রুম নবীন পাড়া-ঠাকুর পল্লী রাস্তা হয়ে সাব্রুম ফরেষ্ট অফিস সংলগ্ন জাতীয় মহা সড়ক পর্যন্ত অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে।

এ লক্ষ্যে ত্রিপুরা ও রামগড় থেকে বেশ কিছু জমি অধিগ্রহণ করতে ভারতের শিল্প ও বানিজ্য দপ্তর ৭ কোটি ২৫ লক্ষ রুপি অনুমোদন করেছে। গত মার্চে ভারতের পূর্ত, শিল্প ও বানিজ্য দপ্তরের যৌথ পরিদর্শক দল সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। এর আগে বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ প্রতিনিধি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ দল রামগড়ে সংশ্লিষ্ট স্থান পরিদর্শন করেছে। এখন শুধু ভারত সরকার সেতুর জন্য দরপত্র আহবান করার কাজ বাকি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ৬-৭ জুন ভারতের সরকার প্রধান নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশে দুই দিনের সরকারী সফরে এসে রামগড়-সাব্রুম সীমান্তে অভিন্ন সীমান্ত নদী ফেনী নদীর উপর ভারতের অর্থায়নে দেশে প্রথম মৈত্রী সেতু নির্মাণের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

এর আগে মৈত্রী সেতু নিয়ে ২০১০ সালে থেকে ভারতের সাবেক মন্ত্রী জীতেন্দ্র চৌধুরী ও বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী দিপু মনি একাধিকবার বৈঠক করেছেন। তখন তারা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ফেনী নদীতে মৈত্রী সেতু নির্মিত হলে ভারতের উত্তর-পুর্বাঞ্চল থেকে পণ্য দ্রব্য ও ভারী যন্ত্রপাতি সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে আনা-নেওয়া এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে। এতে চট্টগ্রাম বন্দরের ট্রানজিট সুবিধা পাবে ভারত। এজন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করা হবে যোগাযোগ ব্যবস্থাও। এতে ভারত ও বাংলাদেশ দুই দেশ লাভবান হবে।

মৈত্রী সেতু নির্মাণে বাংলাদেশের সীমান্ত পিলার নং- ২২১৫/৭-এস থেকে ২২১৫/১০-এস সাফপিলার সীমান্ত এলাকাটি নির্বাচন করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সরকারী প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রামগড়ে স্থলবন্দর স্থাপনের ঘোষনা দেন । জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ১৯৯৬ সালের ২৮শে জুলাই স্থলপথ বা অভ্যন্তরীন জলপথে ভারত ও মায়ানমার থেকে আমদানি রপ্তানি বা পন্য সামগ্রী ছাড় করণের উদ্দেশ্যে দেশে ১৭৬টি শুল্ক ষ্টেশনের তালিকা ঘোষনা করে তালিকার ৮৪নং ক্রমিক ছিল রামগড় স্থল শুল্ক ষ্টেশন। বাংলাদেশ ভারত দু’দেশের সরকার পর্যায়ের যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রামগড়-সাব্রুম মহকুমা স্থলবন্দর থেকে ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাথে সংযুক্ত বারৈয়ারহাট পর্যন্ত প্রায় ৩৪কিঃমিঃ দীর্ঘ সড়কটি চার লেনে রূপান্তরিত করার লক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।

সাব্রুম মহকুমা প্রশাসক সুভাষ সাহা সাংবাদিকেদের বলেছেন, ফেনী নদীর এই মৈত্রী সেতুর জন্য কেন্দ্রীয় সরকার সব করছে। এজন্য সাব্রুম-রামগড় দুই পাড়েই জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। এজন্য কাজও চলছে।

রামগড় উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোঃ ইকবাল হোসেন এর নিকট স্থলবন্দর বিযয়ে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান- ইতিমধ্যে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী রামগড়-সাব্রুম সীমান্তে অভিন্ন সীমান্ত নদী ফেনী নদীর উপর ভারতের অর্থায়নে দেশে প্রথম মৈত্রী সেতু নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষর করেন এবং পাকিস্তান আমল থেকে যেহেতু রামগড়ে এলসি স্টেশন দিয়ে প্রতি বছর বিপুল পরিমান ভোগ্যপন্য, ইট, সিমেন্ট, কসমেটিকস, তামাক, শুটকী মাছ, কাঠ, বাঁশ, মশলা এসব পন্য আমদানি-রপ্তানি হয়েছে সে আলোকে রামগড় বাসীর দাবী পুরনের লক্ষে স্থলবন্দর এর সাথে ল্যান্ড কাস্টমস কার্যত্রুম চালুর বিযয়ে মতপ্রকাশ করেন। এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও দুইদেশের আমদানি-রপ্তানিকারকরা পার্বত্য খাগড়াছড়ি রামগড়-ভারতের দক্ষিন ত্রিপুরার সাব্রুম মহকুমা শহর এর শুল্ক ষ্টেশনটি দ্রুত চালুর দাবি জানান।

এ ব্যাপারে জানাতে যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের মোবাইল ফোনে একাধিকার কল করেও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

রামগড়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ফেনী নদীতে মৈত্রী সেতু নির্মাণের জন্য দু’দেশের যৌথ পরিবেশ সার্ভে দলের সাথে আমিও ছিলাম। বাংলাদেশ ও ভারত সরকার এখানে সেতু নির্মাণের জন্য নীতিগত ঐক্যমত রয়েছে। তবে সব কাজ কবে ভারত সরকার। বাংলাদেশ সরকার পর্যাপ্ত সহায়তা দেবে। সম্ভবত এখন সেতুর দরপত্র আহবান করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

ত্রিপুরার সাব্রুম প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রতাপ বর্ণিক মান্না মুঠোফোনে বলেন, ভারত-বাংলাদেশের এ অঞ্চলের মানুষের মাঝে দীর্ঘ্য দিনের সু-সম্পর্ক রয়েছে, জলবায়ু ও সংষ্কৃতিরও মিলও রয়েছে। সেই সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কে উন্নয়নের জন্য ফেনী নদীতে এই মৈত্রী সেতু একটি মাইল ফলক হিসেবে কাজ করবে।

রামগড়ের প্রেসক্লাব সভাপতি নিজাম উদ্দিন লাভলু বলেন, পরিবেশ ও সংষ্কৃতির হুবহু মিল রয়েছে দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে। প্রতি বছর বারুনী ¯œানের দিন ফেনী নদীতে মানুষের বাঁধ ভাঙ্গা উচ্চাস দুই দেশের কোন প্রশাসন রোধ করতে পারেনা। এখানে মৈত্রী সেতু হলে এই উচ্চাস আইন সিদ্ধ মিলন মেলায় পরিনত হবে। ব্যবসা-বানিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন হবে।
###

#ছবি: ত্রিপুরা-রামগড় মৈত্রী সেতুর নকশা।
বামে রামগড় মহামুনি। মাঝ খানে ফেনী নদী। ডানে সাব্রুম মহকুমা। ভারতের পিডব্লিওডি সম্প্রতি আগরতলার একটি কমিউনিটি সেন্টারে সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরে।

মতামত...